News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

তৈমূর আর ভালো হবে না, তার জীবন এমনভাবেই কেটে যাবে”


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম প্রকাশিত: এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম তৈমূর আর ভালো হবে না, তার জীবন এমনভাবেই কেটে যাবে”

১৯৭৪ সাল, আমি নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজের ছাত্র। বাবার (কান্ট্রি ম্যানেজার ফর ইষ্ট পাকিস্তান, ন্যাশনাল এন্ড গ্রীনলেজ ব্যাংক) ইচ্ছা ছিল আমার উচ্চপদস্থ ব্যাংকার হওয়া। ১৯৬৮ইং সনে এসএস স পাশ করার পর বাবার নির্দেশে কমার্স শাখায় (আই কম) তোলারাম কলেজে ভর্তি হই। দাদার (ঢাকা জেলা জজ শীপের জুরি বোর্ডের প্যানেল সদস্য এবং তৎকালীন চেয়ারম্যান, স্থানীয় ঋণ শালিশী বোর্ড) ইচ্ছা ছিল আমি আইনজীবী হই, কারণ আমার বাবাকে (পিতা) তিনি আইন পড়াতে ব্যর্থ হওয়ায় দাদার প্রবল ইচ্ছার প্রতি আমার দুর্বলতার কারণ ছিল, তিনি একদিকে ছিলেন পেশায় আজীবন শিক্ষক, অন্যদিকে আমার প্রতি তার স্নেহ ও মমত্ববোধ ছিল অপরিসীম, সবার চেয়ে আলাদা।

আমার প্রবল ইচ্ছা ছিল ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স কোর্সে ভর্তি হওয়ার। সেই লক্ষ্যে ইন্টারমিডিয়েটে কমার্স সাবজেক্ট পরীক্ষা দেয়ার পাশাপাশি বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে ১৯৭০ইং সনে কমার্সের সাবজেক্টের সাথে আর্টস এর অতিরিক্ত সাবজেক্ট গুলিতে পরীক্ষা দিয়ে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে অনার্স পড়ার রাস্তা খোলা রাখি।

কারণ ইন্টারমিডিয়েটে রিলিভেন্ট সাবজেক্ট না থাকলে সংশ্লিষ্ট সাবজেক্টে অনার্স পড়া যায় না। আইন পড়ার সময় সকল মুসলমান ছাত্ররা মুসলিম ‘ল’ নিয়ে পরীক্ষা দিলেও প্রিন্সিপাল সাহেবের নিষেধ থাকা স্বত্বেও ঐচ্ছিক সাবজেক্ট মুসলিম ‘ল’ এর পরিবর্তে হিন্দু ‘ল’ সাবজেক্টে পরীক্ষা দেই।

নানার (আদমজী মিলের জুট সাপ্লাইয়ার ও বাওয়ানী জুট মিলের শেয়ার হোল্ডার) প্রবল ইচ্ছা ছিল আমি যেন ব্যারিস্টার হই, এজন্য তিনি জীবিত অবস্থায় মায়ের নিকট আমার লন্ডন পড়ার খরচ দিয়েছিলেন। আমি পারি নাই,  তবে আল্লাহ্ পাকের মেরেহবানীতে আমার দুই কন্যাই লন্ডনে উচ্চ শিক্ষা নিয়েছে, মার-ই-য়াম এখন ব্যারিষ্টার, আমেরিকায় এ্যাটনী-এট-ল পড়ছে। এমন এলোমেলো ও অনিশ্চিতভাবে যখন আমার লেখা পড়া চলছিল তখন জানতে পারি যে-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যানেজমেন্ট বিভাগ চালু করে মাষ্টার্স কোর্স খোলা হয়েছে, ভর্তি পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হয়ে কাংক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ হলো এবং রাতে আইনের, দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস। একইভাবে প্রাথমিক শিক্ষাও ছিল এলোমেলো। দাদার বাড়ি থাকলে পরতাম তারই স্কুলে, নানার বাড়ী থাকলে যেতাম মক্তবে। নারায়ণগঞ্জ শহরের আল্লামা ইকবাল রোডে আমরা থাকাকালে গলাচিপা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেনীতে ভর্তি হলাম। গলাচিপা মসজিদের একটি চিলাকোঠার (ইমাম সাহেবের কামড়া) একটি দ্বিতল ভবনে জরাজীর্ণ স্কুল, পাশেই রেল-লাইন। বাবার অফিসের একজন পশ্চিম পাকিস্তানী স্টাফ আমাকে স্কুলে আনা নেয়া করতো এবং তিনিই উর্দ্দু পড়াতেন।

বাবা  একদিন আমার স্কুল ব্যাগে থাকা তামার পাত সম্পর্কে ঐ ব্যক্তির নিকট জানতে চাইলে তিনি বাবাকে জানান যে, রেলগাড়ী  চলাচলের সময় রেললাইনের উপরে আমি তামার তৈরী কানা পয়সা রেখে (আইউব খানের কানা পয়সা নামে পরিচিত) এক ধরনের লম্বা ছুরির মত পাতে পরিণত করি; তা শুনে বাবা ঐ দিন থেকেই আমার স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিলেন। এরপর শুরু হলো বাবার সরাসরি তত্বাবধায়নে বাংলা, ইংরেজী, অংক, আরবী ও উর্দ্দু আলাদা আলাদা শিক্ষকের নিকট প্রাইভেট পড়তে পড়তে আমার জীবন হয়ে পড়েছিল কারাবন্দী একজন কয়েদির মত; চাইলেও মুক্ত আকাশে নিঃশ্বাস নেয়ার সুযোগ ছিল না। সম্ভবত: ১৯৬৩ইং সনে নারায়নগঞ্জ হাইস্কুলে সরাসরি ভর্তি হলাম ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে।

ঢাকা বিশ্যবিদ্যালয়ে তৎসময়ে নতুন ভবন হিসেবে পরিচিত অপরাজেয় বাংলার সামনে ও মধুর ক্যান্টিনের পশ্চিম-দক্ষিন কোনে বিল্ডিংটির তিন তলায় ক্লাস চলতো। শিক্ষকদের মধ্যে যাদের চেহারা মনে পড়ে তারা হলেন- অধ্যাপক দূর্গাদাস ভট্টাচার্য (পরবর্তীতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য), অধ্যাপক খন্দকার বজলুর রহমান, অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।

দূর্গাদাস স্যার ছিলেন আমাদের ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান। তিনি প্রথম ক্লাসে এসে একটি কথা বললেন, যা আমি এখনো মনে রেখেছি এবং হাড়ে হাড়ে এর সত্যতা ও গুরুত্বের প্রমাণ পেয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ফুল বাগানের সাথে তুলনা করে দূর্গাদাস স্যার বলেন, ১। মৌমাছি ফুল থেকে মধু আহরণ করে ২। প্রজাপতি ফুল থেকে আহরণ করে বিষ এবং ৩। অন্য প্রজাতি এমনি এমনি বাগানে ঘুরে বেড়ায়।

উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন “এখন আপনারা কি মধু, না’কি বিষ সংগ্রহ করবেন? না’কি এমনি এমনি ঘুরে ফিরে সময় কাটাবেন?”

তার কথা ঐ সময় কতটুকু গুরুত্ব দিয়েছি বা কতটুকু বুঝতে পেরেছি তা উপলব্ধি করতে না পারলেও পরবর্তীতে সুদে আসলে বুঝে নিয়েছি। উল্লেখ্য, সূর্যসেন হলের ছাত্র হলেও একদিনও রাত্রি যাপন করি নাই; খেটে খাওয়া মানুষ তথা রিক্সা, ঠেলাগাড়ী, হোটেল শ্রমিক প্রভৃতি ইউনিয়ন করার জন্য প্রতিদিনই নারায়ণগঞ্জ চলে আসতাম। যে বয়সে মানুষ ছাত্র রাজনীতি করে সে বয়সে আমি শ্রমিক সংগঠনে নিজেকে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে ফেলি।

