News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২

এবারও কারাগারে ঈদ করতে হবে আইভীকে


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মার্চ ১৯, ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম এবারও কারাগারে ঈদ করতে হবে আইভীকে

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এক সময়ের অত্যন্ত প্রভাবশালী ও আলোচিত মুখ ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, টানা দুই দশকের বেশি সময় ধরে সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ—সব মিলিয়ে তিনি নিজস্ব এক রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেছিলেন। কিন্তু সময়ের পালাবদলে সেই পরিচিত দৃশ্যপট এখন ভিন্ন। বর্তমানে তিনি কারাবন্দি, আর এবারও তাকে ঈদের আনন্দ কাটাতে হবে কারাগারের ভেতরেই। কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রায় নয় মাস ধরে বন্দি রয়েছেন আইভী।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর পর থেকেই তার এই কারাবাস শুরু। গত বছরের কোরবানির ঈদের মতো আসন্ন ঈদুল ফিতরও তাকে বন্দি অবস্থায় কাটাতে হচ্ছে। ফলে মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত তার জন্য উৎসব মানেই হয়ে উঠেছে সীমাবদ্ধতার আরেক নাম।

গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ছিল নাটকীয় ও উত্তেজনাপূর্ণ। গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসভবন ‘চুনকা কুটি’ থেকে তাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর আগে রাতভর বাড়ির আশপাশে উত্তেজনা বিরাজ করে। তার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে সমর্থকরা বাড়ির সামনে ভিড় জমায় এবং এক পর্যায়ে আশপাশের সড়ক অবরোধ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বাড়তি তৎপরতা চালাতে হয়।

দীর্ঘ আলোচনার পর ভোরের দিকে আইভী নিজেই পুলিশের গাড়িতে ওঠেন। সে সময় তিনি সাংবাদিকদের কাছে জানান, তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে তা তিনি পরিষ্কারভাবে জানেন না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কথা বলা হলেও সেটি তাকে দেখানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবুও আইনের প্রতি সম্মান রেখে তিনি পুলিশের সঙ্গে যাচ্ছেন বলে জানান।

গ্রেপ্তারের মুহূর্তে ব্যক্তিগত শোকের বিষয়টিও সামনে আনেন আইভী। ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর বেদনা তখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি-এমন অবস্থায় তাকে আটক করা হয়েছে বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কথা তুলে ধরে বলেন, তিনি কখনো প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেননি; বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন।

তার আইনজীবীর দাবি, দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পরও তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি ছিল না। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে যেসব মামলায় তাকে জড়ানো হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তারা। বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইভীর অনুপস্থিতি শুধু একটি ব্যক্তির কারাবাস নয়; এটি নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে একটি বড় শূন্যতা তৈরি করেছে। তার দীর্ঘদিনের প্রভাব ও জনপ্রিয়তার কারণে নগর রাজনীতির ভারসাম্য অনেকটাই তার ওপর নির্ভরশীল ছিল। ফলে তাকে ছাড়া বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।

এদিকে, দীর্ঘ সময় পার হলেও তার মামলাগুলোর অগ্রগতি কিংবা মুক্তির বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বার্তা মেলেনি। কারাগারের ভেতরে সময় গড়ালেও বাইরে তাকে ঘিরে আলোচনা থেমে নেই। একসময়কার প্রভাবশালী এই নেত্রীর জন্য এখনকার সময়টা নিঃসন্দেহে কঠিন এক অধ্যায়। ভবিষ্যতে তার রাজনৈতিক পথ কোন দিকে মোড় নেবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।