News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২

বাঁচা মরার লড়াইয়ে বিএনপির বিদ্রোহীরা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম বাঁচা মরার লড়াইয়ে বিএনপির বিদ্রোহীরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি ততই প্রবেশ করছে এক অস্থির ও বহুমাত্রিক সংঘাতের পর্বে। দলীয় সিদ্ধান্ত, জোট রাজনীতি, বহিষ্কার আর স্বতন্ত্র প্রার্থিতার জটিল সমীকরণে জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসন এখন রীতিমতো উত্তপ্ত মাঠে পরিণত হয়েছে। এই বাস্তবতায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত একাধিক শীর্ষ নেতা নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছেন বাঁচা-মরার সংগ্রামে।

মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক হিসাব বলছে, দলীয় পরিচয় হারালেও এই বিদ্রোহী নেতারা এখনো ভোটের অঙ্কে বড় ফ্যাক্টর। বিশেষ করে সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক প্রভাবশালী নেতা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ আলম, সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিক রেজাউল করিম এই চারজনের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলের ওপর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভালো ফল বা শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করতে পারলেই তাদের জন্য আবার দলীয় রাজনীতিতে ফেরার দরজা খুলে যেতে পারে। সেই লক্ষ্যেই তারা সবাই মাঠে মরিয়া।

জোটগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটি ছেড়ে দেয় শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে। জোটের প্রার্থী হিসেবে সেখানে মাঠে নামেন জমিয়তের জেলা সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাশেমী। তবে এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় বিএনপির একটি বড় অংশ সহজে মেনে নেয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন গিয়াস উদ্দিন ও শাহ আলম। পরবর্তীতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের বহিষ্কার করা হলেও নির্বাচনী মাঠে তারা এখনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই বিবেচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, গিয়াস উদ্দিন নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমানকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অভিজ্ঞতা, দীর্ঘদিন জেলা বিএনপির নেতৃত্বে থাকা এবং শক্ত সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক সব মিলিয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েও বড় ভিত্তি ধরে রেখেছেন। বহিষ্কারের পরও নিয়মিত গণসংযোগ ও মাঠে সক্রিয় থাকায় তার উপস্থিতি দিন দিন আরও দৃশ্যমান হচ্ছে।

একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলমও কম আলোচিত নন। কেন্দ্রীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এই নেতা ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সে সময়কার রাজনৈতিক যোগাযোগ ও স্থানীয় সমর্থকগোষ্ঠী এখনো তার পাশে রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের লড়াই আর একক কোনো প্রার্থীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি স্পষ্টতই বহু-মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনেও বিদ্রোহী রাজনীতির প্রভাব স্পষ্ট। এখানে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন বহিষ্কৃত সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, এলাকায় পরিচিত মুখ এবং ব্যক্তিগত প্রভাবের কারণে আঙ্গুরের স্বতন্ত্র প্রার্থিতা ভোটের সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনেও বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের পথ খুব একটা মসৃণ নয়। তার বিপরীতে মাঠে রয়েছেন বহিষ্কৃত নেতা রেজাউল করিম এবং আবারও আলোচনায় থাকা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। দুজনই সাংগঠনিকভাবে পরিচিত এবং নির্বাচনী অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকায় এখানে ভোট বিভাজনের সম্ভাবনা প্রবল। যা শেষ পর্যন্ত ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বহিষ্কার এখন আর রাজনৈতিক সমাপ্তি নয়; বরং অনেকের জন্য এটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। দলীয় পরিচয় হারালেও ব্যক্তিগত প্রভাব, সাংগঠনিক সম্পর্ক ও মাঠের সক্রিয়তায় ভর করে বিএনপির বিদ্রোহীরা এখনো লড়াইয়ে টিকে আছেন। শেষ পর্যন্ত কে টিকে থাকবেন, আর কে হারিয়ে যাবেন সে উত্তর দেবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনই।