News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩

নারায়ণগঞ্জে ত্রিমুখী নতুন লড়াই


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ১০:৩১ পিএম নারায়ণগঞ্জে ত্রিমুখী নতুন লড়াই

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের আধিপত্যের অধ্যায় অনেকটাই পেছনে। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এখন মাঠের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উঠে এসেছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলেও এই পরিবর্তনের স্পষ্ট ছাপ পড়েছে। পাঁচটি আসনের চারটিতে বিএনপি জয় পেলেও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি দখলে নিয়েছে এনসিপি। ফলে ভোটের ফল শেষ হলেও নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন আরও নতুন মাত্রা পেয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির সাফল্য তাদের সাংগঠনিক শক্তির বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। নারায়ণগঞ্জ-১, ২, ৩ ও ৫ আসনে দলটির প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪-এ এনসিপির আব্দুল্লাহ আল আমিন ১ লাখ ৬ হাজার ১৭১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মনির হোসাইন পেয়েছেন ৮০ হাজার ৬১৯ ভোট।

তবে বিএনপির বড় সাফল্যের মধ্যেও জামায়াতের ভোটের হিসাবকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির আজহারুল ইসলাম মান্নান ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪০০ ভোট পেলেও জামায়াতের ইকবাল হোসাইন ভূইয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১৮ ভোট। অর্থাৎ জয়-পরাজয়ের ব্যবধান খুব বেশি নয়। নারায়ণগঞ্জ-১ ও ২ আসনেও বিএনপির বিজয়ী প্রার্থীদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের প্রার্থীরা। নারায়ণগঞ্জ-১-এ বিএনপির মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৫৮ ভোট, বিপরীতে জামায়াতের আনোয়ার হোসেন মোল্লা পেয়েছেন ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট। নারায়ণগঞ্জ-২-এ বিএনপির নজরুল ইসলাম আজাদ পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ২৯১ ভোট, জামায়াতের ইলিয়াছ মোল্লা পেয়েছেন ৮১ হাজার ৫৪ ভোট।

এই ফলাফলই বলে দিচ্ছে, আগামী দিনের রাজনীতিতে বিএনপির প্রধান চ্যালেঞ্জ শুধু নিজেদের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের সমীকরণ নয় মাঠে জামায়াতের সাংগঠনিক বিস্তারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অন্যদিকে এনসিপির সামনে সবচেয়ে বড় সুযোগ নারায়ণগঞ্জ-৪। শিল্পাঞ্চল, শ্রমজীবী মানুষের বড় অংশ এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় এলাকা হওয়ায় এই আসনে একটি সংসদীয় বিজয় দলটির জন্য কেবল একটি আসন নয়, বরং নারায়ণগঞ্জে সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরির দরজা খুলে দিয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে দলটি যদি সাংগঠনিক কাঠামো শক্ত করতে পারে, তাহলে আগামী দিনে বিএনপির জন্য নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এনসিপিকে মোকাবিলা করতে হতে পারে।

তবে তিন দলের পথ এক নয়। বিএনপির হাতে রয়েছে পুরোনো সাংগঠনিক কাঠামো, দীর্ঘদিনের নেতাকর্মী ও নির্বাচনী অভিজ্ঞতা। জামায়াত এগোচ্ছে তুলনামূলক গোছানো সাংগঠনিক কাঠামো এবং নতুন ভোটারদের একটি অংশকে সঙ্গে নিয়ে। আর এনসিপির শক্তি হচ্ছে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা, তরুণ নেতৃত্ব ও নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ের দাবি।

সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও দৃশ্যমান করতে পারে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া হওয়ার বিধান কার্যকর হওয়ায় ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, স্থানীয় সংগঠন এবং প্রার্থীর নিজস্ব ভোটব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি তিন দলই ইতোমধ্যে স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জাতীয় পর্যায়ে খবর এসেছে। ফলে আগামী দিনের লড়াই শুধু দল বনাম দল হবে না; হবে প্রার্থী বনাম প্রার্থী, সংগঠন বনাম সংগঠন এবং ভোটব্যাংক বনাম ভোটব্যাংকের লড়াই।

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন বিএনপি কি তাদের চার আসনের আধিপত্য ধরে রাখতে পারবে, জামায়াত কি ভোটের ব্যবধান কমিয়ে আরও শক্ত অবস্থানে যেতে পারবে, নাকি এনসিপি নারায়ণগঞ্জ-৪-এর সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে অন্য এলাকাতেও বিস্তার ঘটাবে। জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল হয়তো আপাতত একটি রাজনৈতিক মানচিত্র তৈরি করেছে। কিন্তু সেই মানচিত্র স্থায়ী হবে কি না, তার উত্তর মিলবে মাঠের রাজনীতিতে। আগামী কয়েক মাসে তিন দলের সাংগঠনিক তৎপরতা, স্থানীয় নেতৃত্বের অবস্থান এবং সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্কই নির্ধারণ করবে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মাঠে আসলে কার দখল কতটা শক্ত।