আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরতে চলেছেন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমন ঘোষণায় আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনার ফিরে আসার দাবি ও বিচারিক রায়কে অবৈধ দাবি করে নানান কর্মসূচি পালন করছেন। এতে করে তারা নারায়ণগঞ্জের বেশ কিছু এলাকায় ঝটিকা মিছিল করেছে। বেশ কয়েকটি যানবাহনে আগুন দেওয়ার মত ঘটনাও ঘটেছে।
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে কেন্দ্রের ঘোষণা অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জের মহানগর যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল যৌথ ভাবে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
ওই বিক্ষোভ মিছিল থেকে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নৈরাজ্যের আশ্রয় দাতা হিসেবে নিজ দলের সিনিয়র নেতাদের দিকে আঙ্গুল তুলেছেন। যদিও ওই সমাবেশ থেকে কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি তবে নিজ দলের সিনিয়র নেতাদের ইঙ্গিত করে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। যা ইতোমধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা কাকে ইঙ্গিত করে এমন কঠোর বক্তব্য রেখেছে।
মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল বলেন, ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার সহযোগিরা তাদের পাচার করা দুর্নীতির অবৈধ টাকা দিয়ে কিছু নিম্ন শ্রেণির লোক দিয়ে তাদের কর্মী দিয়ে নাশকতা করিয়ে তারা প্রমাণ করতে চায় তাদের নেত্রী এই ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরত আসবে। তারা একটি প্রত্যাক্ষিত ও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া একটি দল বাংলাদেশে শেখ হাসিনার আর কোন ঠিকানা হবে না। আমরা ১৭ বছর রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি কোনোদিন পালিয়ে যাইনি। তারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। তারা এবং তাদের প্রেত্মাতা অর্থ দিয়ে আপনারা দেখবেন ৫ আগস্টের নব্য কিছু বিএনপির লোক রাজনীতি করতে চায় নারায়ণগঞ্জে তারা ১৭ বছর কোথায় ছিলো। ১৭ বছরে কয়বার জেল খেটেছে কয়বার আন্দোলন করেছে, কয়টা মামলা খেয়েছে প্রমাণ দেক। আমরা রাজপথে পরিক্ষিত ছিলাম ভবিষ্যতেও থাকবো। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যেকটি নির্দেশনা যুবদল, সেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে। যারা রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছে। যারা দল বিক্রি করে যুবদল ছাত্রদলের নাম বিক্রি করে যারা ৫ তারিখের পরে রাজনীতি করতে চায় তাদেরকে হুঁশিয়ার করে দিতে চায়। রাজপথে আমরা ছিলাম আমরাই থাকবো। অপরাধ যে করবে তার পরিণতি মানুষ দেখবে। শেখ হাসিনার ফিরে আসার কোন সুযোগ নাই। আর আওয়ামী লীগে কর্মী যারা টাকা খেয়ে রাজপথে নেমে নাশকতা করবেন আমরা কিন্তু আপনাদের ছেড়ে দিবোনা। আপনাদের পেছনে যারা আছেন তাদেরকে খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনা হবে।
মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন রানা বলেন, বিচারকার্য যাতে ব্যাহত হয় এজন্য তারা ডিসেম্বরকে টার্গেট করেছে। যাতে করে তাদের রায় না হয় বিচারিক কার্যক্রম গুলো আটকে যায়। এ জন্য তারা নতুন করে অ্যাটাম নিয়েছে যে আপা আসছে। আসলে চশমা পড়া বুবুজান কখনোই আসবেন না। বাইপার হাসিনা বাংলাদেশে একজন দেশপ্রেমিক বেঁচে থাকা অবস্থায় তাকে আর কেউ গ্রহণ করবে বলে আমার মনে হয়। কারণ সে নির্যাতনে ৭১এর পাক হানাদার বাহিনীকেও হার মানিয়েছে। সুতরাং মানুষ এটা ভুলে যাবেনা। হাসিনাকে প্রত্যাখান করেছে। তবে হ্যা আমাদেরকে ভাল কাজ করতে হবে। তা নাহলে এই হাসিনার প্রত্যাখানকে মানুষ ভুলে যাবে। আমরাও যেন টেন্ডারবাজি না করি, আওয়ামী লীগের দোসরদের সাইড না দেই। তাদের বিভিন্ন ব্যবসা বাণিজ্য অনেক বিএনপির আত্মীয় স্বজনরা চালাচ্ছে। তারাই টাকার জোগান দিচ্ছে। তাদের ফেলে যাওয়া কন্টাকটরি কাজ গুলো বিএনপির লোকজনরাই করছে। এটা আসলে দুঃখজনক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অনুরোধ করবো এই সঠিক তথ্য গুলো যেন পিএম এর কাছে পাঠানো হয়। আমি সাংবাদিকদের ভাইদের অনুরোধ করবো আপনারা আমাদের তথ্য দিবেন। আমরা বলেছিলাম আমরা আওয়ামী লীগকে মাফ করে দিয়েছি। কিন্তু সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি করা হলে ঘর থেকে টেনে হিচড়ে নিয়ে আসবো এক চুলও ছাড় দিবোনা।
মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব শাহেদ আহম্মেদ বলেন, গত ১৭ বছর নারায়ণগঞ্জে ওসমানীয় সাম্রাজ্যের যে সন্ত্রাস তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি আঙ্গুল তোলার মত সাহস আমরা ছাত্রদলের সাবেক নেতৃবৃন্দরাই সবার আগে তুলেছিলাম। তৎকালীন সময়েও এই শহীদ মিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে কে শামীম ওসমান কে অয়ন ওসমান এগুলোর পরোয়া করি নাই। হাসিনা সরকার অনেক প্রলোভন, প্রেশার ষড়যন্ত্র আমাদের দমাতে পারেনি। বর্তমান একটি অরাজকতার ষড়যন্ত্র হচ্ছে এর থেকেও ভয়ঙ্কর বিষয় হলো আমাদের অর্থনৈতিক ভাবে কিছু লোভী নেতৃবৃন্দকে দিয়ে অভ্যন্তরিন সাংগঠনিক বিষয় গুলো দুর্বল করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলছে। ওসমানী সাম্রাজ্যের যে পতন নারায়ণগঞ্জবাসী যেভাবে করে দিয়েছে আমি বিশ্বাস করি তারা ঘুমাতে পারেনা। তাদের বিচার অলৌকিক ভাবেই আল্লাহ করে দিয়েছি। তাদের সেই সৎ সাহস নাই আমেরিকায় বসে বসে পাকনা বক্তব্য দেওয়া ছাড়া। তাদের অনেক অর্থ, তাদের দুর্নীতির অর্থ দিয়ে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলকে দুর্বল করার চেষ্টা করতে পারে।
গোয়েন্দা সংস্থা দৃষ্টি আকর্ষন করে তিনি বলেন, আপনারা সঠিক তথ্য প্রধানমন্ত্রী দপ্তরে দেন। নারায়ণগঞ্জ মহানগরের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ভাবে অর্থ দিয়ে ফ্যাসিস্টরা ঢাকায় বসে ষড়যন্ত্র করছে। এই যে ষড়যন্ত্রে যারা লিপ্ত সে যত সিনিয়রই হোক আর যত বড়ই নেতা হোক তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে।


































আপনার মতামত লিখুন :