News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩

সিফাত বাহিনীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ১০:২৫ পিএম সিফাত বাহিনীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় আতঙ্কের অপর নাম ছিলো সিফাত বাহিনী। এক সময় আওয়ামীলীগের নেতাদের আশ্রয়ে থাকা এখন বিএনপি আমলেও তৎপর ছিলো এই বাহিনীটি। চব্বিশের ৫ আগস্টে পর আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে সিফাত বাহিনী প্রধান শেখ সিফাত।

সিটি কর্পোরেশনের ২১, ২২, ২৩ ও পুরান বন্দর সহ আশেপাশে এলাকায় প্রতিনিয়ত তছনছে মেতে উঠতো। রাত ৮টা পর কেউ বাসা বাহিরে থাকতে ভয় পেত এলাকাবাসী। এমনকি নতুন বা পরিত্যক্ত বাড়ি ছিলো সিফাত বাহিনী আশ্রয় স্থল। নারী পুরুষ ও বিশেষ শ্রেণী নজরে থাকা শেখ সিফাত পুরো বন্দরকে তৎপর ছিলো।

বন্দরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা জাহিদ আল আমিন বুলবুলকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে শেখ সিফাত সহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এতে এলাকাবাসী ও ইশা আন্দোলনের সর্বত্র নেতাকর্মীরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ ও মিছিল মিটিং করে যাচ্ছেন। হত্যা রাতেই বন্দর থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে শেখ সিফাতকে সহ ১১জনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে। তারপরও দ্রুত সময়ে হত্যা রহস্য উদঘাটন ও চার্জশীট দেয়ার দাবি জানিয়ে প্রতিদিন তৎপরতা দেখাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন।

২৫ আগস্ট বিকালে নিহত বুলবুলে বাড়িতে আসেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতি ফয়জুর করিম। তিনি পরিবারের সদস্যদের শান্তনা দেন এবং নগদ ২ লাখ টাকা দিয়ে পাশে থাকার ঘোষনা দেন। একই সাথে বুলবুল হত্যাকারীদের দেশের প্রচলিত আইনে সর্ব্বোচ্চ শাস্তি দেয়ার দাবি জানান।

নায়েবে আমির বলেন, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, উন্নতি হয়নি। এই সিফাত চিহ্নিত গুন্ডা, মাস্তান। তরা বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ দেয়ার পরেও প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণেই আমার ভাই বুলবুল মারা গেছে। আমি বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনকে অনুরোধ করে বলবো। আর কোন সন্তান যেন এমন এতিম না হয়।

বন্দর থানা পুলিশদের ধন্যবাদ জানালো দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে হত্যা বিচার করা দাবি করেন। একই সাথে এই সরকার বুলবুল হত্যা নিয়ে অবহেলা করলে গদি রাখবে না জনতা এমন হুঙ্কারও দেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতি ফয়জুর করিম।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা জাহিদ আল আমিন (বুলবুল) হত্যা মামলার প্রধান আসামি শেখ সিফাত ও তাঁর সহযোগীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহত ব্যক্তির স্বজনেরা। ২০ আগস্ট রাতে বন্দরে সালেহনগর এলাকায় কিশোর অপরাধী ও ‘সিফাত বাহিনী’র প্রধান শেখ সিফাত এবং তাঁর সহযোগীদের হামলায় নিহত হন ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা জাহিদ আল আমিন বুলবুল।

২৩ আগস্ট প্রধান আসামি শেখ সিফাতসহ ৭ আসামীকে আদালতে হাজির করার সময় ক্ষুব্ধ জনতা ও নিহতের স্বজনেরা চত্বরে তাঁর ওপর চড়াও হন এবং মারধর করেন। আদালত এ মামলায় শেখ সিফাতসহ ৭ জনের ১০ দিন এবং ৪ নারীর ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

অন্যদিকে বন্দর থানার পুলিশ প্রশাসন এলাকায় এ ধরনের অপরাধ ও ‘সিফাত বাহিনী’র দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং তরুণ প্রজন্ম ও কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে পরিবারগুলোকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে থানার ওসির জামাল উদ্দিন।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি আবুল কালামও বুলবুল হত্যায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। একই তার রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশা ইতোমধ্যে বুলবুল হত্যায় জড়িত আরো আসামী গ্রেপ্তার করার বন্দর থানা ওসিকে নির্দেশনা দিয়েছেন।