News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হারিয়ে যাচ্ছে পাখাওয়ালা বাড়ির পাখা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ১০:২৪ পিএম হারিয়ে যাচ্ছে পাখাওয়ালা বাড়ির পাখা

নারায়ণগঞ্জ শহরের ২নং বাবুরাইল এলাকার বাসিন্দা মো. ইউসুফ বেপারী। তার বাড়িকে সকলেই পাখাওয়ালা বাড়ি হিসেবে চিনে থাকে। কিন্তু বর্তমানে সেই পাখাওয়ালা বাড়ির জৌলুস নেই। প্রযুক্তির প্রভাবে দিন দিন হারিয়ে যেতে বসছে তার তালপাতার পাখার ব্যবসা। গরমকালে একসময় যে বাড়িটিতে দেড় লাখ পাখা বিক্রি হতো বর্তমানে সেখানে পাঁচ থেকে ছয় হাজার পাখা বিক্রি হয়।

৭২ বছর বয়সী মো. ইউসুফ বেপারী ও তার স্ত্রী মিলে কোনোরকম এই ব্যবসাটা ধরে রেখেছেন। সেই সাথে মো. ইউসুফ বেপারীর হাত ধরেই হয়তো তাদের প্রায় ১২০ বছরের পারিবারিক ব্যবসার ইতি ঘটছে যাচ্ছে। দিন দিন হাতপাখার প্রচলন কমে যাওয়ায় তার পরে আর কেউ এই ব্যবসা করতে রাজী নয়। তার দুই ছেলেই অন্য পেশাতে জড়িয়ে গেছেন। যখন মো. ইউসুফ বেপারী অসুস্থ থাকেন তখন এই হাতপাখা বেচাকেনা বন্ধ থাকে।

মো. ইউসুফ বেপারী স্ত্রী হাসি বেগম বলেন, আমাদের এটা প্রায় ১২০ বছরের ব্যবসা। আমি যখন তাদের পরিবারের বউ হয়ে আসি তখন থেকেই এই ব্যবসা দেখে আসছি। তখন এই হাতপাখার জন্য অনেক কারিগর ছিলো। সে সময়ে চারআনা করে একটা পাখা বিক্রি করতো। বর্তমানে ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকায় একটা পাখা বিক্রি হয়।

তিনি আরও বলেন, আগে পাখা বিক্রি করে কুলাতে পারতাম না। এই পাখা বিক্রি করেই আমাদের সংসার চালিয়েছি। বাড়িতে সবসময় পাইকারদের ভীড় লেগে থাকতো। গরমককালে রাতের ২ টা বাজেও ফোন আসতো। সেই সাথে রাতেই পাখা নিয়ে যেতো। এখন এই হাতপাখা চলে না।

মো. ইউসুফ বেপারী বলেন, আমাদের এই পাখার ব্যবসা ব্রিটিশ আমল থেকেই চলে আসছে। তখন একটা পাখা বিক্রি হতো ছয় আনা। আমার আগে বাবা ব্যবসা করতো। বাবার আগে আমার দাদা এবং দাদার আগে তার বাবা এই ব্যবসা করতো। আমার চাচারা এই ব্যবসা করেছে। তবে আমার মৃত্যুর পর এই পাখার ব্যবসা কেউ করবে না। এখন আর আগের মতো পাখা চলে না। আমার ছেলেরা অন্য পেশাতে জড়িয়ে গেছেন।

তিনি আরও বলেন, আগে এক থেকে দেড় লক্ষ পাখা বিক্রি করতাম। ওই সময় বিদ্যুৎ কম ছিলো; যার কারণে পাখার চাহিদা ছিলো। কিন্তু এখন পাখা তেমন একটা চলে না। সেই সাথে তালগাছও তেমন নেই। এখন কোনো রকম দিন চলানো যায় পাখা বিক্রি করে। আগের মতো এই পাখা ব্যবসা নেই। আগে নারায়ণগঞ্জের আশপাশ থেকেই পাথা আনা যেতো। এখন ময়মনসিংহ থেকে পাখা আনতে হয়। তারপরও বাবা-দাদারের ব্যবসা ধরে রাখছি।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফয়েজউদ্দিন বলেন, যারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাদের জন্য আমাদের বিভিন্ন রকমের সহযোগিতা রয়েছে। আমরা তার সাথে কথা বলবো। যদি তার জন্য কিছু করার সুযোগ থাকে তাহলে অবশ্যই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হবে।