এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহ আলমের ঠিকানা বিএনপিতেই হবে। তিনি জয়ী হলে আবারও বিএনপিতেই ফিরবেন। যদিও স্বতন্ত্র প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করায় তাকে বিএনপি থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি বিএনপিতেই ফিরবেন। এমনটাই মনে করেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা।
সেই সাথে মো. শাহ আলমও বিভিন্নভাবে বিএনপিতে ফেরারই ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছেন। তবে এজন্য তাকে জয়ী হতে হবে। আর ভোটের মাঠে লড়াই করে জয়ী হলে বিএনপিও তাকে ফিরিয়ে দিবে না। বরং বিএনপি তাকে সাদরে গ্রহণ করবে। সেই সাথে শাহ আলমও আবারও বিএনপির উচ্চ আসনে আসীন হবেন বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি দলীয় মনোনীত প্রার্থীর আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ায় বিএনপির দুই নেতাকে বহিস্কার করেছিলো কেন্দ্রীয় বিএনপি।
বহিস্কারপ্রাপ্ত বিএনপির দুই নেতার মধ্যে একজন হলেন মোহাম্মদ আলম যিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিলেন। বিএনপি তাদের জোটের প্রার্থীকে সুযোগ করে দেয়ার জন্য দলের একজন প্রভাবশালী নেতাকে বিসর্জন দেয়।
কিন্তু বহিস্কারের পরও মোহাম্মদ আলম নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে আসেননি। বরং ভোটের মাঠে বেশ শক্তভাবেই নিজকে জানান দিয়ে আসছেন। তবে এই বহিস্কার কিংবা বিএনপিকে নিয়ে কখনও কোনো নেতিবাচক কথা বলেননি। বরং বিএনপির আদর্শকে ধারণ করেই তিনি সহ তার অনুসারীরা ভোটের মাঠে সরব রয়েছেন। তার অনুসারীরা ভোটের মাঠে ধানের শীষে কথা বলতে গিয়ে মামলারও শিকার হয়েছেন।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন এলাকায় ভোটের মাঠে শুরু থেকেই এগিয়ে রয়েছেন মো. শাহ আলম। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই তাকে সাদরে গ্রহণ করে নিয়েছেন সাধারণ ভোটার ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। যা বিএনপি দলীয় সমর্থিত প্রার্থীর বেলায় পরিলক্ষিত হচ্ছে না। তিনি ভোটারদের কোনোরকম মনযোগই আকর্ষণ করতে পারছেন না। আর শাহ আলমের বেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বহিস্কার করেও তার থেকে ফেরাতে পারছেন না।
মো. শাহ আলম স্বতন্ত্র প্রতীর পাওয়ার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন এলাকায় সরব প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটে বেড়াচ্ছেন। সেই সাথে ভোটারাও তাকে সাদরে গ্রহণ করছেন। তিনি যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই যেন গণজোয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। দল মত নির্বিশেষে সকলেই তাকে সমর্থন করছেন। আর তার বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা প্রার্থীকে এলাকাবাসী যেন চিনছেনই না। সেই সাথে প্রার্থী তেমন সারা জাগাতে পারছেন না।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসন এলাকায় অনেক আগে থেকেই জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন মোহাম্মদ শাহ আলম। কিন্তু বারবার নির্বাচনী সমীকরণে তাকে পিছনে টেলে দেয়া হয়। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও তিনি নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসন এলাকায় তার জনপ্রিয় অবস্থান ধরে রেখেছিলেন।
বরং আগের চেয়ে তিনি আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তার নির্বাচনী এলাকায়। কারণ গত বছরের ৫ আগস্ট বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রভাবশালী নেতারা নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করে আসলেও শাহ আলম ছিলেন একেবারেই প্রভাবমুক্ত। কেউ তার বিরুদ্ধে কোনো রকমের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করতে পারবে না। একই সাথে বিভিন্ন নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করা হলেও শাহ আলমের বিরুদ্ধে কেউ চাঁদাবাজির অভিযোগ করতে পারেনি।
পাশাপাশি শাহ আলমের কোনো বাহিনী নেই। তার কোনো সন্ত্রাসী বাহিনী। অথচ বর্তমানে এমন কোনো নেতা পাওয়া যাবে না যার কোনো বাহিনী নেই। নেতারা যেখানেই গিয়ে থাকেন সেই সাথেই তার বাহিনী ঘিরে থাকেন। কিন্তু এক্ষেত্রে একবারেই ব্যতিক্রম শাহ আলম। আর এজন্যই নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসন এলাকায় তার ক্লিন ইমেজ রয়েছে। সেই সাথে সংসদ সদস্য পদে জয়ী হওয়ার মতো তার অবস্থাও রয়েছে।
তার বিপরীতে থাকা মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পারছেন না। বিএনপি দলীয় অনেক নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভও সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোহাম্মদ শাহ আলমকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও নাটকীয়ভাবে শেষ মুহূর্তে এসে ২০-দলীয় জোটের উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিলো। এবারও সেই কাজটি করেছে বিএনপি। ফলে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও মনির হোসেন কাসেমীকে মেনে নিতে পারছেন না।
এদিকে ভোটের মাঠের হিসেব অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে জয়ী হয়ে যেতে পারেন মোহাম্মদ শাহ আলম। আর ভোটের ফলাফলে জয়ী হয়ে গেলে তিনি বিএনপিতেই ফিরে যাবেন। সেই সাথে তার সাথে কাজ করতে গিয়ে বহিস্কার হওয়ার নেতাদেরও বিএনপিতে ফিরিয়ে আনবেন বলে ধরে নিচ্ছেন বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মোহাম্মদ শাহ আলম আওয়ামী লীগের প্রার্থী সারাহ বেগম কবরীর সঙ্গে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে মাত্র ২ হাজার ১০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন।


































আপনার মতামত লিখুন :