বর্তমানে শিল্প নগরী নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রতিটি উপজেলা ও থানার সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে মাদক, ছিনতাই,সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি। এসকল অপরাধ নির্মূল কিংবা বিস্তার রোধকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে তাৎপর রয়েছেন। আর তারই ধারাবাহিকতায় জনস্বার্থে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও বিভিন্ন অপরাধ দমনে নিরলস ভূমিকা পালন করছেন। পুলিশের এমন কঠোর তাৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করে বাহিনীটির চলমান ভূমিকাকে অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ১ হতে ১০ নং ওয়ার্ড পর্যন্ত সিদ্ধিরগঞ্জের আওতাধীন রয়েছে। এ থানায় প্রায় লক্ষাধীক শ্রমিকের কর্মসংস্থান আদমজী ইপিজেড, বিদুৎকেন্দ্র (পিডিবি),পদ্মা ও মেঘনা জ্বালানি তেলের ডিপো, র্যাব-১১ এর প্রধান কার্যলয়, সরকারি স্কুল-কলেজসহ সরকারি ও বেসরকারি অসংখ্য স্থাপনা রয়েছেন।
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকার সুবাদে এখানে স্থায়ীর চেয়ে অস্থায়ী মানুষের বসবাস কয়েকগুণ বেড়েছে। আর আয়তনের তুলনায় মানুষের বসবাস বাড়তি হওয়ায় ঘনবসতিপূর্ণ এই থানাটিতে পুলিশ বাহিনীকে সর্বক্ষণ নিজেদের কর্মদক্ষতা প্রকাশের লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকতে হন।
২০২৪ সালে আওয়ামী শাসনামলের পটপরিবর্তনের পরে প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তার সুযোগে এখানকার অপরাধীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠে অপরাধ সংঘটিতের মাধ্যমে জনসাধারণকে অতিষ্ঠ তুলেছিলেন। যার কিছুটা অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে পরিবর্তন ঘটে। এরপর সবশেষ বিএনপি সরকার নির্বাচিত হবার পরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের ভূমিকার প্রশংসার করছেন সাধারণ মানুষেরা।
থানা পুলিশের তথ্যমতে, এবছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের মে হতে জুলাইয়ের তিনমাসে সর্বমোট ১১৬টি মাদক মামলায় ১৭০জন কারবারিকে গ্রেফতার করে আদালত সোপর্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ওইসব কারবারিদের হেফাজত হতে ৫৭৫২৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট,৬১ কেজি ৬০০ গ্রাম গাঁজা, ২৩৩৩ পুরিয়া হেরোইন এবং ১৪৪ বোতল স্কাপ ও ফেনসিডিল উদ্ধার করে তারা।
এছাড়াও তিনমাসে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ৩টি অস্ত্র মামলায় ৩ আসামি গ্রেফতার হন। তাদের হেফাজত হতে ১টি রিভলবার, ১টি পিস্তল ও ১টি দেশীয় পাইপগানসহ ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে।
তথ্য আরও রয়েছে: মে হতে জুলাইয়ে ১টি ডাকাতি ও ২টি ডাকাতি প্রস্তুতি মামলায় সর্বমোট ১২জনকে গ্রেফতার করা হয়। ওই ডাকাত সদস্যদের কাছ থেকে দেশীয় রামদা, ছুড়ি,চাপাতি, জিআাই পাইপ,৬১৪টি কম্বলসহ মাইক্রোবাস ও কাভার্ডভ্যান উদ্ধার হয়েছে।
পাশাপাশি অভিযান পরিচালনা করে ১১টি সামারি ট্রায়াল মামলায় ৮৮ আসামিকেও আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের পর থেকে অপরাধ প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে মাদক আর ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর অপরাধে সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ প্রায়। তবে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের চলমান অভিযানে যথেষ্ট সন্তুষ্ট হলেও তাদের আরও বেশি কঠোরতার মাধ্যমে ছিনতাই ও মাদক নির্মূল প্রয়োজন। এছাড়া এসকল অপরাধে রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃত্বের ছত্রছায়ার ফলে অপরাধীরা অতিরিক্ত বেপরোয়া ভূমিকা রয়েছেন বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, অপরাধ নির্মূল এবং আমাদের থানা এলাকায় শান্তি- শৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমি এ থানায় জয়েনের পর হতে এখানকার শীর্ষ মাদক কারবারি হতে শুরু করে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছি। আমরা আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহতের মাধ্যমে মাদক-ছিনতাই-সন্ত্রাস নির্মূলে ভালো ফলাফল পাবার আশাবাদী। আমাদের মূল কাজ হচ্ছে অপরাধীকে গ্রেফতার করে আদালত সোপর্দ করা। এরপর জামিন কিংবা ছুটে আসার বিষয় আদালতের কার্যক্রম।
তিনি বলেন, যেকোনো অপরাধী যেকোনো রাজনৈতিক ব্যানারের হোক না কেনো আমাদের চোখে তারা অপরাধীই। ফলে কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।





































আপনার মতামত লিখুন :