নারায়ণগঞ্জে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের আপত্তি সত্ত্বেও জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার স্থাপনের প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিনকে স্মারকলিপি প্রদান করেছে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরাম।
দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিবি রোডস্থ নিউ সমবায় ভবনে অবস্থিত এনসিপি জেলা কার্যালয়ে এমপি অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিনের হাতে স্মারকলিপি প্রদান করেন নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামের নেতৃবৃন্দ।
উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামের আহবায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল, বীর মুক্তিযোদ্ধা রমজানুল রশিদ, জাহাঙ্গীর আলম জাগু, শ্রমিক নেতা মাহমুদুর রহমান, গভীর নলকূপ ব্যবহারকারী মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, বাগে জান্নাত পঞ্চায়েত পরিষদের সহ সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম, সমাজকল্যাণ ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান ডিউক, দফতর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সোহাগ সহ বিভিন্ন পঞ্চায়েত, মসজিদ কমিটি ও সমাজ উন্নয়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ।
সৌজন্য সাক্ষাতকালে নেতৃবৃন্দ বলেন, ডিপিডিসি কৃর্তক কোনো প্রকার আগাম নোটিশ, ন্যূনতম জনমত বা গণশুনানি ছাড়াই গ্রাহকদের ওপর জোরপূর্বক, একতরফাভাবে এই প্রিপেইড মিটার চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রিপেইড মিটারের রিচার্জ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ এবং শুভঙ্করের ফাঁকি। প্রতি মাসের প্রথম রিচার্জেই ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া এবং ভ্যাটের নামে বিপুল অঙ্কের টাকা অন্যায়ভাবে কেটে নেওয়া হচ্ছে। এটি সাধারণ মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর ডিপিডিসির প্রকাশ্য ও জোরজুলুমমূলক নীতি। এছাড়াও প্রতিবার রিচার্জে ২০ থেকে ২০০ ডিজিট দিয়ে কার্ড রিচার্জ করতে হয় যা কিনা বেশীরভাগ মানুষের পক্ষে অসম্ভব। যেসব এলাকায় ইতোমধ্যে প্রিপেইড মিটার লাগানো হয়েছে সেখানে কোনো প্রকার আগাম সংকেত বা মানবিক বিবেচনা ছাড়াই ব্যালেন্স শেষ হওয়ামাত্রই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে। গভীর রাতে, বিশেষ করে ঘরে মুমূর্ষু রোগী, নবজাতক শিশু কিংবা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রাক্কালে এই আকস্মিক ও নিষ্ঠুর বিদ্যুৎহীনতা জনজীবনকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে, যা চরম অমানবিক। ডিপিডিসি-র অনলাইন রিচার্জ সিস্টেম ও ডিজিটাল অবকাঠামো চরমভাবে ত্রুটিপূর্ণ। প্রায়শই সার্ভার অচল থাকার কারণে টাকা পরিশোধ করেও গ্রাহকরা ব্যালেন্স পাচ্ছেন না। এছাড়া কার্ড পাঞ্চের জটিলতা ও মিটার লক হয়ে যাওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ অফিসের কোনো তাৎক্ষণিক রেসপন্স বা কারিগরি সহায়তা পাওয়া যায় না, যা সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ব্যর্থতা। মিটারে প্রদত্ত ইমার্জেন্সি ব্যালেন্সের পরিমাণ এতটাই নামমাত্র ও নগণ্য যে, তা সংকটের মুহূর্তে গ্রাহকের কোনো কাজেই আসে না। এটি বিপদে পড়া গ্রাহকদের সাথে এক ধরণের নির্মম তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বিদ্যুৎ কোনো দয়া, অনুদান বা উপহার নয়; এটি জনগণের করের টাকায় সচল থাকা একটি মৌলিক অধিকার। গ্রাহকদের মতামতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, তাদের পুতুল ভেবে এমন একটি গণবিরোধী ও ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থা জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়ার দুঃসাহস মৌলিক অধিকারের চরম পরিপন্থী। এটি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার চুরির প্রজেক্ট যা এখনো জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে।
এসময় এমপি এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, আপনাদের দাবিগুলোর বিষয়ে জানলাম। এসব বিষয় নিয়ে জাতীয় সংসদ, জ্বালানী মন্ত্রনালয়সহ যেসব জায়গায় কথা বলার সুযোগ রয়েছে তিনি এ বিষয়টি উত্থাপন করবেন বলে জানান।







































আপনার মতামত লিখুন :