News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩

লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিল আত্মসাৎকারী ও হামলায় যুক্তদের বিচার দাবি


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিল আত্মসাৎকারী ও হামলায় যুক্তদের বিচার দাবি

নারায়ণগঞ্জ নাগরিক আন্দোলনের আহবায়ক রফিউর রাব্বি প্রেরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে জানাচ্ছি যে, নারায়ণগঞ্জে কতিপয় ভূমিদস্যু বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবার ও তাদের সগযোগিতায় সিন্ডিকেট তৈরি করে একটি গোষ্ঠী এই লুটপাট চালিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নীট কনসার্ন গ্রুপ। তারা আওয়ামী লীগের শাসনামলে ওসমান পরিবার ও তৎকালিন অসৎ সরকারী কর্মকর্তাদের সাথে আতাত করে লক্ষীনারায়ণ কটন মিলের সাতশ কোটি টাকা মূল্যের ১৮.৬৫ একর ভূমি মাত্র ৩৫ কোটি টাকায় আত্মসাৎ করে।  

২০০১ সালে মিলে কর্মরত ৫১০ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে শেয়রহোল্ডার বানিয়ে সরকার মিলটি পরিচালনার উদ্যোগ নেয়। ২০১২ সাল পর্যন্ত মিলটি বছরে ৫০ লক্ষ টাকা করে আয় করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নীট কনসার্ন গ্রুপের জয়নাল আবেদীন মোল্লা ও তার ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন মোল্লা মিলের নিরীহ শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বল্প মূল্যে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ৫৩ জন শেয়ারহোল্ডার ছাড়া সবার শেয়ারই কিনে নেয়। শেয়ার হস্তান্তরে সরকারের অনুমতি নেয়ার বাধ্যবাদকতা থাকলেও তা নেয়া হয় নাই। বিক্রি না করা শোয়ারহোল্ডাররা আন্দোলনের পথ বেছে নেয়।

ফলে ৫৩ জনের উপর চালানো হয় নিপীড়ন-নির্যাতন। নীট কনসার্ন গ্রুপ বিভিন্ন সময় মিলের অভ্যন্তরে বসবাসরত তাদের কলোনীর বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস বিচ্ছিন্ন করে, হামলা নির্যাতনের ঘটনা ঘটতে থাকে, দীর্ঘদিনের পুরোনো মন্দির ভেঙ্গে ফেলা হয়। আওয়ামী শাসনামলে ওসমান পরিবারকে টাকা দিয়ে ৫৩ জন নিরীহ শেয়ারহোল্ডারদের উপর নির্যাতন চালিয়েছে নীট কনসার্ন গ্রুপ।

ওসমান পরিবার পালিয়ে গেলে এখন বিএনপির কতিপয় নেতাদের টাকা দিয়ে হাত করে নিপীড়নের ধারা অব্যাহত রেখেছে। প্রচার রয়েছে শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলে এই জয়নাল আবেদীন মোল্লা ও তার ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন মোল্লা ওসমান পরিবারের কতিপয় খুনীকে আশ্রয় দিয়ে রক্ষা করেছে, পালাতে সহায়তা করেছে। কিন্তু পরিবর্তীত সময়ে তারা বিএনপি নেতাদের টাকা দিয়ে লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহার করছে।

এখানে উল্লেখ্য যে, ২০১৫ সালে হাই কোর্টের একটি আদেশ বলে এই মিলটির চেয়ারম্যান নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে এই মিলটি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কোন ভূমিকা নেই। গত মঙ্গলবার নিরাপত্তর শঙ্কায় ৫৩ জন শোয়রহোল্ডার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়; কিন্তু ঐ রাতেই মিলের কলোনীতে জয়নাল-জাহাঙ্গীর বাহিনীর লাঠিয়ালরা সশস্ত্র হামলা চালিয়ে নারীসহ কয়েকজনকে জখম করে। আহত ও আন্দোলনকারীদের ভাস্য অনুযায়ী বিএনপির শফিকুল ইসলাম, হারুন ও তার ছেলে রিফাত, শাহাবুদ্দিন, হেলা ও হেলার ছেলে নিজাম, সেকান্দার, আলাউদ্দিন, রিফাতসহ অনেকে হামলার সময় উপস্থিত ছিল। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, মিলটি নিয়ে একাধিক মামলা চলমান থাকলেও পুলিশ ও প্রশাসনের রহস্যজনক নিরবতা।

আমরা গত মঙ্গলবার হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি, পাশাপাশি ভূমিদস্যু নীট কনসার্ন গ্রুপের জয়নাল আবেদীন মোল্লা ও তার ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে দুদকসহ সরকারের যথাযথ সংস্থার তদন্ত দাবি করছি। আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই ফ্যাসিবাদী সরকারের লুটপাটের ধারা অব্যহত রাখার জন্য জুলাই অভ্যুত্থানে সহস্র ছাত্রজনতা রক্ত দেয় নাই। আমরা চাই সরকার সকল লুটপাটকারী, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে; সে দলের হোক বা বাইরের হোক।