নারায়ণগঞ্জ জেলাকে ‘বিশেষ জেলা হিসেবে এ ক্যাটাগরি’ ঘোষণা ও অন্তর্ভুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু। একই সঙ্গে তিনি নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি।
গত ২৮ জুন দেওয়া চিঠিতে দিপু ভূইয়া লিখেন, নারায়ণগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে সারাদেশে সুপরিচিত। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন, রপ্তানি বাণিজ্য ও জাতীয় রাজস্ব আয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার অবদান অনস্বীকার্য। প্রাচ্যের ডান্ডি খ্যাত নারায়ণগঞ্জ যুগ যুগ ধরে দেশের শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশের গার্মেন্টস শিল্প, হোসিয়ারী, টেক্সটাইল, সিমেন্ট, স্টিল ও জাহাজ নির্মাণসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের একটি বড় অংশ নারায়ণগঞ্জকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে। পাট শিল্প ও ভোগ্য পন্য থেকে শুরু করে বা গার্মেন্টস যখন যে শিল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সর্বাধিক ভূমিকা রেখেছে তা নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রিক ছিল।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২২ সালের সর্বশেষ জনশুমারি প্রতিবেদন এবং বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, নারায়ণগঞ্জ জেলায় নিবন্ধিত বড় ও মাঝারি শিল্প ইউনিটের সংখ্যা প্রায় ২৪০৯ টি তবে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প এবং নিয়মিত-অনিয়মিত বা নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত হোসিয়ারি ও নিটিং কারখানা সহ হিসাব করলে এই সংখ্যা ১০ হাজারের অধিক রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩৯ লাখ ৮ হাজার ৩১৯ জন এবং জাতীয় জিডিপিতে প্রায় ৮ থেকে ৯ শতাংশ অবদান রেখে নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি বা অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলার পর পরেই জাতীয় জিডিপিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ৩য় স্থানে আছে।
এ জেলার ভৌগোলিক অবস্থান, শিল্প কারখানার ব্যাপক বিস্তার, ব্যবসা-বাণিজ্য আমদানি-রপ্তানি ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখায় ও রাজধানী ঢাকার সবচেয়ে নিকটে এবং রাজধানীর সাথে সরাসরি সংযোগ থাকার কারণে যথাযথ মূল্যায়নের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জকে একটি "বিশেষ জেলা হিসেবে এ ক্যাটাগরির" অর্ন্তভুক্ত করা নারায়ণগঞ্জ বাসীর সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নদী রক্ষা, শিল্প বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জনসেবার ক্ষেত্রে বিশেষায়িত পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ এই জেলার উপর নির্ভশীল হলেও প্রয়োজনের তুলনায় নাগরিক সুবিধা অত্যন্ত সীমিত। বিভিন্ন শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও উপার্জনের জন্য বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ এই জেলায় বসবাস করে থাকেন। তাই নারায়ণগঞ্জ জেলাকে "বিশেষ জেলা হিসেবে এ ক্যাটাগরির অন্তর্ভূক্ত করা অত্যন্ত জরুরি এবং এ জেলার শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ধারাবাহিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে বিশেষ প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কাঠামোর আওতায় আনা প্রয়োজন ।




































আপনার মতামত লিখুন :