নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সরকারি তোলারাম কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। অনুষ্ঠানে বিএনপি, যুবদল ও বিএনপির জনপ্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানোকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, কটূক্তি ও হুমকির ঘটনায় কলেজ জুড়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি যেকোন সময় সংঘাতময় রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, সরকারি তোলারাম কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠান আয়োজনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিপক্ষে সরব অবস্থান নেয় ছাত্রশক্তি। বিশেষ করে অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের অতিথি হিসেবে দাওয়াত দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানকে রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত করা হচ্ছে।
এমন তীব্র বিরোধীতার মধ্যেই শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয় সেই নবীন বরণ। মঞ্চে উঠে ছাত্রশক্তির নেতারা এর সমালোচনা করলে হট্টগোল তৈরী হয়। এছাড়া ছাত্রদল ও ছাত্রফেডারেশনের কর্মীরা ছাত্রশক্তির জেলা আহবায়ক মাহফুজের মাইক কেড়ে নেয়ার চেষ্টার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এনিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরী হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
এদিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দাবি, নবীন বরণ অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজন করা হচ্ছে এবং এতে জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো অস্বাভাবিক কিছু নয়। বরং ছাত্রশক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েকদিন ধরে তীব্র বাকযুদ্ধ চলছে। ফেসবুকে একে অপরকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন পোস্ট, মন্তব্য ও লাইভে হুমকি-ধামকির ঘটনাও ঘটেছে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। নতুন করে ছাত্রশক্তির মহানগরের নেতা শিথিলকে ফোন করে হুমকি ধামকি দিয়েছে সাবেক মহানগর ছাত্রদলের নেতা আজিজুল ইসলাম রাজীব এমন অভিযোগ তুলে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ফেইসবুক কমেন্টে আদু ভাই শব্দ ব্যবহারকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত বাক্যলাপ হচ্ছে শিথিল ও রাজীবের মধ্যে।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বলছেন, “নবীনদের স্বাগত জানাতে তোলারাম কলেজ কতৃপক্ষ অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। কিন্তু ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা অহেতুক উস্কানি দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। পায়ে পাড়া দিয়ে বিবাদ করতে চাইছে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা বলছেন, সমালোচনা করায় নানান ভাবে হুমকি এবং মারধর করার কথা বলা হচ্ছে। ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের ডেকে এনে ছাত্রদলে ঠাঁই দেয়া হচ্ছে। সমালোচনা করলেই মারধর করার হুমকি দেয়া হয়। আমরা এই আচরণ সহ্য করবো না।
কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে শিক্ষা পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তারা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় ক্যাম্পাসে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরী হতে পারে। সেই সাথে দলগুলোর সিনিয়র নেতারা বসে এই দুই পক্ষের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমন করা প্রয়োজন। তা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বাধাগ্রস্ত হবে।





































আপনার মতামত লিখুন :