News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২

সবার নজর গিয়াসে


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম সবার নজর গিয়াসে

নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনী রাজনীতিতে এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে একজনই আর তিনি হচ্ছেন মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এই নেতা একাই যেন দুই সংসদীয় আসনের নির্বাচনী সমীকরণ পাল্টে দিয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বহিষ্কারের মুখে পড়লেও তিনি থেমে যাননি; বরং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ দুই আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমে পুরো মাঠে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছেন।

নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার শেষ প্রান্তে এসে যখন কারা এগিয়ে, কারা পিছিয়ে এই হিসাবেই সবাই ব্যস্ত, তখন ভোটারদের কৌতূহল ও আগ্রহ গিয়ে ঠেকছে গিয়াস উদ্দিনের দিকেই। কারণ তিনি একাই দুই আসনে লড়ছেন, দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে। শেষ পর্যন্ত তিনি জয়ী হবেন কি না তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আর তিনি জয়ী হলে সেটি হবে নিজ দলের প্রার্থীদের জন্য বড় এক রাজনৈতিক ধাক্কা।

ফুটবল প্রতীক হাতে মাঠে নামার মধ্য দিয়েই গিয়াস উদ্দিন নির্বাচনী রাজনীতিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন। শুরু থেকেই তার উপস্থিতি ভোটের অঙ্ককে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতীক কেবল একটি চিহ্ন নয়, বরং মাঠে সক্রিয় থাকার বার্তাই বহন করছে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, শুরুতে তিনি বিএনপির মনোনয়নেই নির্বাচন করতে আগ্রহী ছিলেন। নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৪ দুটো আসনেই মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে এক আসনে বিএনপির প্রার্থী এবং অন্য আসনে জোট প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ায় তিনি ভিন্ন পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন। দলীয় সীমার বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামেন, যেখানে কৌশল নির্ধারণের পূর্ণ স্বাধীনতা তার নিজের হাতেই থাকে।

বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের চিত্র এখন সবচেয়ে জটিল। এখানে জোট প্রার্থী স্থানীয়ভাবে ততটা পরিচিত না হওয়ায় বিএনপি ঘরানার ভোটারদের মধ্যে তৈরি হয়েছে দ্বিধা ও সংশয়। অনেকেই এখনো ঠিক করতে পারছেন না শেষ পর্যন্ত কাকে ভোট দেবেন। এই অনিশ্চয়তার জায়গাটিকেই নিজের পক্ষে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন গিয়াস উদ্দিন।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংগঠন, পরিচিতি ও মাঠের বাস্তব দখল এই তিনটি জায়গায় এখনো গিয়াস উদ্দিন শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা তাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে। ফলে সময় যত গড়াচ্ছে, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও ধীরে ধীরে তার দিকেই ঝুঁকে পড়ছে।

তফসিল ঘোষণার পর থেকেই তাকে নিয়মিত মাঠে দেখা যাচ্ছে। ছোট ছোট সভা, গণসংযোগ, নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক সবকিছুতেই তার সক্রিয় উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। রাজনীতির মাঠে তার অভিজ্ঞতাও কম নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সে সময় সিদ্ধিরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ওয়ার্ড ও ইউনিটভিত্তিক সংগঠন পুনর্গঠন এবং আন্দোলনের সময় কর্মীদের মাঠে ধরে রাখার অভিজ্ঞতা আজকের এই লড়াইয়ে তাকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে।

ঘনিষ্ঠদের ভাষ্য, এবারের নির্বাচন গিয়াস উদ্দিনের কাছে কেবল একটি আসনের প্রশ্ন নয়, বরং রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও সামর্থ্য প্রমাণের লড়াই। নেতাকর্মীদের চাপ, তৃণমূলের আবেগ এবং নিজের শক্তির ওপর বিশ্বাস সব মিলিয়েই তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠ ছাড়তে নারাজ। তার বিশ্বাস, রাজনীতির খেলার ফয়সালা হয় ভোটের দিন প্রতীক দিয়ে নয়।