একদিন অর্থনীতির ক্লাসে দূর্গা দাস স্যার আরও একটি ঘটনা বললেন, যা ছিল আরো শিক্ষনীয়। তিনি বললেন “লালবাগে এক মাঠা বিক্রেতা মহরমের তাজিয়া মিছিল দেখলে  মাঠা বিক্রি বন্ধ করে “হায় হোসেন, হায় হোসেন” বলে মিছিলে অংশ নিতো। আবার “হায় রাম- হায় রাম” বলে যখন শব মিছিল যেতো তখন সে “হায় রাম, হায়-রাম” বলে শব মিছিলে যোগ দিতো। স্যার বিষয়টি লক্ষ্য করে একদিন মাঠাওয়ালাকে জিজ্ঞাসা করলেন “হিন্দু- মুসলিম দুই ধর্মের মিছিলে তুমি অংশ নিয়ে শ্লোগান দেয়ার কারণ কি?” প্রতি উত্তরে  সে বলেছিল- “যখন যেমন- তখন তেমন”। শুনেছি, স্যার আমেরিকায় চলে গেছেন, বেঁচে আছেন কি’না জানি না। তবে দুইটি উদাহরন আমি স্মরনে রেখেছি এবং বাস্তব জীবনে  তার প্রতিফলন ১০০% দেখছি।

স্যারের প্রতি শ্রদ্ধা-সালাম, কারণ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কথাগুলি সত্যের চেয়েও আরো বেশি নির্মম সত্য। বাংলাদেশের বিচার, প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, বৃদ্ধিজীবী, রাজনীতি, মিডিয়ার চরিত্র প্রকাশ পায় ঐ মাঠাওয়ালার একটি কথায়- যথা- “যখন যেমন, তখন তেমন”; রং বদলাতে যাদের সময় লাগে না, অতি অল্পতেই নিজেকে বিক্রি করে দেয় অতি সস্তায় ; জোয়ারে ভাসা কচুরীপানার মত। এতে তারা মজাও পায়, সুবিধাও ভোগ করে। কিন্তু বিপদে আছে তারাই যারা বিবেক বিক্রি করতে না পেরে নিজ ব্যক্তিত্বের উপর থাকে অবিচল; সব কিছু হারলেও দূঢ় মনোবলে মেরুদন্ড সোজা রাখে শক্ত ভাবে।

২৮/০১/১৯৭৮ইং সনে বার কাউন্সিল থেকে এ্যাডভোকেট সনদ পেলাম। নারায়ণগঞ্জ বারের তৎকালীন সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট আমিনুল হক বললেন সকল আইনজীবীকে দাওয়াত করে খাওয়াতে হবে। তার নামেই দাওয়াত নাম কার্ড বিতরন হলো, খরচ নির্বাহের জন্য বাবা ৭০০০/- টাকা দিলেন।

কিন্তু মামলা-হামলা ও ওকালতিতে একসাথে গুলিয়ে ফেললাম। কোর্টের ওকালতি ও রিক্সা ওয়ালা বা খেটে খাওয়া অন্যান্য সংগঠন যেমন হকার, হোটেল শ্রমিকদের মিছিলে কোর্ট টাই পরেই  করতাম, যাতে কোর্টে যাওয়ার জন্য পোষাক পরিবর্তনের প্রয়োজন না হয়। এরই মধ্যে দুটি বড় মামলার আসামী হলাম ১। তোলারাম কলেজে ছাত্র পুলিশের গুলিতে নিহত আউয়াল হত্যা এবং ২। প্রশাসন কর্তৃক শিক্ষা, প্রগতি, স্বাস্থ্য, শিল্প, বাণিজ্য প্রদর্শনীর নামে জুয়া ও নগ্ন নৃত্যের প্যান্ডেল জ্বালিয়ে দেয়ার মামলা। ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে রিক্সা ড্রাইভাররা মিছিল করায় ইউনিয়নের সেক্রেটারী সম্বল মিয়া গ্রেফতার হয়ে, ডিটেনশনে গেলেন ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে। আমাকে (সভাপতি) গ্রেফতার না করতে পারায় ডিটেনশন কার্যকর করতে পারে নাই। আমাকে গ্রেফতার ও ডিটেনশন থেকে রক্ষা করার জন্য আমার কাকা শামছুল হক খন্দকার (সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা) তৎকালীন মহকুমা পুলিশ কর্মকতা (এস ডি পি ও) কুতুবর রহমানের কাছে গেলে তিনি বলেছিলেন যে “তৈমূর আর ভালো হবে না, তার জীবন এমনভাবেই কেটে যাবে”।

