News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

বাড়ছে ডেঙ্গু, বেড ছাড়িয়ে রোগী ফ্লোরে


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম বাড়ছে ডেঙ্গু, বেড ছাড়িয়ে রোগী ফ্লোরে

নারায়ণগঞ্জে ক্রমেই অবনতি হচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। গত ২৪ ঘন্টায় নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে ১১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৩০ জন রোগী। নির্ধারিত ওয়ার্ডের বেডে রোগীদের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় রোগীরা হাসপাতালের ফ্লোরে শুয়ে নিচ্ছেন সেবা।

হাসপাতালের চিকিৎসক ও ওয়ার্ডের নার্সদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি মাসের ৯ তারিখ পর্যন্ত ৬৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে। গতমাসে যার সংখ্যা ছিলো ১১৯ জন। এই মাসের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিনই ৮ থেকে ১০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ডাক্তার ও নার্সদের।

বুধবার নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা মেলে এমন অবর্ণনীয় দুর্ভোগের চিত্র। ওয়ার্ডের বাইরে ফ্লোরে শুয়ে থাকা রোগীদের মাথার উপর নেই ফ্যান। তীব্র গরমে রোগীদের স্বজনরা ফ্যান ও মাল্টিপ্লাগ কিনে এনে রোগীদের কিছুটা আরাম দেয়ার চেষ্টা করছেন। বিছানার চাদরগুলো ময়লায় পরিপূর্ন।

চিকিৎসা নিতে আসা অধিকাংশ রোগীই নারায়ণগঞ্জ শহরের বাসিন্দা। তারা বলছেন, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে। কোনভাবেই কমছে না জ্বর ও অন্যান্য লক্ষ্মন। কিন্তু উপসর্গ থাকলেও অনেক রোগীর প্যাথোলজি রিপোর্টে ধরা পড়ছে না ডেঙ্গু। ফলে বিভ্রান্তিতে রয়েছেন রোগী ও তার স্বজনরা।

এদিকে চিকিৎসা নিতে এসে হাসপাতালের পরিস্থিতি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক রোগীদের স্বজন। তারা অভিযোগ করে বলেন, এখানে পর্যাপ্ত সিট নেই। সিট কভারগুলো অত্যন্ত নোংরা। নিচে শুয়ে থাকা রোগীদের মাথার উপর নেই ফ্যান। তীব্র গরমে কষ্ট পাচ্ছে সবাই। রাতে জরুরি সেবা প্রয়োজন হলে পাওয়া যায় না ডাক্তার। অর্থ্যাৎ সেবা নিতে এসেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সবাইকে।

পর্যাপ্ত বেড না থাকা এবং ফ্যান জনিত সমস্যার কথা স্বীকার করেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) নাজমুল হোসেন বিপুল। তিনি বলেন, ‘যেই পরিমান রোগী আসছে সেটা আমাদের প্রত্যাশিত ছিলো। এই সময়টাতে ডেঙ্গু রোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। আমাদের সীমিত সরঞ্জামের মধ্যেই সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার কাজ করছি। এখানে কিট, স্যালাইন ও ওষুধের কোন সংকট নেই। বেডের কিছু সংকট আছে। আর ফ্যানের জন্য আমরা অর্ডার দিয়েছি। দ্রুতই এই সমস্যা নিরসন করা হবে। রাতে চিকিৎসক থাকার বিষয়ে আমরা আজকেই সিদ্ধান্ত নিব। রোস্টার করে ডাক্তার যেন রাতে দায়িত্বে থাকে সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।