News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

নিত্যপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিক পণ্যের দাম শুনে আকাশ থেকে পড়ে ক্রেতারা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম নিত্যপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিক পণ্যের দাম শুনে আকাশ থেকে পড়ে ক্রেতারা

গত কয়েক মাসের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিক পণ্যের দাম অনেক বেড়েছে। প্লাস্টিকের প্রায় প্রত্যেকটি পণ্যেই ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। কোনো কেনো ক্ষেত্রে আবার ১০০ টাকাও  যেন ছাড়িয়ে গেছে। আর এই দাম বৃদ্ধিতে বিক্রেতাদের বিক্রি কমে গেছে। সেই সাথে কোনো পণ্য বিক্রি করতে চাইলে ক্রেতাদের নানান প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে বিক্রেতাদেরকে। অনেক সময় নানান প্রশ্নের জবাব দিয়েও তারা পণ্য বিক্রি করতে পারছেন না।

ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চামচ পট ডজন প্রতি ৭০ টাকা ৯৫ টাকা, ছোট গোল জালি ডজন ৬৫ টাকা থেকে ৯৫ টাকা, ছোট বালতি ২০ টাকা থেকে ৪০ টাকা, বড় বালতি ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা আবার নামী কোম্পানির বালতি ১৮০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা, ছোট বক্স প্রতি ডজন ৭০ টাকা থেকে ৯০ টাকা, বড় বক্স ডজন প্রতি ১৬০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা, মোড়া ১৭০ টাকা থেকে ২০০ টাকা, প্রতি গামলা ৭০ টাকা থেকে ১০০ টাকা আবার নামী কোম্পানির গামলা ২২০ টাকা ২৮০ টাকা, বদনা ৩৫ টাকা থেকে ৫৫ টাকা ও প্লাস্টিক ব্যাংক ৬০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা।

একই সাথে মগ ২০ টাকা থেকে ৪০ টাকা, ডাল চামচ ৩০ টাকা থেকে ৫০ টাকা, ক্লাসিক মগ ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা, ঝুড়ি ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা, সাবানের কেইস ১৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা, রুটি জালি ডজন ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা, বিড়ালের ঝুড়ি ৪০০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা, ময়লার ডাস্টবিন ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা, প্লাস্টিক ঝাড়– ১৬০ টাকা থেকে ২৩০, রেক ৫৩০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা, প্লস্টিকের ডালা ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা ও চেয়ার ৪৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা বেড়েছে। এভাবে প্রায় প্রত্যেকটি পণ্যের দাম বেড়েছে।

নারায়ণগঞ্জ শহরের ২ নাম্বার রেলগেইট এলাকার জুনায়েদ হার্ডওয়্যারের ম্যানেজার হাসিব আকবর বলেন, বর্তমানে প্লাস্টিকের প্রত্যেকটি পণ্যের দাম অনেক বেড়েছে। দাম বৃদ্ধির কারণে আমাদের ক্রেতার সংখ্যা অনেক কমে গেছে। কিছুদিন আগেও যে পণ্য ৪০ টাকায় বিক্রি করতাম এখন সে পণ্য ৫৫ টাকায় বিক্রি করতে হয়। দাম বাড়ার কারণে ক্রেতারা দাম শুনে চলে যায়। প্রত্যেকটি পণ্যের দাম এমনভাবে বেড়েছে ক্রেতারা বিশ^াসই করতে চায় না। ক্রেতাদের বুঝানো যায় না। প্রত্যেকটি পণ্যেরই দাম বেড়েই চলছে। প্লাস্টিকের এমন কোনো পণ্য নেই যেটার দাম বাড়েনি।

একইভাবে মোস্তফা কামাল নামে আরেকজন ব্যবসায়ী বলেন, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই দাম বাড়তে শুরু করছে। ৫০ টাকার একটা পণ্য ৬০ থেকে ৬৫ টাকা হয়ে গেছে। আগে ২০ টাকার একটা পণ্য ৩০ টাকায় বিক্রি করতাম। এখন কিনতেই হয় ৩০ টাকায়। ফলে এখন আর ব্যবসা করে পোষানো যায় না। ক্রেতাদের কাছে দাম চাইলে ক্রেতারা মনে হয় আকাশ থেকে পড়ে। কোনো কোনো ক্রেতা বলে আমাদের মাথায় বাড়ি দেন। আগে কোনো সময় ক্রেতাদের সাথে কথা বলারই প্রয়োজন পড়তো না। দাম শুনেই তারা নিয়ে যেতো। এখন ক্রেতাদের বুঝাতে পারি না আমাদেরও লাভ হয় না।

