নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী নিচ তলায় এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির।
সভায় নেয়া সিদ্ধান্তসমূহের মধ্যে রয়েছে-মেডিকেল ফান্ড ছিলো ৫০ হাজার টাকা সেটাকে উন্নীত করে ১ লক্ষ টাকা করা। আইনজীবী সমিতির কার্যকরি কমিটির সদস্য ১৭ থেকে আইসিটি সম্পাদক ও মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদ বাড়িয়ে ১৯ উন্নীত করা। বিগত সময়ে সদস্যপদ বাতিল হওয়া সদস্যদের আবারও সদস্য পদ দেয়া। সেই সাথে আইনজীবী নির্বাচন পূর্বের ন্যায় জানুয়ারিতে করা।
এসকল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সকল সিদ্ধান্ত আইনজীবীরা কোনো রকম দ্বিমত না পোষণ করে বরং স্বতস্ফূর্ত সমর্থন দিলেও আইনজীবীর সমিতির নির্বাচন পেছানোকে তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি। এই নির্বাচনকে পেছানোকে কেন্দ্র করে সভায় আইনজীবীদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সেই সাথে অনেকেই প্রতিবাদ জানান। একই সাথে এই প্রতিবাদ জানানোকে কেন্দ্র করে হট্টুগালেরও সৃষ্টি হয়। কিন্তু এই প্রতিবাদকে কোনো রকমের পাত্তা দেয়া হয়নি।
এ বিষয়ে সভা শেষে অ্যাডভোকেট শেখ মো. গোলাম মোর্শেদ গালিব বলেন, বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষ সাধারণ সভা নির্বাচন পেছানো হবে চারমাস এরকম কোনো প্রস্তাবনা বিশেষ সাধারণ সভার এজেন্ডায় ছিলো না। একটা বারের সাধারণ সভা করতে হলে অনেক টাকা খরচ হয়। নির্বাচন চার মাস না ১৪ মাস পেছানো হোক; আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না। কিন্তু যোক্তিক কারণে পেছানো হতে হবে। যৌক্তিক কারণে পেছানো হলে আমাদের কোনো আপত্তি ছিলো না।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কোনো অরাজকতা নেই বার কাউন্সিলের কোনো নির্দেশনাও নেই, কেন্দ্রেরও কোনো নির্দেশনা নেই। কার স্বার্থে নির্বাচন পেছানো হলো। প্রেসিডেন্ট এবং সেক্রেটারীর জামিন বাণিজ্যের স্বার্থে নির্বাচন পেছানো হয়েছে। সেই সাথে তারা যেন চারমাস অতিরিক্ত ক্ষমতা ভোগ করতে পারে এই জন্য নির্বাচন পেছানো হয়েছে। আইনজীবীরা প্রতিবাদ করেছে কিন্তু কারও কোনো প্রতিবাদের ভ্রুক্ষেপ করা হয়নি।
গালিব বলেন, বারের লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করা হয়েছে শুধু প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারীর স্বার্থের জন্য। এটা ক্ষমতার অপব্যবহার ছাড়া কিছুই না। আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। বিএনপির ইমেজ নষ্ট হয়েছে তাদের কারণে। আমরা নির্বাচন পেছানোর ব্যাপারে ঘোর বিরোধীতা করেছি।
সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান খোকা বলেন, কোর্টকে বিভক্ত করার জন্য একটি চক্র কাজ করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তবে আজকে যে সকল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এগুলো সকল আইনজীবীদের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত ছিলো। তাহলে আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ থাকতো না।
তিনি আরও বলেন, দেশে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি নির্বাচন পেছাতে হবে। নির্বাচন চারমাস পেছানোর জন্য কার সাথে পরামর্শ করা হলো। বিশেষ সাধারণ সভায় কারও পরামর্শ নেয়া হয়নি। প্রেসিডেন্ট এবং সেক্রেটারীর স্বার্থেই নির্বাচন পেছানো হয়েছে। আমরা এই ধরনের কার্যকলাপ সমর্থন করি না।
তবে এ বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান বলেন, পূর্বের সংবিধান অনুযায়ী প্রতি বছরের জানুয়ারি মাসে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে সকল আইনজীবীরাই একমত পোষণ করেছেন।
আইনজীবীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিগত সময়ে প্রতি বছরের জানুয়ারি মাসে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আইনজীবী সমিতির নেতৃত্বে থাকা আইনজীবীরা আদালত থেকে চলে যান। আর এই সময়ে আনইজীবী সমিতি নেতৃত্ব শূণ্য হয়ে যাওয়ায় নতুন একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে কিছুদিনের মধ্যেই নির্বাচন দেয়া হয়।
যারা ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে হিসেবে এখন থেকে প্রতিবছরের আগস্ট মাসে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু এই বিশেষ সাধারণ সভার মধ্য দিয়ে আবারও সেই নির্বাচন পিছিয়ে আবারও আগের মতো জানুয়ারিতে নির্বাচনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।





































আপনার মতামত লিখুন :