প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ পাশ করলেও অন্যদের মতো চাকুরীর পেছনে ছোটেননি ফাহিম ভূইয়া এমিল। ছোটবেলা থেকেই ছিল উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন। পরে যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে গাভী পালনের মাধ্যমে শুরু করেছিলেন যাত্রা। পারিবারিক ঋণের জালে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল ফাহিমের। তবে আর্থিক শঙ্কটেও হাল ছাড়েননি ফাহিম ভূইয়া এমিল। গড়ে তোলেন গরুর খামার। যে খামার ঘুরিয়ে দিয়েছে তার ভাগ্যের চাকা। এখন তিনি কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মাসদাইর পুলিশ লাইন সংলগ্ন এলাকায় ফাহিম ভূইয়া এমিল গড়ে তুলেছেন দি কাউ এগ্রো নামের একটি খামার। নিজেদের পারিবারিক জমিতে একটি কক্ষে ফাহিমের দাদা আব্দুর রহমান ভূইয়া শখের বসে গাভী পালতেন। সেই থেকেই গরু পালনে হাতেখড়ি ফাহিমের। ২০০৬ সালে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় ফাহিম। তবে অন্যদের মতো চাকুরীর পেছনে ছোটেননি ফাহিম। উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নপূরণে ২০০৮ সালে যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ নেন। এরপর দাদার রেখে যাওয়া সেই কক্ষে শুরু করেন গাভী পালন। শুরুতে শখের বশে গাভী পালন করতে থাকলেও সেটা রূপ নেয় পেশায়।
তবে ফাহিমের বাবা ডাইস কেমিক্যাল ব্যবসায়ী আব্দুল নাঈম ভূইয়া বেশ কিছু গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের কারণে ব্যাংকের ঋণের জালে আটকা পড়েন। যে কারণে তখন গাভী বিক্রি করে দেয়ার পাশাপাশি সেই কক্ষটিও ভাড়া দিয়ে ঋণ পরিশোধ করতে হয় ফাহিমকে।এতে করে ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয় ফাহিমের উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন। তবে ভাড়ার এডভান্স ও এক বন্ধুর সহযোগিতায় ২০১৮ সালে পারিবারিক জমিতে নিজেই শেড নির্মাণ করে গড়ে তোলেন গরুর খামার। এরপর গাভী পালন বাদ দিয়ে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়ার কাজ শুরু করেন। তবে করোনা সংক্রমণের কারণে কিছুটা ভাটা পড়লেও ত্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে ফাহিমের খামারের পরিধি। বর্তমানে ফাহিমের গরুর খামারে রয়েছে ৭০টি গরু। যার অর্ধেক ইতোমধ্যে ক্রয়ের জন্য বুকিং দিয়েছে ক্রেতারা। আসন্ন কুরবানীর ঈদে কোটি টাকার গরু বিক্রির প্রত্যাশা। ফাহিমের এগ্রো ফার্ম দেখে স্থানীয় যুব সমাজ উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। খামার দিয়ে খুব কম সময়ে কম খরচে স্বাবলম্বী হওয়া যায়।
খামার মালিক ফাহিম ভূইয়া এমিল বলেন, ‘২০০৮ সালে শখের বসে যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ডেইরি শুরু করেছিলাম। তবে পারিবারিক ঋণের কারণে একসময় ডেইরির কাযর্ক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হই। এরপর ঋণ শোধ করার জন্য গাভী বিক্রির পাশাপাশি গরু পালনের কক্ষ ভাড়া দিতে বাধ্য হই। কিন্তু সেটা করে আমি মনে শান্তি পাচ্ছিলাম না। পরে ভাড়ার এডভান্স ও এক বন্ধুর সহযোগিতায় নিজেদের জমিতে নিজেই আরেকটি শেড গড়ে তুলি। সেই শেড নির্মাণের কাজও নিজ হাতেই করেছিলাম। পরে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়ার কাজ শুরু করি। করোনার কারণে ২০২০ সালে গরু কিছুটা কম তুললেও। এরপর থেকে প্রতি বছরই গরু বিক্রি করে লাভের মুখ দেখতে থাকি। সেই থেকে আগ্রহ বেড়ে যায় এবং গরুর সংখ্যা বাড়াতে থাকি।
তিনি আরও বলেন, কোরবানিতে বড় গরুর চেয়ে ছোট এবং মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা ক্রেতাদের কাছে বেশি। ছোট ও মাঝারি গরু মোটাতাজা করে খুব একটা লাভের মুখ দেখা যায় না। কিন্তু আমি লাভের চেয়ে ক্রেতাদের চাহিদার দিকটা বেশী প্রাধান্য দিয়ে আসছি। যে কারণে প্রতি বছর আমার বিক্রির সংখ্যা বাড়ছে। আমি সবসময় দেশী গরু গুলোকে প্রাকৃতিক ভাবে পালনের চেষ্টা করি। আমার খামারের পাশে নেপিয়ার ঘাস লাগিয়েছি। বাহির থেকেও কিছু ঘাস কিনতে হয়। বর্তমানে আমার খামারে ৭০টি গরু রয়েছে। যার মধ্যে আসন্ন কুরবানীর ঈদ উপলক্ষ্যে অর্ধেকের ন্যায় গরু ক্রেতারা বুকিং দিয়ে গেছেন। অনেক ক্রেতা অনলাইনেও বুকিং দিয়ে আসেন।
ফাহিম বলেন, ‘রাত–দিন পরিশ্রম করে এ পর্যায়ে এসেছি। আমার বিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম আর সততা থাকলে কোনো মানুষ ব্যর্থ হয় না। সফলতা অবশ্যই ধরা দেবে।’
ক্রেতারা বলেন, ‘ফাহিমের ফার্মে সবসময় দেশী গরু বিক্রি হয়। দামও বাজেটের মধ্যে থাকে। এছাড়াও তিনি মোটাতাজাকরণে কোন ধরনের ওষুধ খাওয়াননা। কুরবানীর পশুগুলোকে প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ান। যে কারণে তারা এখানে এসে কুরবানীর পশু ক্রয় করে থাকেন। ফার্মগুলোতে কুরবানীর পশু ক্রয় করলে মাঝেমধ্যেই এসে দেখে যাওয়া যায়। শহরের বাড়িগুলোতে কুরবানীর পশু রাখার পযার্প্ত জায়গা থাকেনা। এজন্য তারা কুরবানীর ঈদের এক দুইদিন আগে ক্রয়কৃত পশু নিয়ে যান।









































আপনার মতামত লিখুন :