জন্মদিন মানেই কেক কাটা, আনন্দ-উৎসব আর জমকালো আয়োজন এমন প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের এক দম্পতি। তাদের আদরের মেয়ে আরিবাহ্ ইসলামের দ্বিতীয় জন্মদিন উপলক্ষে তারা বেছে নিয়েছেন এক ভিন্নধর্মী উদযাপন।
মেয়ের দ্বিতীয় জন্মদিনে মা-বাবা অংশ নিয়েছেন রক্তদান কর্মসূচিতে এবং একইসঙ্গে করেছেন বৃক্ষরোপণ। জমকালো আয়োজন বা বাহ্যিক উৎসবের পরিবর্তে তারা বিশ্বাস করেন, বিশেষ দিনগুলোকে সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানোই হতে পারে সবচেয়ে সুন্দর উদযাপন।
এ বিষয়ে মেয়ের মা আসমাউল হুসনা বলেন, আমরা সবসময় চেয়েছি আমাদের মেয়ের জন্মদিন শুধু আনন্দের উপলক্ষ না হয়ে; ভালো কাজেরও একটি উপলক্ষ হোক। আমরা নিয়মিত রক্তদান করি, কারণ বিশ্বাস করি একটি ব্যাগ রক্ত একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। একইসঙ্গে গাছ লাগানোর মাধ্যমে আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পৃথিবী রেখে যেতে চাই। আমাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া, আমাদের মেয়ে বড় হয়ে একজন মানবিক মানুষ হোক মানুষের পাশে দাঁড়াতে শিখুক, সমাজ ও দেশের জন্য ভালো কিছু করার মানসিকতা নিয়ে বেড়ে উঠুক। আজকের এই ছোট ছোট উদ্যোগগুলো একদিন তার কাছে মূল্যবান স্মৃতি হয়ে থাকবে।
মেয়ের বাবা আরিফুল ইসলাম বলেন, রক্তদান হলো একজন মানুষকে দেওয়া জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান উপহারগুলোর একটি, কারণ আপনার দেওয়া এক ব্যাগ রক্ত কারও জীবন বাঁচাতে পারে। আমাদের মেয়ের জন্মদিনে আমরা সেই উপহারটাই দিতে চেয়েছি। এবার আমরা থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য রক্তদান করেছি। আমি ও আমার স্ত্রী দুজনই নিয়মিত রক্তদান করি, আর যখনই কারও রক্তের প্রয়োজন হয়, রক্তদাতা ম্যানেজ করে দেওয়ারও সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।
তিনি আরও বলেন, ভালো কাজও একটি চর্চার বিষয়, আর শিশুর প্রথম শিক্ষক তার বাবা-মা ও পরিবার। তাই চাই, ছোটবেলা থেকেই আমাদের মেয়ে ভালো কাজ দেখে বড় হোক, মানবিকতার শিক্ষা পাক। শুধু আমাদের মেয়ে নয়, পরিবারের ভাগ্নে-ভাতিজিদেরও এসব উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করছি, যেন তারাও ছোটবেলা থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা নিয়ে বড় হতে পারে। প্রথম জন্মদিনে আমরা যে গাছ লাগিয়েছিলাম, তা এখন ছোট্ট একটি বাগানে পরিণত হয়েছে; এবারও রক্তদান শেষে আমরা গাছ লাগিয়েছি। আমাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া, আমাদের মেয়ে একজন মানবিক, দায়িত্বশীল ও ভালো মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠুক।
এই উদ্যোগ শুধু একটি জন্মদিন উদযাপনের গল্প নয়, বরং একটি পরিবারের মূল্যবোধ, চিন্তাধারা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার এক অনন্য প্রয়াস। এমন উদ্যোগ আমাদের মনে করিয়ে দেয়; সত্যিকারের উদযাপন শুধু আনন্দে নয়, বরং ভালো কাজের মধ্যেও নিহিত।
ছোট্ট আরিবাহ্ বড় হয়ে উঠুক মানবিকতা, সহমর্মিতা ও ভালোবাসার আলোয়; এটাই হোক তার জন্মদিনের সবচেয়ে বড় শুভকামনা।
এর আগে গত বছর মেয়ের প্রথম জন্মদিনে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের প্রতি ভালোবাসার বার্তা দিয়েছিলেন তারা। এবার সেই উদ্যোগকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে, মেয়ের দ্বিতীয় জন্মদিনে মা-বাবা অংশ নিয়েছেন রক্তদান কর্মসূচিতে এবং একইসঙ্গে করেছেন বৃক্ষরোপণ।









































আপনার মতামত লিখুন :