বর্তমান বিশ্বে এন্টিবায়োটিক রেসিসট্যান্স একটি নীরব মহামারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশ্বে প্রতি বছর এন্টিবায়োটিক রেসিসট্যান্স এর কারণে প্রায় ৭ লক্ষ লোক মারা যায়। ব্যাকটেরিয়ার অ্যান্টিবায়োটিক সংবেদনশীলতার মাত্রা সময় এবং ভৌগোলিক এলাকাভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। 'ইনফেকশাস ডিজিজ সোসাইটি অফ আমেরিকা' সুপারিশ করে যে, নির্দিষ্ট সংক্রমনের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্স বাড়ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করার জন্য নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়মিতভাবে স্থানীয়ভাবে গবেষণা পরিচালনা করা উচিত।
সেই দায়বদ্ধতা থেকে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় প্রসাব সংক্রমনের প্রাদুর্ভাব, এর কারণসমূহ এবং ইউরোপ্যাথোজেনগুলোর অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকারিতার মাত্রা পর্যালোচনার লক্ষ্যে একটি গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছে, যা স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি জাতীয় জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণাকালীন সময়ে (জুলাই-ডিসেম্বর, ২০২৫) এস আলম ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ল্যাবরেটরি থেকে মোট ২৮১টি প্রস্রাব কালচার রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়েছিল।
সামগ্রিকভাবে, ১৩৭টি নমুনায় (৪৮.৭৫%) অণুজীবের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। নারীদের ক্ষেত্রে অণুজীবের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার হার ছিল ৬৯.৬০%, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ২৫.৫৫%। এছাড়া, বয়স্কদের ক্ষেত্রে অণুজীবের উপস্থিতি শনাক্তের হার ছিল ৬৭.৮৮%, শিশুদের ক্ষেত্রে ১৬.৭৯% এবং প্রবীণদের ক্ষেত্রে ১৫.৩৩%। গ্রাম-নেগেটিভ অণুজীবগুলোর মধ্যে ই. কোলাই জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে ৭৮.৮৩% ক্ষেত্রে; এরপর রয়েছে ক্লেবসিয়েলা ১২.৪১% এবং সিউডোমোনাস ২.১৯%। গ্রাম-পজিটিভ অণুজীবগুলোর মধ্যে স্টেফাইলোকক্কাস অরিয়াস এর হার ছিল ৩.৬৫% এবং এন্টেরোকক্কাস এর হার ছিল ২.৯২%।
প্রস্রাব সংক্রমনে প্রথম সারির চিকিৎসা হিসেবে অনুমোদিত এন্টিবায়োটিক নাইট্রোফুরান্টোয়িনের কার্যকারিতা আশা ব্যঞ্জক (৮২.৮১%) থাকলেও কোট্রাইমক্সাজলের ক্ষেত্রে উচ্চ রেসিস্ট্যান্স (৯২.৮%) পাওয়া গেছে। এছাড়া, অন্য যেসব এন্টিবায়োটিক উচ্চ রেসিস্ট্যান্স দেখিয়েছে তাদের মধ্যে সেফুরোক্সিম (৮০.৮৩%), এমক্সিক্ল্যাভ (৮৭.৭০%), এবং ডক্সিসাইক্লিন (৮৫.৮৫%) অন্যতম।
সময়োপযোগী এ গবেষণাটির নেতৃত্বে ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ওষুধ বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ও সিদ্ধিরগঞ্জ ডক্টর ইউনিটির সদস্য প্রভাষক ডাঃ মোঃ দেলোয়ার হোসেন। গবেষণার ফলাফলগুলো থেকে বলা যায়, অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ও অপব্যবহার রোধ করতে এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা ধীর করতে জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহন করা প্রয়োজন। প্রতিটি হাসপাতালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রণীত 'অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপ' কর্মসূচি চালু করা এবং জেলার ফার্মেসীগুলিতে ভ্রাম্যমাণ ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে নিয়মিত প্রশাসনিক নজরদারি বাড়াতে হবে। এছাড়া, মূত্রনালীর সংক্রমণ প্রতিরোধের লক্ষ্যে জনস্বাস্থ্য-বিষয়ক উদ্যোগ যেমন—ওয়াশ (WASH: পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি) এবং পর্যাপ্ত পানি পান বা হাইড্রেশন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
পুরো গবেষণাটির লিংক পেতে ক্লিক করুনঃ http://bamc.addinmedical.org/wp-content/uploads/2026/07/ADMJ-42-July-2026_P2_P9-16.pdf
ডা. মো দেলোয়ার হোসেন
প্রভাষক, ফার্মাকোলজি
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হসপিটাল








































আপনার মতামত লিখুন :