নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমীকে বিজয়ী করতে কেন্দ্র দখলের প্রস্তুতির গুঞ্জন উঠেছে। স্থানীয়ভাবে কাসেমীর পক্ষে কাজ করা নেতাকর্মীরা লোকমুখে বলে বেড়াচ্ছে, নির্বাচনের দিন কুতুবপুর ও ফতুল্লা ইউনিয়নের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থাকবে কাসেমীর লোকজনের দখলে। ইতোমধ্যে এসব কথাবার্তা প্রচার করে সাধারণ মানুষকে ভীতসন্ত্রস্থ করে তুলছে। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, যেকোন প্রভাব বিস্তার ঠেকাতে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
এরই মধ্যে ফতুল্লার আওয়ামী লীগের পলাতক সন্ত্রাসীদের ফেরানো হচ্ছে। থানা বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতার আশ্রয়ে আওয়ামী লীগের দুর্ধর্ষ প্রকৃতির নেতাকর্মীরা ফিরতে শুরু করেছে। এতে করে এলাকাতে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের কেউ কেউ আবার ক্ষমতাধর নেতাদের সঙ্গে ছবি পোস্ট করছেন। কেউ আবার বিএনপি জোটের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমীর খেজুর গাছের ব্যানার ফেস্টুন সাটাচ্ছে। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের এ প্রস্থানে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্র জনতার উপর প্রকাশ্য গুলি ছোড়া নারায়ণগঞ্জের সাবেক সাংসদ শামীম ওসমানের পুত্র অয়ন ওসমানের সহোযোগি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা ইউপি সদস্য আব্দুল বাছেদ ওরফে বাছেদ মেম্বারকে আবারো এলাকাতে দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ আছে থানা বিএনপির একজন শীর্ষ নেতার সমঝোতায় তিনি এলাকাতে ফিরেছেন। তাকে পুলিশ আটক করবে না প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাছেদকে ফেরানো হয়, সঙ্গে শর্ত দেওয়া হয় যেন আসছে নির্বাচনে খেজুর গাছের পক্ষে কাজ করেন। এর আগে ২৯ জুলাই বাছেদকে ফতুল্লা পোস্ট অফিস রোডস্থ ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষধ কার্যালয়ের সামনে থেকে তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। সে ফতুল্লা ইউনিয়ন ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। ওই মামলায় কারাভোগ করে তিনি জামিনে মুক্তি পেলেও এলাকাতে দেখা যায়নি। পরে তাকে বিএনপির একজন নেতা এলাকাতে ফিরিয়ে আনেন।
স্থানীয়রা জানান, বাছেদ অয়ন ওসমানের অন্যতম সহযোগী এবং তারা বহু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এছাড়া সম্প্রতি একটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র ও সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন তারা। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুব্ধ ছিলেন।
এছাড়া একই ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদ হাসান সবুজ এলাকায় ফিরেছেন। তিনি ছাত্র জনতার বৈষম্যবিরোধী একাধিক মামলার আসামী। এলাকার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। বিএনপি নেতার কৌশলে তিনি এলাকাতে ফিরেই খেজুর গাছের পক্ষে ফতুল্লার কোতালেরবাগ সহ আশপাশ এলাকাতে ব্যানার ফেস্টুন সাটিয়েছেন। অভিযোগ আছে থানা বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা তাকে এলাকায় নিয়ে আসেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন এলাকায় কাসেমীর পক্ষে কাজ করা নেতাকর্মীরা বিভিন্ন লোকমুখে বলতে শুরু করে কেন্দ্র ও প্রশাসন সব ম্যানেজ হয়ে গেছে। নির্বাচনের দিন উপরে উপরে সব স্বাভাবিক দেখা গেলেও ভেতরে সব কাসেমীর নিয়ন্ত্রণ থাকবে। কুতুবপুর ও ফতুল্লায় বাড়তি প্রস্তুতি নিচ্ছে কাসেমীর লোকজন। ফলে জয় পেতে যাচ্ছে কাসেমী।
তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা শাহ আলমের নেতাকর্মী ও অনুসারীরা বলছেন এমন কোন কিছুরই সুযোগ নেই। নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরেই এখন বাজারে গুজব রটিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় ভীতি দেখানো হচ্ছে। প্রশাসন ইতোমধ্যে কঠোর বার্তা দিয়েছে নির্বাচন নিয়ে। ভেতরে ভেতরে কোন কারসাজি হবার সুযোগ নেই। মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো ছাড়া তাদের কোন ভালো অবস্থান নেই। সেই কারনেই এসব কথাবার্তা বলে বিভ্রান্ত করছেন তারা।
প্রায় একই মন্তব্য করেছেন স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, এবার কোনভাবেই হাসিনের মত নির্বাচন হবার সুযোগ নেই। প্রশাসন যথেষ্ট শক্ত ভূমিকা রাখছে এবং রাখবে। কেউ কেউ গুজব রটিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু কোথাও কোন অনিয়ম হলে সাথে সাথেই প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে তৎপর থাকবে। সেই সাথে সাধারণ মানুষও প্রতিহত করবে। ফলে আমরা তাদের এসব গুজব নিয়ে ভাবছি না।
সম্প্রতি ফতুল্লা থানা বিএনপি সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু এক বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা ভোটকেন্দ্র ঘেরাও করে রাখবো যতক্ষণ পর্যন্ত কাসেমীকে ডিক্লেয়ার না করবে। ডিক্লেয়ার করার পর আমরা উপজেলায় চলে আসবো।’ তার এই বক্তব্য প্রকাশিত হবার পর তীব্র সমালোচনা তৈরী হয়। টিটু কুতুবপুর অঞ্চলের নেতা হিসেবে বেশী পরিচিত। কুতুবপুর একচ্ছত্র ভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি ও চেয়ারম্যান সেন্টু। দলের বড় পদে থেকে যখন নেতা ঘোষণা দেন কেন্দ্র ঘেরাও করে ডিক্লেয়ার নিয়ে আসা হবে, তখন স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠে আদৌও সুষ্ঠু পরিবেশ থাকবে কিনা ভোটের মাঠে।
তবে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, কোন কেন্দ্রে অনিয়ম হলে বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেছে ভোট স্থগিত করে দেয়া হবে। এমনকি কোন কারনে বেশী অব্যবস্থাপনা তৈরী হলে পুরো আসনেই নির্বাচন স্থগিত করে দেয়ার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনের হাতে। ফলে কেউ যদি বিশৃঙ্খলা করতে চায় তাহলে সেটা তাদের জন্যেই বুমেরাং হবে। কোন ভাবেই ভোটের দিন ভোটের পরিবেশ খারাপ করতে দেয়া হবে না।


































আপনার মতামত লিখুন :