আওয়ামী লীগ শাসন আমলের শেষদিকে ব্যাপক বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে নাজেহাল হয়ে পড়েছিলো দেশের শিল্প ব্যবসায়ীরা। একে একে বন্ধ হতে শুরু করে বিপুল সংখ্যক শিল্প প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি হারিয়ে বেকার জীবন যাপন শুরু করেন শ্রমিকেরা।
একদিকে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি, অন্যদিকে বিদেশী অর্ডার কমে আসা। উভয় মিলিয়ে বাড়তে থাকে বেকার শ্রমিকের সংখ্যা।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে দেশের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো। করোনা, জ্বালানি সংকট এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কারণে লম্বা বিরতি তৈরী হয় উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোতে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ফের ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে প্রতিষ্ঠানগুলো। আওয়ামী মালিকানাধীন কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে গেলেও লোকসানে ধুকতে থাকা কারখানাগুলো সচল হতে শুরু করে।
কিন্তু নতুন করে নির্বাচনের পরপরেই গ্যাস সংকট এবং বিদ্যুৎ সংকটে চোখে অন্ধকার দেখছেন শিল্প মালিকেরা। বারংবার লোকসান গুনে হতাশ তারা। ভর্তুকি দিয়ে কারখানা চালিয়ে রাখতে রাজি নন অনেকেই। সেই সাথে বায়াররা অর্ডার অন্যত্র সরিয়ে নেয়ায় এই শিল্পের ভবিষ্যত নিয়ে হতাশা বাড়ছে মালিকদের মাঝে। লোকসান কমাতে একাধিক সেকশন বন্ধ করে দেয়া এবং কর্মী ছাটাই করার কথা ভাবছেন তারা।
গত এক মাসের বেশী সময় ধরে গ্যাস সংকটের কারনে স্থবির হয়ে পড়েছে ডাইং ও টেক্সটাইল মিলগুলো। বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ডাইং সেকশন বন্ধ করে রাখা হচ্ছে অথবা বিকল্প জ্বালানি দিয়ে সচল রাখার চেষ্টা চলছে। যা তাদের খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে কয়েকগুন। এমন অবস্থায় সরকারের কাছে ছয় দফা দাবীও উত্থাপন করেছেন নীট ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিকেএমইএ।
গত শনিবার সাংবাদিকদের ব্রিফিং এ মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘গত মাসের ২০ তারিখ থেকে গ্যাস সংকট শুরু হয়েছে। যা প্রায় এক মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই সময়ে সম্পূর্ণরূপে উৎপাদন বন্ধ ছিলো। আমাদের জ্বালানি মন্ত্রী আশ্বস্ত করেছিলেন ১০ তারিখ থেকে স্বাভাবিক হবে। দুইদিন গ্যাস আসার পর এরপর আবারও গ্যাস বন্ধ। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের রপ্তানী আদেশ শীপমেন্ট করতে পারছি না। অনেক অর্ডার অন্যত্র চলে যাচ্ছে। বায়াররাও শংকিত যে আমরা তাদের দেয়া অর্ডার সময়মত দিতে পারবো কিনা। এই কারনে তারা আগামী সিজনের বেশ কিছু অর্ডার অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে।
এমন অবস্থায় সরকারের কাছে ছয় দফা দাবী উত্থাপন করে হাতেম বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারনে আমরা শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছি না। জুন জুলাই মাসের গ্যাস বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসের কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ যেন করে দেয়া হয়। কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান গ্যাস বিল পরিশোধ করতে ব্যার্থ হলে কোনভাবেই যেন তাদের লাইন না কাঁটা হয়। গ্যাস সংকটের মধ্যে আমরা শিল্প মালিকরা কি করতে পারি এই বিষয়ে সরকার যেন সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আমাদেরকে দেয়। প্রতি সপ্তাহে যেন সরকার ব্রিফিং করে এই বিষয়ে আপডেট দেয়া হয়। কারন আমরা অন্ধকারে আছি পুরো বিষয় নিয়ে। প্রতিনিয়ত নানান গুজব ছড়াচ্ছে।
পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যতিত অন্যান্য যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়। অবৈধ আবাসিক গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সরকার যেন কঠোর ব্যবস্থা নেয়। তিতাস বলছে তাদের ৮ থেকে ১০ পার্সেন্ট সিস্টেম লস হয়, অর্থ্যাৎ এই পরিমান গ্যাস প্রতিনিহত চুরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের অনেকেই ঋণ পরিশোধে ব্যার্থ হবে। তাদের যেন ঋণখেলাপি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা না হয় সেই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অনুরোধ করা হচ্ছে।’





































আপনার মতামত লিখুন :