News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

জোরালো হচ্ছে নাসিক নির্বাচনের দাবি


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ১০:২৩ পিএম জোরালো হচ্ছে নাসিক নির্বাচনের দাবি

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দাবি ক্রমেই জোড়ালো হচ্ছে। বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকা জামায়াত এবং এনসিপির নেতাকর্মীরা প্রায়ই দাবি তুলছেন। তাদের মতে, প্রশাসক বসিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সুযোগ দিচ্ছে বিএনপি। অন্যদিকে নির্বাচন না দিয়ে গণতন্ত্রের পথে বাঁধা তৈরি করা হচ্ছে। সেই সাথে বিএনপির স্থানীয় নেতারাও চাচ্ছেন দ্রুত নাসিক নির্বাচন। যার মাধ্যমে কেবল মেয়র না, কাউন্সিলররাও নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধি হবার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন।

তবে প্রশ্ন উঠেছে পৌরসভা এবং সিটি নির্বাচনে ধারাবাহিক জয় পেয়ে আসা চুনকা পরিবারের উত্তরসূরী কে হবে? আইভী নির্বাচন করলে তার জয়রথ থামানো কি সহজ হবে? নাকি এবারও ২০০৩ সালের মত বিএনপিকে চমকে দিয়ে জয় পেয়ে যাবেন নাসিকের সাবেক এই মেয়র? 

দেশ স্বাধীনের পর থেকে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন হয়েছেন চারবার। এরপর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তিনবার। মোট সাতটি নির্বাচনে ছয়টিতেই জয় পেয়েছেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তার বাবা আলী আহমদ চুনকা। আর একটিবারের জন্য চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন নাজিম উদ্দিন মাহমুদ। বাকি পুরোটা সময় প্রশাসকের মাধ্যমে বা অনির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন। 

স্বাধীনতার পরে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভায় প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালে। সেই নির্বাচনে জয়লাভ করেন আইভীর পিতা আলী আহমদ চুনকা। ১৯৭৭ সালে পুনরায় পৌর নির্বাচনে জয় পান তিনি। তবে পরবর্তী নির্বাচনে জয়লাভ করেন নাজিম উদ্দিন মাহমুদ। এরপর ১৯৮৮ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত প্রশাসক দ্বারা পরিচালিত হয় নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা। ২০০৩ সালের নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থাতেই বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে জয়লাভ করেন চুনকা কন্যা ডা. আইভী। তার মেয়াদ শেষে পুনরায় এই পদে প্রশাসক নিয়োগ করে সরকার।

২০১১ সালে তিনটি পৌরসভা একত্রিত করে ঘোষণা করা হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। নাসিকের পরপর তিনটি নির্বাচনেও জয় পেয়েছেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারন করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত প্রশাসক বা অনির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে চলছে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম।

তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সেই সাথে বিএনপি ক্ষমতায় আসার চার মাসের মাথায় আইভী জামিনে বেরিয়ে আসায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে জল্পনা কল্পনা বাড়ছে। আগের তুলনায় কয়েকগুন বেশি প্রার্থী দেখা যেতে পারে এবারের নির্বাচনে। সেই সাথে আইভী কি পুনরায় নির্বাচন করবেন নাকি তাদের পারিবারিক জয়রথ থামাবে ভিন্ন কেউ সেই প্রশ্ন চলছে সবখানে। 

নারায়ণগঞ্জে জাতীয় নির্বাচনে দেখা গেছেন বিএনপির দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি একাধিক আসনে রয়েছে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী। চারটি আসনে বিএনপি জয় পেলেও নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে এনসিপি। বিএনপির একাংশের দাবি, একাধিক প্রার্থী থাকার কারনেই পরাজিত হতে হয়েছে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীকে।

একই সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে এবার সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও। ইতোমধ্যে অন্তত এক ডজন সম্ভাব্য প্রার্থী বিএনপির হয়ে নির্বাচন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দলীয় সমর্থন না পেলে নিজ উদ্যোগেই নেমে যেতে পারেন নির্বাচনে এমন সম্ভাবনাও প্রবল। সেই সাথে জামায়াত এবং এনসিপি আলাদা ভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে। অর্থাৎ আগে যেখানে বিএনপির প্রার্থীরা পেতেন নিজেদের পাশাপাশি জোট ও সমমনাদের ভোট। এবার সেই ভোটগুলো ভাগাভাগি হয়ে যাবে। 

তবে স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই। তবে পারবেন স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচন করতে। সেদিক থেকে নির্বাচনে দাঁড়ালে বিএনপি বিরোধী ভোট এবং আওয়ামী লীগের ভোট পেয়ে যেতে পারেন আইভী।  তার বিপরীতে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো পৃথক নির্বাচন করায় অনেকেই ভাবছেন ফের নির্বাচন হলে জয় পাওয়া কঠিন হবে না তার জন্য। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, টানা ছয়বার যেই পরিবারের হাতে জয়রথ। সেই জয়রথ থামিয়ে দেয়া কিছুটা হলেও কঠিন হবে এবার। কারন তারা ইতোমধ্যে ব্যক্তিগত ইমেজ তৈরি করে ভোট ব্যাংক গঠন করে নিয়েছেন। সেই সাথে আওয়ামী লীগ শাসন আমলে লীগের নেতাকর্মীরা তাদের কদর্য রূপ দেখালেও ব্যতিক্রম ছিলেন আইভী। যেই কারনে তার উপর এখনও আস্থা রাখেন অনেকে।