News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২

এবারও আত্মগোপনে ঈদ কাটবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মার্চ ১৯, ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম এবারও আত্মগোপনে ঈদ কাটবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের

গত বছরের মতো এবারও পবিত্র ঈদুল ফিতর নারায়ণগঞ্জে ভিন্ন বাস্তবতায় কাটাতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। রাজনৈতিক অস্থিরতা, মামলা ও গ্রেফতার আতঙ্কে অনেকেই রয়েছেন আত্মগোপনে, আবার কেউ কাটাবেন ঈদ কারাগারের ভেতরেই। ফলে উৎসবের আনন্দ যেন তাদের জন্য পরিণত হয়েছে অনিশ্চয়তা ও শঙ্কার সময় হিসেবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন আসে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের পতনের পর তৃণমূল থেকে কেন্দ্র সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে নেমে আসে চরম অস্থিরতা। নারায়ণগঞ্জও এর বাইরে নয়। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে প্রাণহানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া অসংখ্য মামলায় অভিযুক্ত হয়ে অনেক নেতাকর্মী পলাতক জীবনযাপন করছেন।

ইতোমধ্যে জেলার বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী কারাগারে রয়েছেন। একইভাবে সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীও রয়েছেন বন্দি অবস্থায়। এতে স্থানীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাঠামো কার্যত ভেঙে পড়েছে।

দলটির তৃণমূল পর্যায়ের কিছু নেতাকর্মী এলাকায় থাকলেও তারাও প্রকাশ্যে সক্রিয় নন। অনেকেই গোপনে অবস্থান করছেন, আবার কেউ কেউ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কিংবা বিদেশে চলে গেছেন। মাঠের রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে তাদের উপস্থিতি।

নেতাকর্মীদের এই অনুপস্থিতি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে তাদের পরিবারে। ঈদের মতো আনন্দঘন সময়েও উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ভর করেছে পরিবারগুলোর মধ্যে। স্বজনদের অনিশ্চিত অবস্থান ও নিরাপত্তাহীনতায় ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে তাদের কাছে।

অন্যদিকে, কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা এলেও রাজপথে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। গ্রেফতার ও মামলার ভয়ে প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারছেন না নেতাকর্মীরা। ফলে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব সংকটে ভুগছে। ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকা নেতাকর্মীদের একত্রিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো মাঠ দখলে রাখলেও আওয়ামী লীগের পক্ষে পুনরায় সংগঠিত হওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে নারায়ণগঞ্জকে আওয়ামী লীগের জন্মভূমি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অথচ সেই জেলাতেই এখন দলটির কার্যক্রম প্রায় নিস্তেজ। কিছুদিন আগেও যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, নানা কর্মসূচিতে সরব উপস্থিতি ছিল, তারাই এখন আত্মগোপনে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংকট কাটিয়ে উঠতে দলটির প্রয়োজন সুসংগঠিত নেতৃত্ব ও সময়োপযোগী কৌশল। তবে বর্তমান বাস্তবতায় সেই পথ সহজ হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।