ফুলবাড়ী দিবস উপলক্ষ্যে শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের জেলা আহবায়ক রফিউর রাব্বির সভাপতিত্বে সদস্য সচিব ধীমান সাহা জুয়েলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাবেক জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাসদের জেলা সদস্য সচিব আবু নাইম খান বিপ্লব, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি মাহামুদ হোসেন, ন্যাপের জেলা সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মনি সুপান্থ ও সামাজিক সংগঠন সমমনার সাবেক সভাপতি দুলাল সাহা।
রফিউর রাব্বি বলেন, দেশে সরকার বদল হলেও আমলারা বহাল তবিয়তে থাকেন, তাদের কোন বদল নেই। এই আমলারা বিভিন্ন সরকারের সময় সরকারকে গণবিরোধী, দেশবিরোধী চুক্তি করতে বাধ্য করেন। আজকের এই জ্বালানী সংকট অসাধু আমলাদের কারণে। দেশে জ্বলানী সন্ধান পাওয়া গেলেও আমলাদের পরামর্শে তা উত্তোলন না করে এই খাতকে সব সময় করে রাখা হয়েছে আমদানী নির্ভর। মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি দেশের জন্য আত্মঘাতি একটি চুক্তি। এ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন সামগ্রি উচ্চ মূল্যে কিনতে হবে। অন্য দেশে কম পাওয়া গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের বেঁধে দেয়া মূল্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিনতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং বিমান, প্রতিবছর ৭ লাখ মেট্রিক টন করে ৫ বছর গম, বছরে ১২৫ কোটি ডলারের সয়াবিন তেল, ১৫ বছরে অন্তত ১৫ বিলিয়ন ডলারের এলএনজি কিনতে হবে। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে মানতে হবে ১৩১টি শর্ত আর যুক্তরাষ্ট্র মানবে ৬টি। বিগত জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী ইউনুস সরকার এ চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট গত ২০ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্পের এ চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন এমনি চুক্তি কেবল যুদ্ধাবস্থা, সন্ত্রাসবাদ, জরুরী নিরাপত্তার হুমকি মোকাবেলায় করা যায়। আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই শুল্ক আরোপ তার আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে বলেছেন, তার নীতি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, আমরা দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য এই মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।
সমাবেশে বক্তারা মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি দ্রুত বাতিলের দাবি জানান। ২০০৬ সালে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে স্বাক্ষরিত ৬ দফাচুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গ্যাস, জ্বালানী ও বিদ্যুৎ সংকটের জনবান্ধব ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।
উল্লেখ্য বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার বহুজাতিক ব্রিটিশ কোম্পানী এশিয়া এনাজির সাথে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী কয়লা খনির কয়লা উত্তোলনের চুক্তি করে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ি উত্তোলিত কয়লার শতকরা ৯৪ ভাগ পাবে এশিয়া এনার্জি আর ৬ ভাগ পাবে বাংলাদেশ। এশিয়া এনার্জি উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খনি থেকে কয়লা উত্তেলনে করতে গেলে ২০০৬ সালের ৬ আগস্ট দিনাজপুরের ফুলবাড়ীসহ আশেপাশের অঞ্চলের হাজার হাজার জনগণ বহুজাতিক ব্রিটিশ কোম্পানী এশিয়া এনাজির ফুলবাড়ী অফিস ঘেরাও করে। বিক্ষুব্ধ জনতাকে প্রতিরোধ করতে পুলিশ, বিডিআর গুলি ছোঁড়ে। গুলিকে আমিন, তরিকুল, সালেকিন নিহত হয়, আহত হয় দুই শতাধিক জনতা। জনবিক্ষেভে এশিয়া এনার্জির সকল কর্মকর্তা, ফুলবাড়ী এলাকার সকল পুলিশ ও প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা ফুলবাড়ী ছেড়ে পালিয়ে যায়। ৩০ আগস্ট সরকার আন্দোলনকারীদের সাথে ৬ দফা চুক্তি স্বাক্ষর করে। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে।




































আপনার মতামত লিখুন :