News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

সমালোচনায় বিএনপি কর্মসূচিতে সরব জামায়াত


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ১০:০৪ পিএম সমালোচনায় বিএনপি কর্মসূচিতে সরব জামায়াত

নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গণে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নেতাকর্মীরা একের পর এক ঘটনায় সমালোচিত হচ্ছেন। আর তাদের বিপরীতে বর্তমান প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা কোনো রকম সমালোচনা ছাড়াই একের পর এক কর্মসূচিতে সরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। একই সাথে সামাজিক কর্মকা-েও নিজেদেরকে আলোচনায় রাখছেন। যা তাদের সাংগঠনিক শক্তিকে দিন দিন বৃদ্ধি করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মহলে তাদের গ্রহণযোগ্যতাকে বাড়িয়ে তুলছে।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া হকার্স মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় শুভ দাস (৩২) নামে এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে হকার্স মার্কেটের পেছনের গলি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। আর এই হত্যাকা-ের ঘটনায় শহরের আমলাপাড়া এলাকার অনিকের নাম উঠে আসছে। আর এই অনিকের সাথে বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের সখ্যতা রয়েছে। বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের পাশে বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে থাকেন। যা নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ সমালোচনা সৃষ্টি করেছে।

তাদের বিপরীতে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা কোনো রকম বাধা প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ করার সুযোগ পেয়ে সাংগঠনিকভাবে নিজেদের গোছাতে শুরু করেছেন। তারা সুযোগটাকে বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগাচ্ছেন। প্রায় প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো কর্মসূচি কিংবা সাংগঠনিক কার্যক্রমে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকাকালিন সময়ে জামায়াতে ইসলামের নেতাকর্মীরা অনেক নির্যাতন নীপিড়নের শিকার হয়েছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের চেয়ে তারাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয়েছেন। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পঙ্গুত্ববরণ সহ নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মামলা হামলা তো বলারই অপেক্ষা থাকে না। পুলিশি রিমান্ডে গিয়ে সীমাহীন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

এরই মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে। আর এই সরকার পতনের মধ্য দিয়ে সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জামায়াত ইসলামের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্য আসেন। সেই সাথে তারা বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে জনগণের দৌড়গোড়ায় পৌঁছাতে থাকেন।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জের নিহত ও আহতদের বাসায় বাসায় গিয়ে হাজির হতে থাকেন নারায়গঞ্জ জামায়াত ইসলামের নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন বাসায় বাসায় গিয়ে তারা নিরবেই আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন। কারও কারও বেলায় সকল দায়িত্ব নেন জামায়াত ইসলাম। বিভিন্ন মেডিকেল সেবা নিয়েও তারা জনগণের দৌড়গোড়ায় যাচ্ছেন।

সবশেষ গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন সহ ৬ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লং কর্মসূচি পালন করেছে দেশের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় ঐক্য। একই সাথে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চিটাগাং রোড এলাকার ট্রাক স্ট্যান্ডে পথসভা করেছেন তারা। সেই সাথে এই পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রেখেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমী ও জাতীয় সংসদ সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

আর এই লং মার্চ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই নারায়ণগঞ্জে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা তাদের জানান দিয়ে আসছেন। তারা একের পর এক কর্মসূচি পালন করেছেন। বিভিন্ন জায়গায় সভা সমাবেশ থেকে শুরু করে নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। একই সাথে বিভিন্ন দপ্তরে সহযোগিতা চেয়ে নিজেদের জানান দিয়েছেন। সবশেষ তারা বেশ সফলতার সাথেই বিপুল পরিমাণ নেতাকর্মীদের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে পথসভা করেছেন।

এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে মাসব্যাপী কর্মসূচি পালন করেছেন।  

তার আগে দীর্ঘ প্রায় কয়েক দশক পর নারায়ণগঞ্জে খোলা মাঠে কর্মী সম্মেলন করেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামী। গত ১৯ জুন সকালে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি। একই সাথে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি শহরের ইসদাইর ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে জনসভা করেছিলেন। এসকল কোনো পোগ্রামেই কোনো বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীরা নানা কর্মকা-েই বিতর্কিত হয়ে পড়ছেন। মূলদল থেকে শুরু করে তাদের অঙ্গ সহযোগি সংগঠনে কোথাও যেন কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তারা চাঁদাবাজি ও মারামারির একের পর এক ঘটনায় ইমেজ সংকটে ফেলে দিচ্ছে বিএনপিকে। নেতাকর্মীদের নানা বিতর্কিত ঘটনায় বিএনপির ক্ষমতা গ্রহণের চার মাসের মধ্যেই বিএনপিকে জনগণের কাছে নেতিবাচক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে তুলছে। তারা নিজেরাই নিজেদের দলকে ইমেজ সংকটের দিকে ধাবিত করে তুলছেন।

বিএনপির নেতাকর্মীরাই যেন বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভাব হয়েছেন। প্রতিনিয়তই নারায়ণগঞ্জের কোনো না কোনো এলাকায় কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বীতার খবর পাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা নির্দেশনা দিয়েছেন একরকম কিন্তু অধস্তন নেতাকর্মীরা করছেন আরেকরকম।

এরই মধ্যে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। আর এই ক্ষমতায় আসার পর নারায়ণগঞ্জ বিএনপি সহ তাদের অঙ্গ সহযোগি সংগঠনগুলো আরও বেশি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছেন। কেউ কাউকেই মানতেই চাচ্ছেন না। যেন বিএনপির ও তাদের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনে সকলেই নেতা। আর তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না শীর্ষ পদধারী সিনিয়র নেতারা। যা দিন দিন বিএনপিকে বিতর্কিত করে তুলছে। বিএনপিকে সাধারণ মানুষের মাঝে সমালোচনার পাত্র হিসেবে পরিণত করছে।