শহরের আজমেরীবাগ এলাকার স্বর্ণা ভ্যারাইটিজ স্টোরের মালিক মোজাম্মেল হক বলেন, প্লাস্টিক পণ্যের দাম ৩০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কোনো কোনো পণ্য আরও বেশি বেড়েছে। যার কারণে এখনও আর আগের বেচাকেনা হয় না। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোনো রকম চলে যাচ্ছে। ব্যবসায় লাভের পরিমাণ অনেক কমে গেছে। আগে লাভও হতো বেশি বেচাকেনাও বেশি হতো। আর এখন কোনো রকম দিন চলে। অনেক সময় লস হয়ে যায়।

প্লাস্টিক কোম্পানির বিক্রয় কর্মকর্তা আশিষ কুমার সাহা বলেন, ডলারের উঠানামা করার কারণে বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। অনেক সময় দেশের বাহিরে থেকে পণ্য পরিবহনে খরচ বেড়ে যায়। আর এই খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে সেটা পণ্যের দামে প্রভাব পড়ে। ফলে বাজারের কেনা-বেচার অবস্থা খুবই খারাপ যাচ্ছে।

বিভিন্ন কোম্পানির প্লাস্টিক পণ্যের ডিলার অপু রয় বলেন, বেচাকেনার অবস্থা খুবই খারাপ অবস্থা যাচ্ছে। প্রত্যেকটি পণ্যেরই দাম বাড়ছে। কোম্পানিগুলো বলছে গ্যাস ও বিদ্যুতের কারণে তাদের পণ্য উৎপাদন করতে পারছে না। দেশের বাহিরে থেকে কাঁচামাল আনতে পারছে না। যার কারণে দাম বেড়েই চলছে।

নারায়ণগঞ্জ চেম্বার রোড ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি ও বিসমিল্লাহ ক্রোকারিজ স্টোরের প্রোপ্রাইটর এ. কে. আজাদ বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সময় থেকে শুরু হয়েছে। তখন আমাদের উপর প্রভাব পড়েনি। ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের সময়ে পুরোপুরি প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে প্লাস্টিক পণ্যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২৫ থেকে ৪০ পার্সেন্ট দাম বেড়েছে। যেমন আগে একটি ঝগ ৬০ টাকা কিনে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করতাম। এর মধ্যেই ভ্যাট ট্যাক্স সবকিছুই অন্তুর্ভুক্ত থাকতো। এখন সেই পণ্য আমাদের কিনতেই হয় ৯০ টাকা।

তিনি আরও বলেন, আগে একটা মগ কিনতাম ৩০ টাকায় এটা এখন কিনতে হয় ৪৫ টাকায়। এরকম প্রত্যেকটি পণ্যেই দাম বেড়ে গেছে। যার জন্যই ক্রেতারা হিমশিম খাচ্ছে। আসলে সবার অবস্থায় খারাপ। যখন অর্থনৈতিক অবস্থা যখন মন্দা দেখা দেয় তখন সকলেরই মন্দা শুরু হয়ে যায়। আসলে এটা শুধু সরকারের দোষ না; বৈশি^ক অবস্থার কারণেই এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা যেখান থেকে মালামাল ক্রয় করি তাদের ভাষ্য; গ্যাসের কারণে উৎপাদন করতে পারছে না। গ্যাসের সংকট চলছে। যার কারণে দিন দিন দাম বাড়ছে।

বর্তমানে ব্যবসার সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে এ. কে. আজাদ বলেন, আমাদের ব্যবসায় লাভের পরিমাণ কমলেও ব্যাংকের মুনাফার পরিমাণ কমানো হয়নি। বরং মুনাফার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। একই সাথে ভ্যাট ও ট্যাক্সের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। ফলে সকল হিসেব মিলিয়ে ব্যবসা ধরে রাখাটা খুবই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নারায়ণগঞ্জ জেলা সহকারি পরিচালক হৃদয় রঞ্জন বনিক বলেন, আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করে যাচ্ছি। যখনই ন্যায্য মূল্য থেকে বেশি দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায় তখনই অভিযান পরিচালনা করে থাকি।