News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

বিএনপির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম বিএনপির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের চারটিতে জয় পায় বিএনপি। নর্বাচনী ফলাফলে দলটির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক শক্তির প্রতিফলন ঘটলেও ভোটের মাঠের সেই সাফল্য ধরে রাখা এখন নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূলে বিভাজন, নেতাকর্মীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ, দলীয় শৃঙ্খলা এবং সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সব মিলিয়ে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি নারায়ণগঞ্জ বিএনপি।

নির্বাচনের পর এখন বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন দলের ভেতরের ঐক্য কতটা ধরে রাখা সম্ভব হবে। নির্বাচনের আগে মনোনয়ন, জোটের সমীকরণ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল, তার রেশ পুরোপুরি কাটেনি। বরং বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মসূচি ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ ও উত্তেজনার ঘটনাও সামনে আসছে।

এদিকে চাঁদাবাজি বা দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এসব ঘটনায় একদিকে দলের কঠোর অবস্থানের বার্তা যাচ্ছে, অন্যদিকে তৃণমূলে কারা থাকবে, কারা বাদ পড়বে এবং নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে এ নিয়ে নতুন হিসাব তৈরি হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের সময় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করার চেয়ে ক্ষমতার রাজনীতিতে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা অনেক কঠিন। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বড় সাফল্যের পর এখন বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর মধ্যে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে সংসদ সদস্য, জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃত্ব এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে এর প্রভাব তৃণমূলেও পড়তে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির আলাদা প্রস্তুতির খবরও সামনে এসেছে। এই নির্বাচন বিএনপির জন্য একই সঙ্গে সুযোগ ও পরীক্ষা। জাতীয় নির্বাচনের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠন শক্তিশালী করা সম্ভব হলে দলটি আরও সুসংহত অবস্থানে যেতে পারে। কিন্তু মনোনয়ন বা নেতৃত্বের প্রশ্নে অভ্যন্তরীণ বিরোধ তৈরি হলে জাতীয় নির্বাচনের সাফল্য স্থানীয় নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল নাও দিতে পারে।

আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপির জয় দেখিয়েছে, জেলার রাজনৈতিক মাঠ পুরোপুরি একক কোনো দলের জন্য নির্ধারিত নয়। পাশাপাশি জামায়াতের সাংগঠনিক তৎপরতাও বিএনপির জন্য ভবিষ্যতের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন মাত্রা তৈরি করতে পারে।

সব মিলিয়ে জাতীয় নির্বাচনের পর নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সামনে এখন আর শুধু প্রতিপক্ষকে মোকাবিলার প্রশ্ন নেই। দলের ভেতরের বিভাজন দূর করা, তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলার মধ্যে আনা, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং স্থানীয় নির্বাচনে যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করাই হতে পারে বিএনপির পরবর্তী বড় পরীক্ষা। রাজনীতির মাঠে দীর্ঘদিনের শক্ত অবস্থানকে সাংগঠনিক শক্তিতে রূপ দিতে পারলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি আরও শক্তিশালী হবে। আর অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে জাতীয় নির্বাচনের বড় জয়ও ভবিষ্যতে দলের জন্য প্রত্যাশিত রাজনৈতিক সুবিধা ধরে রাখার নিশ্চয়তা দেবে না।