নারায়ণগঞ্জে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নতুন সরকারি আইনজীবী নিয়োগ নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ যেন থামছে না। অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার প্রায় ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও তিনি তার কার্যালয়ে বসতে পারেনি। সেই সাথে আদালতের বিচারকি কার্যক্রমেও অংশ নিতে পারছেন না।
একই সাথে তার নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে তালা ঝুলছে। ফলে নিয়োগপ্রাপ্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া কবে থেকে তার উপড় অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
তবে এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া বলেন, সরকার আমাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। সরকারই আমাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিবে। আমি বর্তমানে অসুস্থ; সুস্থ হয়েই আদালতে ফিরবো।
আদালতে আইনজীবীদের ক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যখন কেউ দায়িত্ব পেয়ে থাকেন তখন তাকে নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলে থাকে। তেমনি আমার বিরুদ্ধে অনেকেই অনেক কিছু করার চেষ্টা করছেন। অনেকেই অনেক কিছু বলছেন।
আদালপাড়া সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার দায়রা আদালত ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নতুন সরকারি আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। গত ২৫ আগস্ট আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ (জিপি-পিপি শাখা) থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।
আদেশ অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া। আর এই নিয়োগের পর থেকেই আদালতপাড়া আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা যেন থামছে না। আনইজীবীরা কোনোভাবেই নতুন পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে কোনোভাবেই মেনে নিতে চাচ্ছেন না।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির বলেন, আমাদের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম মোল্লা সিনিয়র আইনজীবী। তিনি আমাদের বিএনপি দলীয় একজন ত্যাগী আইনজীবী। তিনি জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি যতদিন কোর্ট পরিচালনা করেছেন ততদিন সুন্দরভাবে পরিপক্ষভাবে কোর্ট পরিচালনা করেছেন। তিনি আমাদের দলের ভাবমূর্তি এবং আইনজীবীদের ভাবমূর্তি রক্ষা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আর এখন যাকে করা হয়েছে তিনি এই বারের সদস্য না। তার ভোট দেয়ার ক্ষমতা নেই। এই অবস্থায় তার পিপি হওয়ার যোগ্যতা হয়নি। আমরা তাকে অনুরোধ করবো সে যেন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। অন্যথায় আইনজীবীরা যা করার সেটা করবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জাকির হোসেন বলেন, আইনজীবী সমিতিতে একটা সরকারী পোস্ট নিতে হলে তার অভিজ্ঞতার প্রয়োজন আছে; তার পরিচিতির দরকার আছে। আইন পেশায় অভিজ্ঞতার প্রয়োজন আছে। হঠাৎ করে আমরা যাকে দেখলাম একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকরা কালিন সময়ে আমাদের অজান্তে তার নাম এসেছে। আমরা এটার তীব্র নিন্দা জানাই এবং তীব্র বিরোধীতা করি।



































আপনার মতামত লিখুন :