News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২

সন্ত্রাস চাঁদাবাজ ভূমিদস্যুদের লাল কার্ড দেখাতে চায় ফতুল্লাবাসী


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম সন্ত্রাস চাঁদাবাজ ভূমিদস্যুদের লাল কার্ড দেখাতে চায় ফতুল্লাবাসী

চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু, তেলচোর, মাদক ব্যবসায়ী এসব অপরাধীরা এখন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জমিয়তের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমীর সহযোগি। এসব অপরাধীদের নিয়ে মনির কাসেমী ভোট চাইছেন। অভিযোগগুলো তুলছেন তাঁরই প্রতিদ্বন্দ্বিরা। বিশেষ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন ও শাপলা কলির এনসিপির প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন। এ দুইজন গত কয়েকদিন ধরেই কাসেমীর বিরুদ্ধে লাগাতার এসব অভিযোগের তীর ছুড়ছেন। আবার কোন কোন প্রাথী বলছেন আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়ে চলছেন মনির কাসেমী।

তবে কারা সেই অপরাধী। কেউ নাম প্রকাশ করছেন না। কিন্তু আকার ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। গত কয়েকদিনে কাসেমীর প্রচারণায় যাদের দেখা গেছে তাদের অনেকের নামে আবার বিতর্ক আছে। তবে যেহেতু কাসেমী নাম বলেনি সেহেতু তাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ তোলা নিয়েও আছে সংশয়।

একটি বিষয় স্পষ্ট হচ্ছে এসব বিতর্কিত ব্যক্তিদের পাশে রাখার কারণে অনেক বিএনপির তৃণমূল চরম বিরক্ত। তারা মনে করছেন কাসেমী এমপি হলে অপরাধীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে দাঁড়াবেন।

ফতুল্লার রিয়াদ চৌধুরীকে নিয়েও বক্তব্য দেন আল আমিন। তিনি বলেন ফতুল্লার একটি চৌধুরী কারখানা পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। প্রসঙ্গত বছরখানেক আগে এক ডাইং কারখানা মালিককে হুমকির অভিযোগে মামলায় তিনি কারাভোগ করেছিলেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। তখন আন্দোলনকারীদের উপর হামলা ও গুলি ছোড়ার নির্দেশ দেন কুতুবপুরের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও হয়েছে। কিন্তু তার পরেও সরব সেন্টু। নিয়মিত এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন।

কাসেমীর পাশে দেখা গেছে বহুল আলোচিত জোড়া খুন মামলার আসামি ও মাদক ব্যবসায়ী সন্ত্রাসী শহীদকে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শহীদ কাশিপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইটবালু ব্যবসা, ড্রেজার কার্যক্রম ও মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। বাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব কর্মকান্ড পরিচালনায় তার আলাদা ক্যাডার বাহিনী রয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।

মনির হোসাইন কাসেমীর পাশে দেখা গেছে গিরিধারার একজন চিহ্নিত ভূমিদস্যুকে। বিতর্কিত ওই ব্যক্তির নাম শাহাদাত চৌধুরী ওরফে শাহাদাত পুলিশ। গণমাধ্যমকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে তিনি কারাভোগও করেছেন।

কাসেমীকে ঘিরে রাখেন ফেরদাউসুর রহমান। তিনি শামীম ওসমানের অতি ঘনিষ্ঠ সেটা প্রকাশ্য। নিয়মিত শামীম ওসমানের সঙ্গে তিনি দেখা করতেন। শামীম ওসমানের অন্যতম ক্যাডার শাহ নিজামের নম পার্কের ডেরাতে নিয়মিত দেখা যেত তাকে।

কাসেমীর পাশে দেখা গেছে শহরের চিহ্নিত অস্ত্রবাজ রাসেলকে। গত বছর শহরে প্রকাশ্য গুলি ছুড়েছিল এ সন্ত্রাসী।

সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৪ সংসদীয় আসন। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৩২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৭০ হাজার ১৭ জন ও নারী ২ লাখ ৬৫ হাজার ৩০৪ জন। এছাড়া ৪ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারও রয়েছেন। এসব জনগণও এবার সরব। তারা ১২ ফেব্রুয়ারী এসব দুস্কৃতিকারীদের লাল কার্ড দেখাতে চায়।

