News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

হকার্স দলের সাথে আঁতাতে ফের প্রকাশ্যে হকার্সলীগ নেতা আসাদ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম হকার্স দলের সাথে আঁতাতে ফের প্রকাশ্যে হকার্সলীগ নেতা আসাদ

নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাতে আবারো দেখা মিলেছে হকার লীগ নেতা হত্যা সহ একাধিক মামলার আসামি আসাদুর ইসলাম আসাদের। পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ক্ষমতাসীন সময়ে যিনি নগরীর সকল ফুটপাতের হকারদের নিয়ন্ত্রণ করতেন। অবৈধ এসব হকারদের নেতৃত্ব দিয়ে আসাদুল ইসলাম আসাদে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বনে গিয়ে ছিলেন কোটিপতি। সেই সাথে ছাত্র জনতার বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন চলাকালীন সময় তার বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের উপর অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে হামলাকারী আসাদুল ইসলাম আসাদকে গ্রেফতার করেছিলো র‌্যাব-১১। রূপগঞ্জের গাউছিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আসাদ সোনারগাঁয়ের বুরুমদী এলাকার মৃত সামসুদ্দিনের ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগরের হকার সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর হকার লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

গ্রেপ্তাররে পর তাকে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছিলো। এরপর বেশ কিছুদিন জেল খেটে জামিনে বেরিয়ে আসে আসাদ। দীর্ঘদিন তাকে শহরে না দেখা গেলেও বর্তমান সময় তাকে আবারো প্রকাশ্যে শহরে দেখা যাচ্ছে। এমন কি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেখানে তার দোকান ছিলো সেই গীর্জার সামনে ফুটপাতে আবারো দোকান নিয়ে বসেছে আসাদ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই ফুটপাত থেকে অবৈধ হকার উচ্ছেদের জন্য কাজ শুরু করে। অন্য দিকে হকারদের পুনর্বাসনের দাবি তুলে রাস্তায় আন্দোলনে নেমেছিলেন নারায়ণগঞ্জের বেশ কয়েকজন বাম ও গণসংহতি আন্দোলনের নেতারা। এর আগেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র আইভী যখন ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তখন এই বাম নেতারাই প্রথমে আন্দোলনে নামেন। সেই আন্দোলন ধীরে ধীরে ক্ষমতাসীনদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের রূপ নিয়েছিলো। যার ফলাফল পুরোটাই ঘরে তুলে নিয়েছিলেন এই আসাদ। এরপর আর তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। সেদিন আসাদের নেতৃত্বে সাবেক মেয়র আইভীর উপর চালানো হয়েছিলো প্রাণঘাতি হামলা। আইভীর নেতাকর্মীরা সেদিন মানব ঢাল সৃষ্টি করে তাকে প্রাণে রক্ষা করেছিলেন।

বর্তমানেও হকারদের শহরের ২নং রেলগেট থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত রেলওয়ের জমিতে হকারদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু হকাররা সেখানে যেতে রাজি নয়। তাদের দাবি তারা বঙ্গবন্ধু সড়কেই থাকবে তাদেরকে বিকাল ৫টার পর ফুটপাতে অবাধে বসতে দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

এমন পরিস্থিতে যে কোনো মুহূর্তে হকার ইস্যুতে আবারো সেই পুরোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। হকাররা নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করতেই আসাদকে আবারো কাছে টেনে নিয়েছে। কারণ আসাদকে সাথে রাখলে জাতীয়তাবাদী হকার্স ইউনিয়নের পাশাপাশি তারা হকার লীগের লোকজনদেরকেও কাছে পাবেন এমনটাই জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন হকার নেতা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আসাদুল ইসলাম, রহিম মুন্সী ও পলাশ ২০১৮ সালে ১৬ জানুয়ারি হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর উপর হামলার ঘটনার চার্জশিটভুক্ত আসামি। ওই ঘটনায় সিটি করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার বাদী হয়ে সিটি মেয়রের পক্ষে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করেন। ওই মামলার তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর আদালতে মামলাটির অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অভিযোগপত্রের ১২ আসামির মধ্যে মহানগর হকার্সলীগের সভাপতি রহিম মুন্সি, আসাদ, পলাশের নাম রয়েছে।

এরপর ২০২১ সালের ৯ মার্চ ফুটপাতে বসার দাবিতে বিক্ষোভ করে হকাররা। ওই সময় হকারদের নেতৃত্ব দেয় রহিম মুন্সী ও আসাদ। ওইদিন বিকেলে সড়কে আগুন দিয়ে যানবাহনে ভাঙচুর চালায় হকাররা। বাধা দিলে পুলিশের সাথে তাদের সংঘর্ষ বাধে। ওই ঘটনায় পুলিশের উপর হামলা, অস্ত্র লুটের চেষ্টা, যানবাহন ভাঙচুর ও সড়কে আগুন দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয় আসাদ। পরদিন পুলিশের এক মামলায় আসাদসহ ২৫০ জনকে আসামি করা হয়। এই মামলা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয় আসাদকে।

একই বছরের ১৪ অক্টোবর ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে তর্কের জেরে খুন হন ১৮ বছর বয়সী তরুণ জোবায়ের হোসেন। ওই তরুণও ফুটপাতে হকারি করতো। তাকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়। ওই হত্যা মামলারও আসামি আসাদ। মামলাটির অভিযোগপত্রেও রয়েছে তার নাম। হত্যা মামলাটিতে জেলেও যায় আসাদ। জামিনে বেরিয়ে এসে নিহত জুবায়েরের পরিবারকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। নিহত জুবায়েরের মা মুক্তা বেগম এই ঘটনায় থানায় আরও একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

শহরের জেলা সরকারী গণ গ্রন্থাগারের বিপরীতে শায়েস্তা খান রোড থেকে চাঁদা তোলে সোহেল। ২০২১ সালের ১৩ মার্চ ফুটপাতে চাঁদাবাজি করার সময় চাঁদাবাজির টাকাসহ সোহেলের সহযোগী মো. আব্দুল্লাহ ওরফে বিজয় চন্দ্র দাস নামের এক চাঁদাবাজকে হাতে-নাতে গ্রেফতার করে র‍্যাব।

সেইসময় র‍্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন চৌধুরী, পিপিএম জানান, পলাতক আসামি সোহেলের নেতৃত্বে চাঁদাবাজ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সরকারী গণ গ্রন্থাগারের বিপরীতে শায়েস্তা খান রোডের ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলো হতে দোকানপ্রতি ৪০ থেকে ১০০ টাকা চাঁদা আদায় করে। সোহেলের পিতা ফুটপাতের আরেক চাঁদাবাজ মহসীন ব্যাপারী মেয়র আইভীর উপর হামলার ঘটনার আরেক চার্জশিটভুক্ত আসামি।