News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

অপহরণের মুক্তিপণ দাবি ৩০ লাখ টাকা, ৩ ভুক্তভোগী উদ্ধার করল ডিবি


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২৬, ১০:১৬ পিএম অপহরণের মুক্তিপণ দাবি ৩০ লাখ টাকা, ৩ ভুক্তভোগী উদ্ধার করল ডিবি

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে তিন ব্যক্তিকে অপহরণের পর জিম্মি করে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠে। পরে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে সোনারগাঁ থানাধীন দামেরদী আনন্দবাজার এলাকায় থেকে অপহৃত তিন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট সকাল ৯টায় ঢাকা থেকে একটি প্রাইভেটকারযোগে নারায়ণগঞ্জ আদালতে হাজিরা দিতে আসেন তিনজন। তারা হলেন সারাফত উল্লাহ (৫৫), মো. আব্দুল আওয়াল (৩৯) ও রুনা বেগম (৪০)।

আদালতের কার্যক্রম শেষে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তারা প্রাইভেটকারযোগে ঢাকার ফায়দাবাদের উদ্দেশে রওনা হন। পথে ফতুল্লা মডেল থানাধীন পূর্ব ইসদাইর এলাকার ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে পৌঁছালে ৭-৮ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাদের গাড়ির গতিরোধ করে। পরে জোরপূর্বক তিন ভুক্তভোগীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে একটি কালো রঙের মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। প্রাইভেটকারটি সেখানে ফেলে রেখে অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীদের সোনারগাঁয়ের দিকে নিয়ে যায়।

দুই ঘণ্টা পর অপহৃত সারাফত উল্লাহর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে তার স্বজনদের ফোন করে ‘লিয়াজ’ নামে পরিচয় দিয়ে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে অপহৃতদের হত্যা করা হবে বলেও ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে অপহরণকারীরা মুক্তিপণের টাকা সোনারগাঁয়ের মোগড়াপাড়া চৌরাস্তায় নিয়ে যেতে বলে।

বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগীদের স্বজনরা নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগ করেন। পরে ঘটনাটি জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ডিবি পুলিশ মোবাইল ফোনের লোকেশন ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোনারগাঁ থানাধীন দামেরদী আনন্দবাজার এলাকায় অভিযান চালায়।

তদন্তে জানা যায়, অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীদের প্রথমে এক নম্বর আসামি মোতালেবের বাড়িতে আটকে রাখে। সেখানে তাদের হত্যা ও জখমের ভয় দেখিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

পরে অপহৃতদের একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তুলে আনন্দবাজার ঘাট থেকে মেঘনা নদীতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আবারও হত্যার ভয় দেখিয়ে মুক্তিপণের টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়। ডিবি পুলিশের অভিযানের সময় অপহরণকারীরা নৌকা ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ডিবি পুলিশ তিন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা অপহরণের বিস্তারিত ঘটনা জানান।

ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, অপহরণকারীদের মধ্যে ২, ৩ ও ৪ নম্বর আসামিকে তারা চিনতে পেরেছেন এবং তাদের একজনের বাড়িতেই প্রথমে আটকে রাখা হয়েছিল। বাড়িতে অভিযান চালিয়ে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তল্লাশি করে একটি আইটেল বাটন মোবাইল ফোন ও দুটি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এসব আলামত মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা পরস্পর যোগসাজশে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তিন ব্যক্তিকে অপহরণ করে। ডিবি পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালালেও অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ডিবি পুলিশের উপর পরিদর্শক (এসে আই) মফিজুল ইসলাম  জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে আইনগত ব্যবস্থা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।