News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২

চ্যালেঞ্জ নিয়ে নামছেন কালাম ও সাখাওয়াত


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মার্চ ১৯, ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম চ্যালেঞ্জ নিয়ে নামছেন কালাম ও সাখাওয়াত

রমজানের ৫ দিনের মাথায় নাসিকের প্রশাসক দায়িত্ব পান বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেন খান। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শহর-বন্দর আসনে বিজয়ী হন বিএনপির আবুল কালাম। যার কারণে নতুন সরকার আমলে পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে নগরবাসী ভোগান্তি নতুন চ্যালেঞ্জে পড়েন এমপি ও প্রশাসক। তাদের দফায় দফায় বৈঠকে রমজানে নগরবাসী ভোগান্তি কমাতে পরিকল্পনা নিয়েছেন, ঈদের পর বাস্তবায়ন থাকবে দুইজনের কারিশমা। আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে যখন আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামীলীগের নেতাদের মধ্যে তখন পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়।

এদিকে রাজনীতি পরিস্থিতি যখন স্বাভাবিক তখন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী উপর দুই ঘটনা রীতিমত প্রশাসনকে চাপে রাখা হয়। দুইটি ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হয়ে পড়েন। ৯ মার্চ ভোরে নাসিক ভবনের সামনে ডিউটিরত এএসআইকে থামিয়ে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয় দুইজন ছিনতাইকারী। এর ৫ দিন পর শহরের উকিলপাড়া মাদকসেবীকে আটক করা জের ধরে ভুয়া পুলিশ স্লোগানে রেলওয়ে এসআইকে মারধরে করে একদল মাদক ব্যবসায়ীরা। এই দুইটি ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হলে নারায়ণগঞ্জ সহ পুরো দেশ জুড়ে সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

এর আগে নগরবাসী ভোগান্তি রোধে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য যৌথভাবে শহর ও বন্দরের সকল সমস্যা সমাধানে কাজ করবেন বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। একটি অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের উপস্থিতিতে তিনি আরও বলেন, আগে উত্তর মেরু-দক্ষিণ মেরুর মতো বিভাজনের কারণে অনেক ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতো এবং উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতো। কিন্তু এবার সুযোগ রয়েছে। সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সরকারি দলের এবং তিনি নির্বাচিত সংসদ সদস্য হওয়ায় যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের যেসব স্থানে সমস্যা রয়েছে তা দূর করা হবে। নগরবাসীর পরামর্শ গ্রহণ করে যতটুকু সম্ভব উন্নয়নমূলক কাজ করার চেষ্টা করবেন বলেও তিনি জানান।

প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে যে সমস্যাগুলো রয়েছে সেগুলো সমাধানে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জনগণের পক্ষ থেকে তিনি প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) নবনিযুক্ত প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোঃ সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ শহরের হকার সমস্যা এখন একটি অভিশপ্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল দুষ্কর হয়ে পড়েছে। আমি নগরবাসীর স্বার্থে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবই। শহরের অভিশাপ মুক্ত করতে চাই, এতে নগরবাসী সকলের সহযোগিতা চাই। শহরকে যানজটমুক্ত করার অঙ্গীকার প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক নগরী গড়তে হলে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা জরুরি। হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান বা বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে, তবে রাস্তার ওপর কাউকে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই বিষয়টি আমার অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।

সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ লেখনীর মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। হকার উচ্ছেদ ও শহরের শৃঙ্খলা ফেরাতে আপনাদের লেখনী এবং সহযোগিতা একান্ত কাম্য। আপনারা জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরলে আমাদের কাজ করতে সুবিধা হবে।

শহরকে যখন গুছানো পরিস্থিতিতে চলমান তখনই ৯ মার্চ নারায়ণগঞ্জ শহরে দায়িত্ব পালন করার সময় এক এএসআইয়ের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া গুলিসহ সরকারি অস্ত্রটি ছিনতাই করা হয়। এরপর দিন রাত একাধিক অভিযানের পর উদ্ধার করে পুলিশ। বন্দর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনের গলি থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসিনুজ্জামান। গ্রেপ্তারকৃত হলেন- নগরীর দেওভোগ পানির ট্যাংক এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে মো. মিশাল (৩০)।

পাচঁদিনের মাথায় ১৫ মার্চ শহরের গলাচিপা রেললাইন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন রেলওয়ে পুলিশের দুই সদস্য। রোববার বিকেলে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। আহত দুজন হলেন রেলওয়ে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান ও কনস্টেবল আরিফ হোসেন। পুলিশের দাবি, মাদকবিরোধী অভিযানের সময় আটক দুই ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নিতে তাঁদের সহযোগীরা হামলা চালান। তবে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, নিরপরাধ দুই ব্যক্তিকে আটক করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতা পুলিশের ওপর চড়াও হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রোববার বিকেলে শহরের গলাচিপা রেললাইন এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে দুই ব্যক্তিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন রেলওয়ে পুলিশের দুই সদস্য। এ সময় ওই দুই ব্যক্তি পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করেন এবং সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন। চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে একদল লোক আটক দুজনকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে পাশের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিয়ে যায়। সেখানে পুলিশের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন পুলিশ সদস্যদের ‘ভুয়া পুলিশ’ বলে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে আহত অবস্থায় সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মিজানুর রহমান ও কনস্টেবল আরিফ হোসেন।