News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

ক্ষমতাসীনদের প্রতিপক্ষ বিএনপি!


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ৭, ২০২৬, ১০:০৯ পিএম ক্ষমতাসীনদের প্রতিপক্ষ বিএনপি!

রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন দলের প্রতিপক্ষ হিসেবে বিরোধী দল থাকলেও নারায়ণগঞ্জে ব্যতিক্রম। এই জেলায় জামায়াতের অবস্থান নিষ্ক্রিয়। আর এনসিপির এমপি থাকতেও নেই কঠোর বিরোধীতা। উল্টো নিজেরাই নিজেদের বিরোধী রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। এমনকি নিজ দলের প্রশাসককে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দিয়েছেন আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক। 

মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে এমনই দৃশ্যের অবতারণা ঘটেছে। আওয়ামী লীগ আমলে আওয়ামী পন্থি আইনজীবীদের মধ্যে মৌন বিরোধ থাকলেও তাদের হাতাহাতি করতে দেখা যায়নি। উল্টো তারা বিএনপি এবং জামায়াতকে রাখতেন চাপের মুখে। কিন্তু এবার খোদ বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি করেছেন। এতেই শান্ত হননি, হাতাহাতি শেষে নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খানকে আখ্যা দিয়েছেন ফ্যাসিস্ট। তার সাথে থাকা দেহরক্ষী পুলিশ সদস্যের চামড়া তুলে নেয়ারও হুমকি দিয়েছেন। 

তবে বিএনপির অভ্যন্তরিণ এমন বিরোধ এবারই প্রথম নয়। এর আগেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা এবং বিরোধীতা করেছেন। নারায়ণগঞ্জ ২ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম আজাদ প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন বিএনপির সহ অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন। তাকে সাবেক এমপি বাবুর ঘনিষ্টজন হিসেবেও আখ্যা দেন তিনি। 

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিএনপির দুই গ্রæপের মধ্যে সংঘাত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে একাধিক। বিশেষত ঝুঁট ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটিয়েছেন তারা। ফতুল্লা অঞ্চলে থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ চৌধুরীর সাথে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি গ্রুপের বিরোধ বেশ প্রকাশ্য। উভয়েই উভয়কে চাপে রাখছেন নানানভাবে। 

তবে সবচেয়ে বেশি বিরোধ দেখা মেলে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিতে। সিদ্ধিরগঞ্জে এমপি মানান্ন বলয়, জেলা বিএনপির আহবায়ক মামুন মাহমুদ বলয় সাবেক এমপি গিয়াস বলয় সহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষকদল নেতাদের পৃথক পৃথক বলয়ের কারনে সংঘাত সহিংতার ঘটনা ঘটেছে একাধিক। সবশেষ কৃষকদল নেতা ফয়সাল বহিস্কার ও গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রতিপক্ষ বিএনপির নেতারা তাকে আওয়ামী পন্থী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। অথচ তিনি যতদিন দলে ছিলেন তাকে নিয়ে কোন শব্দই করেননি বিএনপি নেতারা। 

শহরে এমপি আবুল কালাম, প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান, বিদ্রোহী গ্রুপের নেতা সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান মাসুদ বলয় একে অপরের বিরুদ্ধেই তাদের রাজনীতি জারি রেখেছেন। প্রতিপক্ষ হিসেবে বিরোধী দলের বদলে নিজেরাই নিজেদের প্রতিপক্ষ বানিয়ে রেখেছেন। প্রতিযোগীতার লড়াই পরিণত হয়েছে ষড়যন্ত্রে। ফলে নেতাকর্মীরা নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত থাকছেন দিনরাত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের এমন হযবরল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিলো তাদের ক্ষমতার শেষদিকে। তখন কেউ কাউকে মানতো না এবং প্রতিটি সেক্টরে অরাজকতা দেখা দিয়েছিলো। সবকিছু একচ্ছত্রভাবে নিয়ন্ত্রণের প্রবণতার কারণে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়ছিলেন। এমন অবস্থায় তৃণমূলে হতাশা এবং ঐক্যে ফাটল দেখা দেয়ায় ভেঙ্গে পড়ে তাদের রাজনৈতিক ঐক্য। 

আর একই অবস্থা বিএনপিতে দেখা দিয়েছে মাত্র ছয় মাসে। যেখানে কেউ কাউকে দেখতে পারছেন না। কেউ কাউকে মানতে নারাজ। অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে হোসিয়ারি সমিতি, আইনজীবী সমিতির মত স্বাধীন সংগঠনে। বিরোধী দল প্রতিরোধের বদলে নিজেরাই নিজেদের দুর্বল করে তুলছেন। নিজেদের প্রশাসককে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দিতে শুরু করেছেন। যা পুরো দলের জন্যেই বিপদজনক পরিস্থিতির মুখোমুখী দাঁড় করাচ্ছে।