এল.এল.বি পরীক্ষার রেজাল্ট বাবাকে জানালে তিনি বললেন এডমিটকার্ড নিয়ে আয়, তোকে তো পড়তেই দেখি নাই, দেখেছি রিক্সাওয়ালাদের সাথে, পাশ করলি কি ভাবে? এডমিট কার্ড ও পত্রিকায় প্রকাশিত রোল নম্বর মিলিয়ে খুব একটা সন্তুষ্ট না হলেও শিক্ষানবীস হিসেবে কাজ শেখার জন্য নারায়নগঞ্জের স্বনামধন্য সিভিল লইয়ার (অ্যাডভোকেট ময়েজউদ্দিন খান, গোল্ড ম্যাডেলিষ্ট) এর চেম্বারে বাবা আমাকে দিয়ে আসেন। সময়ে অসময়ে  পুলিশী হয়রানী ও জেলের দোরগোড়ায় আসা যাওয়ায় ঝুকে গেলাম ক্রিমিনাল সাইডে, লোকে বলে ক্রিমিনাল উকিল। মা’কে বাবা বলতেন আমি চোর ডাকাতের উকিল, বাবার জমি জমা রক্ষার মামলায় আমার না’কি কোন আগ্রহ নাই।

ব্যক্তিগতভাবে ছিলাম মাওলানা ভাষানীর ভাব শিষ্য। আমার ফুফাতো ভাই হানিফ কবিরের (সাবেক ভিপি/জি.এস তোলারাম কলেজ) আমি মাওলানা সাহেবের সান্ধিধ্য পেয়েছি। বিএনপি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে ১৯৯৬ইং সনে সরাসরি বিএনপিতে যোগে দেই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনেক আস্থাভাজন হলাম, দলের জন্য কিছুই করতে পারি নাই, তবে পিতা-মাতা, পরিবারকে যন্ত্রনা দিয়েছি অনেক, বাড়ী/চেম্বারে অগ্নি সংযোগ হয়েছে, ময়মনসিংহ কারাগারে ছিলাম ডিটেনশন, কারাবরন, গ্রেফতার, আত্মগোপন, শরীরে গুলি বহন সহ মিছিল মিটিং হরতালই ছিল নিত্য দিনের ঘটনা। ম্যাডাম খালেদা জিয়া আমাকে অনেক দিয়েছেন। রিক্সাওয়ালাদের নেতা থেকে জাতীয় ভাবে পরিচিতি দিয়েছেন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন বিআরটিসির চেয়ারম্যান সহ দলীয় ও রাষ্ট্রীয় অনেক গুরুত্বপূর্ন দায়িত্বে বসিয়েছেন; এ জন্য তার প্রতি আছে আমার অসীম কৃতজ্ঞতা।

২০০৭ সনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ- (রূপগঞ্জ) আসনে বিএনপির নমিনেশন পেয়ে নির্বাচনী প্রচার কালে হঠাৎ ১/১১ সরকার চলে এলো, তারেক রহমান গ্রেফতার হলে তার আইনী লড়াইয়ের ৪র্থ  দিন নারায়ণগঞ্জ/রূপগঞ্জের প্রায় এক হাজার বেকারকে বিআরটিসিতে চাকরি দেয়ার অভিযোগে নিজেই গ্রেফতার হই।

