News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

লাঙ্গলবন্দ ব্রিজের পর মৃতপ্রায় ব্রহ্মপুত্র


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মার্চ ১৩, ২০২৬, ১০:১২ পিএম লাঙ্গলবন্দ ব্রিজের পর মৃতপ্রায় ব্রহ্মপুত্র

ব্রহ্মপুত্র নদ এশিয়া মহাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী। সংস্কৃত ভাষায় ব্রহ্মপুত্রের অর্থ "ব্রহ্মার পুত্র"। এজন্য একে "ব্রহ্মপুত্র নদ" বলা হয়। ব্রহ্মপুত্রের পূর্ব নাম ছিল লৌহিত্য। হিমালয় পর্বতমালার কৈলাস শৃঙ্গ থেকে উৎপত্তি এই নদটি এসে সমাপ্তি ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের লাঙ্গলবন্দ এলাকায় এসে। নদের এই স্থানেই প্রতিবছর পালিত হয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দের মহাষ্টমী স্নান।  এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ এই নদটি লাঙ্গলবন্দ ব্রিজের অংশে যেন মৃত প্রায়। অনেকটা পায়ে হেটেই নদ পারাপার হওয়া যায় ব্রিজের নিচ দিয়ে।

নদের বুকে চর এবং অপরিকল্পিত বালু ড্রেজিংয়ের কারণে নদের ওই স্থানটি শুকিয়ে প্রায় জলশূন্য হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে রাস্তা থেকে নদের তলদেশ স্পষ্ট ভাবে দেখা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা ড্রেজার লাগিয়ে অপরিকল্পিতভাবে বালু কেটে থাকে বছর জুড়ে। এছাড়াও নদের পাড় ঘিরে বেশ কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। যেগুলো থেকে প্রতিনিয়ত নদের মধ্যে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। সেই সাথে বিষাক্ত ব্যাটারি কারখানার সীসার গাদ ফেলার কারণে নদের বেশ কিছু স্থানে চর সৃষ্টি হয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। অবিলম্বে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এই স্থানটিতে নদ পুরোপুরি ভাবে শুকিয়ে যাবে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এই পরিস্থিতির ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

তথকোষ উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, ব্রহ্মপুত্রের উৎপত্তি হিমালয় পর্বতমালার কৈলাস শৃঙ্গের নিকট জিমা ইয়ংজং হিমবাহে, যা তিব্বতের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। জাঙপো নামে তিব্বতে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে এটি ভারতের অরুণাচল প্রদেশে প্রবেশ করে যখন এর নাম হয়ে যায় শিয়াং বা সিয়ং। তারপর আসামের উপর দিয়ে দিহাং নামে বয়ে যাবার সময় এতে দিবং এবং লোহিত নামে আরো দুটি বড় নদী যোগ দেয় এবং তখন সমতলে এসে চওড়া হয়ে এর নাম হয় ব্রহ্মপুত্র। ব্রহ্মপুত্র হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের নিকটে মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়ে তিব্বত ও আসামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের কাছে ব্রহ্মপুত্র দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে জামালপুর ও ময়মনসিংহ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনায় পড়েছে।

১৭৮৭ সালে ভূমিকম্পের কারণে ব্রহ্মপুত্র নদ এর তলদেশ‌ উত্থিত হ‌ওয়ার কারণে এর দিক পরিবর্তিত হয়ে যায়। ১৭৮৭ সালের আগে এটি ময়মনসিংহের উপর দিয়ে আড়াআড়িভাবে বয়ে যেত‌। পরবর্তীতে এর নতুন শাখা নদীর সৃষ্টি হয়, যা যমুনা নামে পরিচিত। উৎপত্তিস্থল থেকে এর দৈর্ঘ্য ২৮৫০ কিলোমিটার। ব্রহ্মপুত্র নদ এর সর্বাধিক প্রস্থ ১০৪২৬ মিটার (বাহাদুরাবাদ)। এটিই বাংলাদেশের নদীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে। ব্রহ্মপুত্রের প্রধান শাখা যমুনা। ব্রহ্মপুত্রের আরেক শাখা নদী বানার। এক কালের প্রশস্ত ব্রহ্মপুত্র নদ শীর্ণকায় (২০১১ সালে)।