News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ফাউন্ডেশন নিয়ে রাকিবের পর মাসুদুজ্জামান


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম ফাউন্ডেশন নিয়ে রাকিবের পর মাসুদুজ্জামান

নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ডে বেশ আলোচিত হয়ে উঠে মোস্তাফিজুর রহমান ফাউন্ডেশন। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি ও বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের বাবার নামে গড়ে উঠা এ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম। গত এক বছর ধরে চিকিৎসার অভাবে থাকা লোকজনদের পাশে দাঁড়ানো, অসহায় শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা, বন্যার্তদের পাশে মানবিক সহায়তা, রোজার ঈদে অসহায়দের ঈদ সামগ্রী প্রদান, বস্ত্র বিতরণ, কোরবানীর ঈদের গরুর মাংস বিতরণ সহ নানা কারণে আলোচনায় ফাউন্ডেশন। এবার আরেকটি ফাউন্ডেশনের সূচনা হয়েছে। এর উদ্যোক্তা মডেল গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুদুজ্জামান। নাম দিয়েছেন ‘ডিয়ার মোস্তফা ফাউন্ডেশন’। মাসুদের দাবী ১৮ বছর ধরে তিনি এ ফাউন্ডেশনের রেজিস্ট্রেশন চাইলেও দেওয়া হয়নি। গতমাসে দেওয়ার পর শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

সবশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী মাসুদুজ্জামান দলের প্রাথমিক ডাকও পেয়েছিলেন। কিন্তু শেষতক তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে আবুল কালামকে বিএনপি মনোনীত করেন।

নির্বাচনের আগেই শহরের বরফকল এলাকাতে মাসুদুজ্জামানের ডাকা এক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নজরুল ইসলাম আজাদ। তাদের মধ্যে সেদিন ‘ভাইয়ের’ সম্পর্ক দেখেছিলেন নেতাকর্মীরা।

অপরদিকে রাকিবুল ইসলাম রাকিব নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে আগ্রহী। অনুসারীরা তাকে মেয়র পদে লড়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন।

তবে রাকিব বলছেন, তিনি জনসেবামূলক কাজের মধ্যে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান। বাকি সিদ্ধান্ত জনগণের।

নিজের বাবার নামে গড়া ফাউন্ডেশন (মোস্তাফিজুর রহমান ফাউন্ডেশন) এর মাধ্যমে ইতোমথধ্যে রাকিব বেশ আলোচনায় এসেছেন। সবশেষ এসএসসি পরীক্ষা উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কেন্দ্রের সামনে সেবামূলক ক্যাম্প স্থাপন করে তিনি এবার শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেন।

রোজার মধ্যে অসহায়দের ইফতার বিতরণ করেন তিনি। রোজার ঈদের আগে হাজার হাজার মানুষকে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেন তিনি। অসহায় মানুষ এসব সামগ্রী পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এছাড়াও চিকিৎসার অভাবে থাকা কয়েকজনকে নগদ অর্থ তুলে দেন রাকিব।

প্র্যো একটিভ হাসপাতালে এক শিশুর মৃত্যুর পর টাকার অভাবে লাশ নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না পরিবারের। খবর পেয়ে রাকিব টাকা পাঠিয়ে সেটার সমাধান করেন।

অনুসারী এও বলছেন, রাকিব গত কয়েক বছর ধরে সিটি এলাকার বিভিন্ন স্থানে অসহায়দের পাশে ছিলেন। কখনো আর্থিক অনুদান কিংবা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তিনি। কিন্তু এগুলো প্রকাশ ও প্রচার করা হয়নি। বরং নিভৃতে কাজ করেছেন তিনি। সেসব কারণেই সিটি করপোরেশন এলাকাতে অনুসারীরাও চান রাকিব সামনে আসুক।

অনুসারীরা বলছেন বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির নির্যাতিত ও বিপদগ্রস্ত নেতাকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন ভরসারস্থল। এখন প্রতিদান স্বরূপ এসব নেতাকর্মীরা রাকিবকে সামনে আনতে শুরু করেছেন।

এদিকে ১৮ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জে সমাজসেবামূলক সংগঠন 'ডিয়ার মোস্তফা ফাউন্ডেশন'-এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

ডিয়ার মোস্তফা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফাউন্ডেশনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন সমাজসেবক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব মাসুদুজ্জামান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে মাসুদুজ্জামান বলেন,  একটি সুন্দর মানবিক সমাজ নির্মাণ ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত হয়ে কাজ করার লক্ষ্য নিয়েই ‘ডিয়ার মোস্তফা ফাউন্ডেশন’-এর যাত্রা শুরু হলো। ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করে অসহায় মানুষদের কল্যাণে কাজ করার জন্য আমাদের পারিবারিক পরিকল্পনা ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় প্রায় ১৮ বছর পূর্বে ডিয়ার মোস্তফা ফাউন্ডেশন’ নামে সকল দলিল প্রস্তুত করে জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে বলা হলো মোস্তফা নামে ছাড়পত্র দেওয়া যাবে না। কারণ এতে ‘জঙ্গীবাদের’ গন্ধ পাওয়া যায়। আমি তাদের জানালাম  ফাউন্ডেশন করলে ডিয়ার মোস্তফা নামেই হবে- না হলে করবো না। এর পর এতদিন অপেক্ষার পর সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আমরা ডিয়ার মোস্তফা ফাউন্ডেশন নামেই রেজিস্ট্রেশন পেয়েছি। এই যাত্রা পথে আমি আমার পরিবার, আত্মীয় ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তাদের প্রেরণা আমাকে এতদুর ধৈর্য্য নিয়ে সফল হতে উৎসাহিত করেছে। আমি চাই আমার পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম ডিয়ার মোস্তফা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে বিস্তৃত করবে- এগিয়ে নিয়ে যাবে।”

বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, নবীজি (স.) কে স্নেহ-সম্মান করে  ‘প্রিয় মোস্তফা’ নামে ডাকা হতো। সেখান থেকে এই নামের প্রতি আমার আগ্রহ হয় এবং এ প্রিয় নবীর সানে ডিয়ার মোস্তফা নামেই- ফাউন্ডেশন এর নামকরণ করি।

ডিয়ার মোস্তফা ফাউন্ডেশন শিক্ষা ও মেধা বিকাশ, স্বাস্থ্যসেবা, মানবিক সহায়তা, নিরাপদ পানি, কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরতা, নারী ও শিশুর উন্নয়ন, পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা, যুব ও ক্রীড়া উন্নয়ন, দুর্যোগ ও জরুরি সহায়তাসহ মানবিক সমাজ বিনির্মানে প্রয়োজনীয় কাজ সাধ্যমত করবে।