নারায়ণগঞ্জে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নতুন কিছু নয়। প্রতিনিয়ত আইন শৃঙ্খলার অবনতি, সংঘাত, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা ও আসামী গ্রেপ্তারে উদাসীনতা নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এমপিরা একাধিকবার এনিয়ে মুখ খুলেছেন এবং আচরনে স্পষ্ট করেছেন তারা সন্তুষ্ট নন। এবার সেই ক্ষোভে গোপালগঞ্জের পুলিশ কর্মকর্তাদের উপর রাগ ঝাড়লেন নারায়ণগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান।
রোববার আইন শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে পুলিশের নিষ্ক্রিয় আচরণের পেছনে গোপালগঞ্জে বাড়ি এমন পুলিশ কর্মকর্তাদের দায়ী করেন এমপি মান্নান। তার ভাষায়, এই পুলিশরা বর্তমান সরকারকে সহযোগিতা করছে না। উল্টো তাদের অসহযোগীতার কারণে জেলার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। মূলত তার এই বক্তব্যে গোপালগঞ্জকে ইঙ্গিত করলেও নেপথ্যে পুরো জেলা পুলিশকেই দায়ী করেন তাদের কর্মকান্ডের জন্য।
মান্নান বলেন, ‘‘একটা কথা বলতে গেলে এসপি সাহেবের ওপর পড়ে, তবুও আমি বলি। আজকে ঢাকায় গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও বলব এই কথাটা। ৫ আগস্টের আগে পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলা গোপালি (গোপালগঞ্জ জেলার বাসিন্দা) দিয়ে ভরে গিয়েছিল প্রশাসন। এখনো আবার ঘুরেফিরে সেই গোপালি দিয়া ভইরা গেছে। আইনশৃঙ্খলা কেমনে সুন্দর হবে? গোপালিরা কি আমাদের ভালো চাইবে? ভালো চাইবে না,'
তবে এমপিদের নাখোশ হওয়া এবারই প্রথম নয়। এর আগে, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করতে এসে আইন শৃঙ্খলা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের এমপি আবুল কালাম। এসময় সাংবাদিকরা তার কাছে শহরের আইন শৃঙ্খলা অবনতি ও হকার সমস্যা নিয়ে সমাধান চাওয়া হলে তিনি জানান এই সমস্যা গুলোর সমাধান তিনিও চাচ্ছেন। কিন্তু প্রশাসন সেভাবে সমাধান করতে পারছে না। এজন্য প্রয়োজন কিছুটা সময়। তিনি সবাইকে ধৈর্য্য ধারণ করার পরামর্শ দেন। ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেন, বর্তমান সরকারকে আরেকটু সময় দিতে হবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর জন্য।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন ফতুল্লা থানার সামনে বিলবোর্ড টানিয়ে দেন। থানায় কেউ টাকা দাবী করলে তাকে যেন ফোন করে অবগত করা হয়। এরপর উপজেলার বৈঠকেও তিনি বলেন, তার কাছে অনেকেই ফোন করে বলে অমুক পুলিশ সদস্য টাকা চেয়েছে। তিনি প্রকাশ্যে সেই নাম না বললেও এই বিষয়গুলো দেখার জন্য থানার ওসিকে দায়িত্ব নিতে বলেন।
একের পর এক ঘটনা স্পষ্ট করেছে পুলিশ নিয়ে বেশীরভাগ সংসদ সদস্যই সন্তুষ্ট নন। তারা চান, পুলিশ আরও সক্রিয় হয়ে উঠুক এবং আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভুমিকা রাখুক। পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সাথে পরামর্শ করে পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। যেসব অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এবং সরকারের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে সেই কাজ বন্ধে পুলিশ কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করুক।

































আপনার মতামত লিখুন :