News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

নারায়ণগঞ্জেও বসছে এআই ক্যামেরা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ১০:২৪ পিএম নারায়ণগঞ্জেও বসছে এআই ক্যামেরা

রাজধানী ঢাকার পর এবার নারায়ণগঞ্জের সড়কেও যুক্ত হতে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি অর্থবছরেই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড এবং শহরে প্রধান সড়ড়কে বসানো হবে এআই ক্যামেরা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শুধু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাই নয়, সড়ক নিরাপত্তা, যানজট নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে যানজট, বেপরোয়া যান চলাচল, দুর্ঘটনা, ছিনতাই, চুরি এবং সড়কবাতি নষ্ট হয়ে অন্ধকারে ডুবে থাকার মতো সমস্যায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ। অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির অভাবে এসব সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। এবার সেই চিত্র পাল্টানোর লক্ষ্যেই এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবির সময়ের নারায়ণগঞ্জকে জানান, রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়কে ইতোমধ্যে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং সেখানে এর ইতিবাচক ফলও মিলছে। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পুরো নগরীর যান চলাচল পর্যবেক্ষণ করা সহজ হয়েছে। সেই সফলতার ধারাবাহিকতায় এবার নারায়ণগঞ্জেও একই প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী প্রকল্পটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি অর্থবছরেই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড এবং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এআই ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হবে। এই ক্যামেরাগুলো যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণে সক্ষম হবে। ফলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজও অনেক সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, এআই ক্যামেরা চালু হলে লিংক রোডের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমে আসবে। একই সঙ্গে যেসব এলাকায় ছিনতাই, চুরি ও অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, সেখানেও অপরাধীরা সহজে শনাক্ত হবে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ বাড়বে। যদি চলতি বছরেই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মানুষের যে উদ্বেগ রয়েছে, তার অনেকটাই হ্রাস পাবে।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, লিংক রোডের যেসব স্থানে বারবার বৈদ্যুতিক তার চুরি হওয়ার কারণে সড়কবাতি সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না, সেসব এলাকায় খুব দ্রুত ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এ প্রকল্পের জন্য ইতোমধ্যে বাজেট অনুমোদন হয়েছে। এছাড়া লিংক রোডের অন্যান্য অংশে নতুন করে সড়কবাতি স্থাপন করা হয়েছে। পরবর্তীতে যখন এআই ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হবে, তখন বর্তমানে ব্যবহৃত সিসি ক্যামেরাগুলো খুলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পাড়া-মহল্লার সড়কে স্থাপন করা হবে, যাতে পুরো শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা যায়।

উল্লেখ্য, যান চলাচল সহজ করতে কয়েক বছর আগে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডকে ছয় লেনে উন্নীত করা হয়। শত কোটি টাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রায় ১৬ কোটি টাকার স্ট্রিট লাইট প্রকল্প এবং ৭৪৮টি সড়কবাতি স্থাপন করা হলেও বাস্তবে প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন অন্ধকারে ডুবে ছিল। ফলে দুর্ঘটনা, ছিনতাই, চুরি, মাদক ব্যবসা এবং জননিরাপত্তাহীনতা এই সড়কের নিত্যদিনের বাস্তবতায় পরিণত হয়।

সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, আদালত, প্রশাসনিক কার্যালয় এবং শিল্পাঞ্চলঘেরা এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। এত বড় বিনিয়োগের পরও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ সেই দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগের অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত লিংক রোডটি জেলা শহরকে রাজধানী ঢাকা, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ফলে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিগত গাড়ি, গণপরিবহন, পণ্যবাহী যান এবং শিল্পকারখানার পরিবহন এই সড়ক ব্যবহার করে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, লিংক রোডের দুই পাশে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা পরিষদ, রেজিস্ট্রি অফিস, আদালতপাড়া, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, বিআরটিএ, পাসপোর্ট অফিস, জেলা কারাগার, এলজিইডি, গণপূর্ত বিভাগসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পাশাপাশি আশপাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিল্পকারখানা, বেসরকারি হাসপাতাল, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এবং বড় বড় আবাসন প্রকল্প। এছাড়া রপ্তানিমুখী গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় প্রতিনিয়ত যানবাহনের চাপ বাড়ছে। ফলে এই সড়কটি জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কবাতির মূল বৈদ্যুতিক তার বারবার চুরি হয়ে যাওয়ায় আলো ব্যবস্থা প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ে। এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে বারবার তার চুরি করছে। নতুন করে তার প্রতিস্থাপন করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার তা উধাও হয়ে যায়। ফলে সংস্কার কার্যক্রম চললেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছিল না।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এআই ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরার সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা চালু হলে শুধু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাই আধুনিক হবে না, বরং অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার পর প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার নতুন যুগে প্রবেশ করবে নারায়ণগঞ্জ।