‘আলেম হয়ে জালেমের সঙ্গে কিভাবে সম্পর্ক হয়’ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মনির হোসেন কাশেমীকে উদ্দেশ্য করে এমনই প্রশ্ন করেছেন একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে কাশেমীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এখানে যারা প্রার্থী হয়েছেন এর মধ্যে একজন জোট থেকে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি সম্মানিত আলেম। আলেম ওলামাকে অনেক সম্মান করি এবং তারাও আমাকে অনেক ভালোবাসে। সেজন্য আমি ধর্মকর্ম ঠিকমতোন করার চেষ্টা করি এবং ওনাদের সবসময় সম্মান দেওয়ার চেষ্টা করি। উনি যেহেতু আলেম তার বিরুদ্ধে কথা বলতে আমার বুক কাঁপবে। কিন্তু প্রকৃত কথা বলে না গেলে সমস্যা। আলেম ওলামায়ের মধ্যে ভালো মন্দ আছে। উনি যে নির্বাচন করছেন এই এলাকার সব আলেম ওলামা তাকে পছন্দ করেন। অধিকাংশই তাকে পছন্দ করেন না। সে বলেছিল, যদি আমি ধানের শীষ প্রতীক না পাই তাহলে আমি নির্বাচন করবো না। তিনি অনেক চেষ্টা করেছিলেন ধানের প্রতীক নেওয়ার জন্য। আইন তা হতে দেয় নি। এরপর সে চেষ্টা করেছিল বিএনপি নেতাদের ধরে নিজের দল থেকে সরে গিয়ে, রিজাইন করে ধানের শীষ নেওয়ার জন্য। দল বলেছে সেটা হবে না। নিরুপায় হয়ে তিনি এখন খেজুরগাছ তার দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তাহলে তিনি তার ওয়াদা বরখেলাপ করেছেন। একজন আলেম হয়ে যদি ক্ষমতার জন্য তার জবার নষ্ট করতে হয় আমি তাহলে তার বিষয়ে আর কিছু বলবো না। দ্বিতীয়ত, এই নির্বাচনী এলাকার সন্ত্রাসী, সবচেয়ে বড় চাঁদাবাজ, সব চাইতে বেশি নেশার সঙ্গে জড়িত, জমি দখলকারী, শিল্পকলকারখানা ব্যবসা দখলকারী, ভূমি দস্যু, তেলচোর এদের নিয়ে তার প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাহলে সে যদি নির্বাচিত হয় তার আশেপাশে ভূমিদস্যুরা, চোরেরা নিশ্চয়ই তার শক্তি ব্যয় করে এই এলাকায় একটা ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করবে। তার আশেপাশে যারা আছেন যাদের মানুষ ভয় পায় তাদের কাছে তো মানুষ জিম্মী হয়ে যাবে। আলেম হয়ে জালেমের কিভাবে সম্পর্ক হয়? আলেমের সঙ্গে যদি আরও ১০জন আলেম থাকতো তাহলে না হয় মানুষ বিবেচনা করে দেখতো এই স্বর্ণলতা কিংবা বসন্তের কোকিলকে ভোট দেওয়া যায় কিনা। সেজন্য সারা ফতুল্লাবাসী তাকে প্রত্যাখান করেছে। আমরা যারা প্রার্থী হয়েছি আমাদের মধ্যে কনটেস্ট হবে। কিন্তু তার সঙ্গে কোনো কনটেস্ট নাই। বিএনপির জন্য সে পরগাছা।

‍ভূমিদস্যু ও সাংবাদিকদের নির্মম নির্যাতন ও মারধর করা ব্যক্তিকে মনির হোসেন কাসেমীর পাশে দেখা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াত এনসিপি জোটের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল আমিন। শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ ৪ আসন এলাকায় নির্বাচনী গণমিছিল পূর্বে মন্তব্যে এ কথা বলেন আবদুল্লাহ আল আমিন।

শুক্রবার ভূইগড়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন আবদুল্লাহ আল আমিন। গণমিছিলের পূর্বে নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চায় সাংবাদিকরা। এসময় তিনি বলেন, ‘কোন কোন প্রার্থী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের পাশে নিয়ে ভোট চাইছেন। আবার একজন আলেম সাংবাদিকদের উপর হামলা চালিয়েছে এমন ব্যক্তিদের পাশে নিয়ে ভোট চাচ্ছে। আমরা মনে করি কে কতটুকু জনগনকে দিবেন তা তাদের কাজকর্মে বোঝা যায়। জনগন ইনশাআল্লাহ সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন। জনগন সৎ, যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্ব চায়। তারা চায় দেশের পরিবর্তন হোক। এই দেশে আর কখনও কোন সন্ত্রাসী, ফ্যাসিস্ট, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজরা সুযোগ না পায় সেটাই জনগন চায়।’

এর আগে, খেজুর গাছ প্রতীকে নির্বাচন করা মনির হোসেন কাসেমীর পাশে দেখা যায় চিহ্নিত একজন ভূমিদস্যুকে। যিনি সাংবাদিক নির্যাতনের কারনে পরিচিত হয়েছেন দেশজুড়ে। ইতোমধ্যে তার এই অপকর্মের কারনে কৃষক দলের পদ স্থগিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় জেলও খেটেছেন তিন।