জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই জীবিকায়ন এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় জলবায়ু সহনশীল ক্যাম্পাস গড়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবে আওতায় মাশরুম চাষ বিষয়ক ৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের ২য় ব্যাচ শুরু হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে ২য় ব্যাচে মোট ৪৫ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মাশরুম চাষের আধুনিক ও ব্যবহারিক পদ্ধতি, চাষের উপযোগী পরিবেশ তৈরি, পরিচর্যা, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন ও সংরক্ষণ সহ বাজারজাতকরণ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা প্রদান করা হচ্ছে।
বর্তমানে সীমিত জমি, স্বল্প পুঁজি এবং তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ক্ষেত্রে মাশরুম চাষ সম্ভাবনাময় একটি কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ। অল্প জায়গায় এবং তুলনামূলক কম খরচে মাশরুম উৎপাদন করা সম্ভব হওয়ায় এটি বেকার ও কর্মপ্রত্যাশী জনগোষ্ঠীর জন্য আত্মকর্মসংস্থানের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি মাশরুম চাষে কৃষিজমির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হওয়ায় এটি জলবায়ু সহনশীল ও টেকসই জীবিকার একটি উপযোগী ক্ষেত্র।
সহনশীল ক্যাম্পাস গড়ার উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণ ও কর্মপ্রত্যাশীদের প্রচলিত কর্মসংস্থানের বাইরে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, মাশরুম চাষ প্রশিক্ষণ তারই একটি বাস্তবভিত্তিক প্রয়াস। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা নিজ উদ্যোগে মাশরুম উৎপাদন শুরু করার পাশাপাশি পরিবারের আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম ফয়েজ উদ্দিন জানান, স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের বাস্তবমুখী ও আয়মুখী কাজে সম্পৃক্ত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও অধিক সংখ্যক তরুণকে আত্মকর্মসংস্থানের আওতায় আনার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ একদিকে যেমন বেকারত্ব হ্রাস ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে টেকসই ও সহনশীল জীবিকায়নের পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।






































আপনার মতামত লিখুন :