‘আমরা আপনাকে সম্মান দিছি, মানছি আর আপনি আমাদের সবার মাথা বিক্রি করছেন। তাই আমরা কেউ আপনার সাথে আর ঐক্যে নাই’ মন্তব্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ককে শাসিয়েছেন যুবদলের এক নেতা।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে নাসিক ১নং ওয়ার্ডস্থ সিদ্ধিরগঞ্জপুল বাজারে এমন ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় অস্থায়ী একটি বাজারের হকার বসানোকে কেন্দ্র করে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। নেতৃবৃন্দের ক্ষোভের মুখে পড়া সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের নাম মনিরুল ইসলাম রবি। তাঁর প্রতি প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে মহানগর যুবদলের সদস্য শহিদুল ইসলামকে বলতে শোনা গেছে, ‘চাঁদাবাজির অভিযোগে দল থেকে বহিস্কৃত নেতা সালাউদ্দিনকে আপনি পুনরায় বাজারে কেনো এনেছেন? সালাউদ্দিন স্থাপন বসানো নিয়ে একজন হকারকে মারধর করেছে। যার বদনাম আমাদের দলের উপর যাচ্ছে। একজন বহিষ্কার ও মামলা খাওয়া ব্যক্তিকে আপনি আমাদের সাথে পরামর্শ ছাড়াই কেনো পুনরায় বাজার এনেছেন? মামা আপনাকে আমরা সম্মান দিছি আর আপনি আমাদের প্রত্যেকের মাথা বিক্রি করছেন। ইতোমধ্যে সালাউদ্দিনের লোকজন সবাইকে বলে বেড়াচ্ছেন যে আপনি তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা খেয়েছেন।’
যুবদলের এই নেতা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ঘাম আর রক্ত দিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। উনার নির্দেশনা মোতাবেক আমরা জনগণের পাশে দাড়াচ্ছি কিন্তু আপনি ওই চাঁদাবাজকে (সালাউদ্দিন) আবারও বাজার এনে বসাচ্ছেন। এছাড়াও আমরা সবাই এই বাজারেই দাঁড়িয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়েছি যে প্রত্যেক সচেতন নাগরিক নিয়ে চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবো। তারই ধারাবাহিকতায়য় যে ছেলেরা চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন তাদরকে ঢেকে এনে আপনি সালাউদ্দিন মামার পায়ে ধরে ক্ষমা চায়িয়েছেন। কেনো? এই মাফ চাওয়ানো কি আপনার ঠিক হয়েছে? আপনি এটার সমাধান দিয়ে এখান থেকে যাবেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী শাসনামল থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের জমিতে সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় অস্থায়ী বাজার বসিয়ে কিছুসংখ্যক ব্যক্তি বিশেষ চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। আওয়ামী লীগের পতন হবার পরে ব্যক্তির সংখ্যা কমলেও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। পরবর্তীতে বিএনপি নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খানকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেম। প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহনের পর সাখাওয়াত স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। এরপরই শুরু হয় তেলেসমাতি। হকার ইস্যুতে সালাউদ্দিন নামক ওই বিএনপি নেতাকে গ্রেফতার করা হলে দল তাকে বহিষ্কার করেন।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, আমরা সকলে প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে ক্ষতিগ্রস্ত হকারদের সিটির পরিত্যক্ত স্থানে বসার ব্যবস্থা করেছি। রবি মিয়ার প্রশ্রয়ে সেখানে চাঁদাবাজির অপরাধে বহিস্কৃত হওয়া সালাউদ্দিন তদারকির করছে। সে হকারদের মারধর করে রক্তাক্ত করেছেন। মূলত রবি মিয়া সালাউদ্দিনের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাকে পুনর্বাসন করছে। আর আমাদের দলের অঙ্গসংগঠনের কোনো নেতাকর্মী দোকান বরাদ্দ নেয়নি।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমএ হালিম জুয়েলের মুঠোফোন ফোন করা সত্বেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি বলেন, হকার ইস্যুতে আজকের উচ্চবাক্যের ঘটনা অযথা ঘটেছে। হকার উচ্ছেদের পরে মানবিক বিবেচনায় মেয়র (প্রশাসক) লিখিতভাবে আমাকে ডিএনডি লেক অংশের মসজিদ সংলগ্নে হকার বাজার নির্মাণের নির্দেশনা দিয়েছেন। তার নির্দেশনা মোতাবেক আমরা হকারদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সালাউদ্দিনের বিষয়টি শহিদুল আর হালিম জুয়েলের পূর্বের ঝামেলা। আর তারা উভয়েই বাজার থেকে দোকানদারদের কাছে থেকে টাকা উঠানোর জন্য দ্বন্দ্বে রয়েছে।
তিনি বলেন, আমাকে প্রশাসক মেয়র নির্দেশনা দিয়েছে সবাইকে নিয়ে একত্রিত হয়ে হকারদের জন্য কাজ করার জন্যে। তারই লক্ষ্যে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হকারকে বসানোর পাশাপাশি আমাদের ছাত্রদল-যুবদলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনকে ৮টি দোকান দিয়েছি এবং একই সাথে মসজিদের জন্য ৪টি দেওয়া হয়। আমি যতটুকু জেনেছি মূলত হালিম জুয়েলের ঘনিষ্ঠ নাজিমুদ্দিন নামক একজন বিদ্যুতের সংযোগ দিতে এমন পাঁয়তারা করে যাচ্ছে। সালাউদ্দিন আমাকে এক টাকাও দেয়নি।



































আপনার মতামত লিখুন :