নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের দ্বারা বেষ্টিত হয়ে পড়েছেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি সবসময় নিজ দল বিএনপির নেতাকর্মীদের দ্বারা আবদ্ধ হয়ে থাকছেন। তার দপ্তরে সবসময় বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদের ভীড় লেগে থাকে। ফলে নাগরিক সেবায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। নাগরিকরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও প্রশাসকের সাক্ষাত পাচ্ছেন না।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে সবসময় বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা ঘিরে রাখেন। তার কার্যালয়ের আশেপাশে সবসময় নেতাকর্মীরা ঘিরে রাখেন। অনেক সময় নাগরিকবাসী প্রশাসকের সাথে কথা বলতে আসলে সে সুযোগ তাদের সহজে মিলে না। এমনকি সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারাও অনেক সময় প্রশাসকের সাথে কথা বলার সুযোগ পান না।
অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নিয়োগ পাওয়ার পর এখন পর্যন্ত দুই একটি ফাইল বাদে অধিকাংশ ফাইল স্বাক্ষর হয়নি। একের পর এক ফাইল জমছে। কিন্তু স্বাক্ষর না হওয়ায় ফাইল নড়ছে না।
এদিকে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে মহানগর আমীর মাওলানা মো. আবদুল জব্বার সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ প্রসঙ্গে বলেন, এটা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। জনগণের প্রতিনিধি যদি নির্বাচিত হয় তাহলে জনগণ তাদের মনের কথা বলতে পারবে। তিনিও জনগণের মনের কথা শুনতে পারবেন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি সাখাওয়াত ভাই যতগুলো পোগ্রাম করেন সেখানে দলীয় দলীয় হাজার হাজার নেতাকর্মী তাকে ঘিরে রাখেন। সেখানে তিনি জনগণের প্রত্যাশা কিভাবে পূরণ করবেন জানিনা। তিনি যেন অধিকার আদায়ের বিষয়টি মাথায় রাখেন।
এর আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। যিনি দীর্ঘদিন ধরে আইন পেশায় যুক্ত হয়ে বেশ দক্ষতার সাথে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ এর ধারা ২৫ ক এর উপধারা (১) অনুযায়ী করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বা তাদের সিটি করপোরেশনগুলোতে পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।’ সেই সাথে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান আনুষ্ঠানিকভাবে সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছিলেন, আমি দলের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। বিগত দিনের ত্যাগের মূল্যায়ন করেছে দল। আমি চেষ্টা করবো এই নগরীর সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করার। নগরীর যানজট থেকে হকার সমস্যা, মাদক-সন্ত্রাসও নিয়ন্ত্রণে আন্তরিক চেস্টা করবো এবং এসকল কাজ নগরবাসীকে সাথে নিয়েই করবো।
তিনি আরও বলেছিলেন, আমার প্রথম কাজ হলো নারায়ণগঞ্জকে যানজটমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তোলা। ধুলাবালি রাস্তাঘাটের অব্যস্থাপনা থেকে উত্তরণ করা। আমি ৬০ দিনের একটা কর্মসূচি নিবো। এই দিনগুলোর মধে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করবো। সকলকে নিয়ে গ্রহণযোগ্য সমাধান ও জনগণকে স্বস্তি দেয়ার চেষ্টা করবো। ঢাকার পাশ্ববর্তী জেলা হলেও নারায়ণগঞ্জ অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে। আমার চেষ্টা থাকবে নারায়ণগঞ্জকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।
সূত্র বলছে, ২০১১ সালের ৫ মে নারায়ণগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ ও কদমরসুল পৌরসভা একীভূত করে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) প্রতিষ্ঠা বিধিমালা ২০১০ এর বিধি ৬-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার প্রায় ৭২ দশমিক ৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা করে। প্রথম সিটি নির্বাচনে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী মেয়র নির্বাচিত হন। সেই সাথে সবশেষ নির্বাচনেও তিনিই মেয়র হিসেবে নির্বাচত হয়েছিলেন।
আর মেয়র হিসেবে আইভী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়ন করলেও পিছিয়ে রয়েছেন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়। একই সথে হকারমুক্ত ফুটপাত ও যানজট সমস্যাও দূরীকরণ করতে পারেননি। নানা প্রতিবন্ধকতায় এই দুই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তিনি সফল হতে পারেননি। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে গিয়ে রক্তও জড়িয়েছিলেন আইভী। এবার নতুন প্রশাসক হিসেবে সাখাওয়াত হোসেন খান কতটুকু সফল হতে পারেন সেটাই দেখায় বিষয়।





































আপনার মতামত লিখুন :