অপরিকল্পিত শহরকে পরিকল্পিত নগরীর গড়ে তুলতে মাঠে নামছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের আগেই শহর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন নগরী করার লক্ষ্যে এক যোগে কাজ করবেন তারা। একই সাথে জেলা প্রশাসনও দীর্ঘদিনের অভিশাপগুলো মুক্ত করে নারায়ণগঞ্জবাসীকে উপহার দিতে চান।
জানা গেছে, ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ পরিচালনা করা হয়েছে। অন্যদিকে এখনো শহরের ফুটপাত ও সড়কে হকারমুক্ত করতে এখনো দেখা যায়নি সিটি কর্পোরেশনকে। ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাস জুড়ে শহরে হকারমুক্ত করতে একাধিক সভা করেছেন সিটি কর্পোরেশন। সেখানে স্থানীয় এমপি আবুল কালাম সহ জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকতাদের দেখা গেছে।
জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে ফুটপাত থেকে হকার মুক্ত করতে মাইকিং করা হবে। এরপর অমান্য করলে উচ্ছেদ অভিযানে নামতে যাচ্ছে সিটি কর্পোরেশন। অন্যদিকে যারা হকার পক্ষ নিয়ে গান্ধী পোকা মত গন্ধ ছুটাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে সরকার। ইতোমধ্যে যারা হকারদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে ফায়দা লুটছে তাদের তালিকা করা হয়েছে। যেখানে হকার মুক্ত পরিবেশ করতে গিয়ে বাধা পড়বে তখনই তাদের ছত্রছায়াদের বিরুদ্ধে অবস্থানে যাবে প্রশাসন।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে স্থানীয় এমপি ও মেয়রের মধ্যে ক্ষমতার দাপুটে কারণে শহর আজ হকার ও যানজটের নগরী হয়ে পড়েছে। যার কারণে প্রতিনিয়ত লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতি মূর্হুতে ভোগান্তি পড়েছে।
এর আগে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি শহরে ফুটপাতে হকার উচ্ছেদ অভিযান চালানো চেষ্টা করেছেন তৎকালীন নাসিক মেয়র ডা. আইভী। হকারদের বসানো নিয়ে তৎকালীন এমপি শামীম ওসমানরা আইভীর উপর হামলা ঘটে। এতে আইভীর উপর হকারদের ইটবৃষ্টিতে ঢাল হয়ে দাঁড়ান আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। টানা এমপি-মেয়রের মধ্যে দ্বন্দ্বে বিরক্ত হন সরকার প্রধান। এরপরও সাধারণ মানুষের চাহিদা হকার উচ্ছেদ করতে পারেনি তারা।
প্রায় আট বছর পর বিএনপি সরকার ক্ষমতা আসীন হওয়া পর নির্বাচিত এমপি আবুল কালাম ও নবাগত নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান ইতোমধ্যে শহরে যানজটমুক্ত ও হকার ইস্যুতে একমত প্রকাশ করে একাধিক মিটিং করেছেন। ঈদের পর ফুটপাতে হকার বসানো হবে না এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জনগণের দুই জনপ্রতিনিধি।
ইতোমধ্যে নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, এখন মেয়র ও এমপি মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব নেই। আগের মত উত্তর মেরু দক্ষিণ মেরু কোন সুযোগ নেই। এমপি ও প্রশাসক এখন চায় পরিকল্পিত নগরী। ফুটপাত দখল করে হকার ও সড়কে অবৈধ যানবাহনে অভিশপ্ত নগরীতে রূপ নিয়েছে। এই অভিশাপমুক্ত শহর গড়ে যে কোন পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত সিটি কর্পোরেশন। হকার শতভাগে ৯৮ ভাগ হলেন অন্যত্র জেলার বাসিন্দা। ব্যবসা যে কেউ করতে পারে, তাই বলে ফুটপাতে করতে হবে কেনো।
এদিকে শহরের হকারদের উৎসাহিত করার অভিযোগে হকার্স দলের কমিটি বিলুপ্ত করেছে মহানগর শ্রমিকদল। বির্তক অভিযোগে এমন কান্ডে রীতিমত আলোচনা সমালোচিত ছিলেন হকার্স দলের নেতাদের বিরুদ্ধে। যার কারণে হকারদের বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থা নিতে হকাস দলকে সরে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।






































আপনার মতামত লিখুন :