বিএনপি জোট থেকে মনোনয়ন পেয়ে হাজির হন নির্বাচনী এলাকায়। এরপর বিএনপির বিতর্কিত নেতাকর্মীদের একত্রিত করে শুরু করেন নির্বাচনী প্রচারণা। বিভক্ত বিএনপিকে পুঁজি করে জয়ের চেষ্টা করতে গিয়ে হেরেছেন বাজে ভাবে। হতাশ বিএনপি নেতাকর্মিদের উপর এখন চেপে বসার চেষ্টা শুরু হয়েছে। যা নিয়ে অসন্তোষ বিরাজ করছে দলটির নেতাকর্মী ও অনুসারীদের মধ্যে।
বিএনপির এমন চিত্র নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়। যেখানে নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনে সদ্য পরাজিত জমিয়ত নেতা মনির হোসেন কাসেমী, তার অনুসারী মাওলানা ফেরদাউস এখন বিএনপি নেতাদের উপর চেপে বসতে শুরু করেছেন। বলা হচ্ছে, ফতুল্লা বিএনপির অভিভাবক এখন জমিয়ত নেতারা। শুধু তাই নয়, যেসব বিএনপি নেতারা ঠিকঠাক কথা শুনতে চাচ্ছে না, তাদের নানান ভাবে ট্যাগ দিয়ে ভয় ভীতি দেখানো শুরু হয়েছে। নেপথ্যে শক্তি হিসেবে কাজ করছে জমিয়ত নেতা মনির হোসেন কাসেমীর সাথে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপি তথা জমিয়ত এই আসনে পরাজিত হবার পর হতাশা তৈরী হয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে। অন্যদিকে হুহু করে বাড়ছে এনসিপির জনপ্রিয়তা। বিএনপির বহু নেতাকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছে এনসিপির সাথে। এছাড়া এনসিপি উদারপন্থী রাজনৈতিক চর্চা শুরু করায় তাদের দিকে ঝুকছে তরুনরা। এমপির কার্যক্রম প্রকাশ্যেই প্রশংসা করছেন বিএনপির বহু নেতাকর্মী। যা কট্টর বিএনপি অনুসারীদের হতাশ করছে। এরই সুযোগ নিচ্ছে জমিয়ত। নিজেদের কতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে বিএনপির উপর চেপে বসেছে। তারেক রহমানের সাথে সুসম্পর্ককে পুঁজি করে জমিয়তের সাথে রাজনীতি করার চাপ দিচ্ছেন। ভিন্ন দল করলেও অনেকটা জমিয়ত নেতাদের বশ্যতা স্বীকার করে করতে হচ্ছে রাজনীতি। যেই কারনে রমজান জুড়ে দেখা গেছে জমিয়ত নেতাকে অতিথি করে বিএনপির প্রোগ্রাম সাজাতে।
তবে বিএনপি নেতাকর্মীরা এমন কান্ডে নারাজ। তারা বলছেন, পরাজিত হবার পেছনে বিএনপির ভঙ্গুর দশা দায়ী। জমিয়ত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এই অবস্থায় বিএনপি থেকে যারা বহিস্কার হয়েছে তাদের ফের দলে ফিরিয়ে এনে রাজনীতি শক্তিশালী করা উচিৎ। কিন্তু তা না করে ভঙ্গুর বিএনপি জমিয়তের পিঠে চড়ে এগোতে থাকলে রাজনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে দল। যা ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে ফতুল্লার রাজনীতিতে। জমিয়ত নেতারা বিএনপিকে ইঙ্গিত করে চাঁদাবাজ সহ নানান পদবীতে ভূষিত করছে। অথচ এই জমিয়তের নেতাকর্মী নেই বললেই চলে। বিএনপির উপর ভর করেই টিকে আছে তাদের রাজনীতি।
রাজনৈতিক বোদ্ধারা বলছেন, ফতুল্লা বিএনপি ভঙ্গুর হবার পেছনে একদিকে যেমন স্বার্থের সংঘাত আছে। তেমনি আছে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থা। এখানকার কল কারখানা কেন্দ্রীক ব্যবসা বিএনপিকে বিভক্ত করেছে। সেই সাথে ক্ষমতার লড়াইয়ে ৩/৪ ভাগে ভাগ হয়েছেন নেতারা। নির্বাচনে নেমে হয়েছেন বহিস্কার। দল বদলও করেছেন ক্ষমতার জন্য। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। দাপটের সাথে বিজয়ী হয়েছে এনসিপি। এখন যদি নেতাকর্মীরা জমিয়তকে নেতা মেনে রাজনীতি চালিয়ে নেয় তাহলে নিজেদের রাজনীতি নষ্ট হবে। স্থায়ী হবে জমিয়তের আধিপত্য।



































আপনার মতামত লিখুন :