নারায়ণগঞ্জ জেলার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের তদারকি ও পরামর্শ দিবেন সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ (মুগদা, সবুজবাগ ও খিলগাঁও) আসনে নির্বাচিত বিএনপির এমপি, বর্তমানে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব ইতোমধ্যে ফতুল্লা আলীগঞ্জ ও নদীপথে নারায়ণগঞ্জ শহর পরিদর্শন করে গেছেন।
এবার তিনি নারায়ণগঞ্জ ৫টি আসনে সরকার ও বিরোধীদলের এমপি, নাসিক, জেলা পরিষদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসন নিয়ে জেলার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের তদারকি ও পরামর্শ দিবেন।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী হুইপদের দায়িত্ব বণ্টন প্রজ্ঞাপনে তাকে নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলা তদারকি দায়িত্ব পান।
দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণসহ সার্বিক সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ৩০ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী গঠিত সরকার গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়ন বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে তা লুটপাট করা হয়েছে। এসব অর্থের একাংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
লুটপাটের অর্থের অন্য অংশ দেশের অভ্যন্তরে মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।
সরকার তথা মন্ত্রিপরিষদ দেশে উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জাতীয় নিরাপত্তাসহ রাষ্ট্র পরিচালনার সব কার্যক্রমের জন্য জাতীয় সংসদ ও জনগণের কাছে সমষ্টিগতভাবে দায়বদ্ধ। টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতি নির্মূল বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক জরুরি কর্মসূচি বলেও এতে বলা হয়।
প্রজ্ঞাপনে সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ এবং রুলস অব বিজনেসের সংশ্লিষ্ট বিধানের উল্লেখ করে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো ক্ষেত্রে বা ক্ষেত্রসমূহে রুলস অব বিজনেস থেকে বিচ্যুতির অনুমতি দিতে বা তা মঞ্জুর করতে পারেন। এসব বিষয় মন্ত্রিসভায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন মামলা নং ৩৫১২/২০০৩-এর রায়ের মর্ম অনুযায়ী এ ধরনের দায়িত্ব বণ্টন সরকারের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব না করে সংশ্লিষ্ট জেলা বা জেলাগুলোর আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলী তদারকি ও সমন্বয় করবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা।
দায়িত্বপ্রাপ্তরা মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং গুরুতর অপরাধ দমনসহ জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারবেন। একই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের তদারকি ও পরামর্শ দেবেন তারা। প্রয়োজনবোধে জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণ ও পরামর্শ দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের জন্য।





































আপনার মতামত লিখুন :