২০০৯ সালে কারামুক্ত হলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ম্যাডাম ২০১১ সনে আমাকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদ প্রার্থী করলেন এবং আবার তারই নির্দেশে ৭ঘণ্টা পূর্বে আনুষ্ঠানিক ঘোষনা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াই। কেন আমাকে প্রার্থীতা থেকে প্রত্যাহার করা হলো তা কোন দিন জিজ্ঞাসা করি নাই।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহাম্মদ ২০১৬-তে নারায়ণগঞ্জ বাস ষ্ট্যান্ডে শ্রমিক সমাবেশে বলেছেন- “শামীম ওসমানের পরিবর্তে আইভীকে পাশ করানোর জন্য তৈমূরকে আমরা বসিয়ে দিয়েছি”। ২০১৬-তে ম্যাডাম আমাকে নমিনেশন দিলেও মেয়র পদে দাঁড়াই নাই। ২০২২ সালে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দাড়ানোর জন্য আমার এককালীন রুমমেট অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী (বর্তমান সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী) একজন সাংবাদিক সহ আমার চেম্বারে এসে আমাকে প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে স্কাউট ভবনে তার চেম্বারে দুই দিন আমার সাথে মিটিং হয়। বিএনপির মহাসচিব দুই দিন মিডিয়াতে ঘোষণা দিলেন- “বি.এন.পি দলীয়  প্রতীকে নির্বাচন করবে না, তবে যে কেহ স্থানীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারবে”। মহা সচিবের আশ্বাসে ঘটা করেই প্রার্র্থী হলাম, বি.এন.পির আপামর নেতাকর্মী আমার নির্বাচন করেছে আন্তরিকতার সাথে। ঢাকার নেতারা কেউ কেউ আর্থিক সহযোগীতা করেছেন, এর মধ্যে আমার জেল পার্টনার আব্দুল আউয়াল মিন্টুও ছিলেন। মহাসচিব সহ অনেক কেন্দ্রীয় নেতা সময়ে সময়ে মিডিয়াতে আমার স্বপক্ষে বক্তব্য রেখেছেন। কিন্তু নাটকীয়ভাবে নির্বাচনের ২দিন পূর্বে আমাকে দলীয় সব পদ থেকে অব্যহতি দেয়া হলো এবং নির্বাচনের ২ দিন পর দলের সকল পদ থেকে করা হলো বহিস্কার। নিয়তির খেলায় মহাসচিব ও নিতাই রায় চৌধুরী রইলেন বহাল তবিয়তে, আমি হলাম বহিস্কার। আমার নির্বাচন থেকে বিরত থাকতে পল্টন বিএনপি অফিসে নারায়ণগঞ্জের নেতাদের ডেকে নিষেধ করা হলো, বহিস্কার করা হলো মহানগর বিএনপির সেক্রোটারী বহু ভাবে নির্যাতিত নেতা এ.টি.এম কামালকে। পুলিশের নগ্ন ও নোংরা চেহারা দেখলাম আমার বাড়ী থেকে  ৭ দিনে ৩৫ জন নেতাকর্মীকে কোন কারণ ছাড়াই গ্রেফতার করেছে।

নির্বাচনে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দায়িত্বে থাকায় জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবিকে গ্রেফতার করা হলো। নির্বাচন থেকে বিরত রাখার জন্য নেতকর্মীদের বাড়ীতে বাড়ীতে হামলা চালিয়েছে পুলিশ, ভোট কেন্দ্রে পিটানো হয়েছে আমার সমর্থক নেতাদের, কেন্দ্র থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল অনেককে। এবারে আমার নির্বাচন ছিল ডাঙ্গায় বাঘ ও জলে কুমির থাকা উক্তির মতো।

একদিকে নিজ দলের স্টীম রোলার, অন্যদিকে সরকারের পুলিশী হামলা। মেজর হাফিজ (বর্তমান স্পিকার) নারায়ণগঞ্জ শহীদ মিনারে বিএনপির সভায় বলেছিলেন- “তৈমূর পাশ করেছিল, তাকে ফেল করানো হয়েছে- তাকে কেন বহিস্কার করা হলো তা বুঝতে পারলাম না?” বহিস্কারের পর দেশনেত্রী ম্যাডাম খালেদা জিয়া ১৪/০৫/২০২৩ইং তারিখে বলেছিলেন “আমার তৈমূর কই? তাকে কেন বহিস্কার করা হলো- দলে কি তার কোন অবদান নাই?”।

পরের দিন এ-সংবাদ আমি পত্রিকায় দেখেছি। ডা.  জাফর উল্ল্যাহ চৌধুরী ও মাহমুদুর রহমান মান্না জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন- “তৈমুর কে বহিস্কার একটি ভুল সিদ্ধান্ত”। লোকে বলে আমার ভাগ্য খারাপ; আমি বলি রাজনীতির বড় কোয়ালিফিকেশন তোষামোদীর সাথে চাটুকারীতা; হতে হবে-“যখন যেমন, তখন তেমন”; যা না পারলেই ভাগ্য নিয়ে টানা হেচরা। ভাগ্য প্রসন্ন থাকে তাদের জন্য যারা হতে পারে- “যখন যেমন, তখন তেমন”; যা আমি হতে পারি নাই, ভবিষ্যতেও হওয়ার সম্ভাবনা নাই। রাজনীতির অভিজ্ঞতাতে যা শিখলাম- তাহলো- “যা বলবে, তা করবে না, যা করবে, তা বলবে না”, পুরোটাই যেন মুনাফেকীর নাটক।