জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সম্ভাব্য নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গণে তোড়জোর শুরু হয়েছিলো। বিএনপি নেতাদের মধ্যে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা, সামাজিক কর্মকাণ্ড শুরু করতেও দেখা যায়। নানান কর্মসূচিতে সরগরম হয়ে উঠেছিল নাসিকের বিভিন্ন ওয়ার্ড। তবে নাসিক প্রশাসক নিয়োগ দেয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে স্থিমিত হয়েছে সেই তোড়জোর। সহসাই নির্বাচন হচ্ছে না এমন বার্তা পেয়ে যাওয়ায় বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরাও এখন পুরোপুরি নীরব।
দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই নাসিকের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগ্রহ প্রকাশ করতে শুরু করেন বিএনপির একাধিক নেতা। কেউ সরাসরি বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড অংশ নিয়ে নিজের অবস্থান জানান দেন। আবার কেউ অনুসারীদের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং নগরীর বিভিন্ন স্থানে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন টানিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেন।
এছাড়া রমজান, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে ঘিরে এই প্রার্থীদের দেখা যায় সামাজিক কর্মকান্ড চালিয়ে যেতে। সেই সাথে আগ্রহী মেয়র প্রার্থীদের শুভেচ্ছা জানানো ব্যানার ফেস্টুনে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছেয়ে যায়। এসব কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রচারণার অংশ এবং নেতাকর্মীদের একত্রিত রাখা। তবে এখন আর নাসিক নির্বাচনে আগ্রহী প্রার্থীদের ব্যস্ততা নেই।
দলীয় সূত্র বলছে, নাসিক নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন বা দলীয় সমর্থন পাওয়ার প্রত্যাশায় রয়েছেন অন্তত এক ডজন নেতা। তাদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও বর্তমান নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউসার আশা ও আতাউর রহমান মুকুল। এছাড়া বিসিবি পরিচালক ও ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান মাসুদ এবং ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নামও আলোচনায় রয়েছে।
দলের কর্মীরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের পর নাসিক নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছিল। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাদের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু নির্বাচন দ্রুত হচ্ছে না এমন ইঙ্গিত পাওয়ার পর সেই তৎপরতায় অনেকটাই স্থবিরতা নেমে এসেছে। ফলে কর্মীদের কদরও কমেছে নেতাদের কাছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির পরিবর্তে প্রশাসক দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে খুব দ্রুত সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসবে এমন সম্ভাবনা কম। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে হতে পারে নির্বাচন এমন গুঞ্জন রয়েছে।অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের দাবি জানিয়ে আসছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ থাকলেও বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের অতিরিক্ত প্রচার প্রচারণা থেকে বিরত থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। কারন সরকার দলীয় নেতারা এখন নির্বাচনী তৎপরতা চালালে রাজনৈতিকভাবে অন্য পক্ষই লাভবান হতে পারে।
মহানগর বিএনপির শীর্ষ এক নেতা বলেন, “আগামী বছরের আগে নাসিক নির্বাচন হওয়ার সুযোগ নেই। তাছাড়া আগামী বছরের শুরুতে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভাসহ অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরপরে অনুষ্ঠিত হবে সিটি নির্বাচনগুলো। তাই এখনই প্রচার প্রচারণা চালিয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় করার বদলে নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন প্রার্থীরা।


































আপনার মতামত লিখুন :