News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

নতুন এসপির দিকে তাকিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসী


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ১০:১৬ পিএম নতুন এসপির দিকে তাকিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসী

শিল্প ও বাণিজ্যনগরী হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জে মানুষের ব্যস্ততা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও। নগরী থেকে শিল্পাঞ্চল, মহাসড়ক থেকে নদীপথ বিভিন্ন এলাকায় মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, আধিপত্য বিস্তার ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অপরাধের ধরন ও অপরাধীদের তৎপরতায় কিছুটা পরিবর্তন এলেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি পরিস্থিতি। এমন বাস্তবতায় জেলার নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাবিবুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ায় তার দিকে তাকিয়ে আছেন নারায়ণগঞ্জবাসী। নতুন এসপির কাছে মানুষের প্রধান প্রত্যাশাÑআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন। বিশেষ করে ছিনতাই ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বন্ধ, চাঁদাবাজি নির্মূল এবং সন্ত্রাসী কর্মকা-ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা চান নাগরিকরা। তাদের মতে, নিয়মিত অভিযান ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অপরাধের মূল কারণ এবং নেপথ্যের পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করা জরুরি।

নারায়ণগঞ্জে ছিনতাই এখন শুধু গভীর রাতের সমস্যা নয়। দিনের বিভিন্ন সময়ও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাসস্ট্যান্ড, অলিগলি ও শিল্পাঞ্চলসংলগ্ন এলাকায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। কর্মস্থল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ পথচারীদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কোথাও কোথাও আলোস্বল্পতা, পর্যাপ্ত টহলের অভাব এবং অপরাধপ্রবণ এলাকায় পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি না থাকাকে ঝুঁকির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

অন্যদিকে, মাদককে কেন্দ্র করে অপরাধের বিস্তারও বড় চ্যালেঞ্জ। সীমান্তবর্তী অঞ্চল না হলেও নারায়ণগঞ্জের ভৌগোলিক অবস্থান, নদীপথ, শিল্পাঞ্চল ও রাজধানীর নিকটবর্তী হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের মাদক কারবারের অভিযোগ রয়েছে। মাদককে ঘিরে কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে শুধু মাদক বহনকারী বা খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার না করে সরবরাহের উৎস ও অর্থের যোগানদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

কিশোর গ্যাং নিয়েও দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় কিশোর ও তরুণদের দলবদ্ধ চলাফেরা, মারামারি, ছিনতাই, মাদক সেবন এবং আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে অনেক সময় কয়েকজনকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হলেও কিছুদিন পর একই এলাকায় নতুন করে অপরাধের অভিযোগ ওঠে। ফলে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে স্থায়ী সমাধানের জন্য পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চাঁদাবাজির অভিযোগও নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী ও পরিবহন খাতের অন্যতম উদ্বেগ। বিভিন্ন বাজার, পরিবহন স্ট্যান্ড, নির্মাণকাজ এবং শিল্পাঞ্চলে চাঁদাবাজির অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এমন অভিযোগও রয়েছে। নতুন এসপির জন্য এখানে বড় পরীক্ষা হবে অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা। জেলার হাজারো শিল্পকারখানায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কাজ করেন। কারখানা ছুটি বা খোলার সময় সড়কে মানুষের চাপ বাড়ে। এ সময় যানজটের পাশাপাশি ছিনতাই ও হয়রানির অভিযোগও পাওয়া যায়। শিল্পমালিকদের নিরাপত্তা, শ্রমিকদের নিরাপদ যাতায়াত এবং শিল্পাঞ্চলে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধ করাও পুলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

এদিকে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অপরাধের পর দ্রুত মামলা নেওয়া, তদন্তের অগ্রগতি জানানো এবং ভুক্তভোগীকে নিরাপত্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। থানায় গিয়ে যেন সাধারণ মানুষ হয়রানি বা অবহেলার শিকার না হন এটিও নতুন এসপির কাছে বড় প্রত্যাশা।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, নতুন এসপি দায়িত্ব নেওয়ার পর পুলিশের কর্মকা-ে গতি ও দৃশ্যমানতা বাড়বে। শুধু বড় কোনো ঘটনা ঘটলে অভিযান নয়, অপরাধ ঘটার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা কিংবা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে সেটিও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের আওতায় আনার দাবি রয়েছে।

সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জের নতুন এসপির সামনে চ্যালেঞ্জ কম নয়। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় নতুন বাস্তবতা, অপরাধীদের পরিবর্তিত কৌশল, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার, চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা সবকিছু সামলাতে হবে একসঙ্গে। তাই নতুন এসপির কাছে নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রত্যাশাও বড়।

মানুষ এখন দেখতে চায় নতুন নেতৃত্বে পুলিশের কার্যক্রম কতটা বদলায়, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কতটা কঠোরতা আসে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত হয়। কথার চেয়ে কাজের মাধ্যমে সেই আস্থা অর্জনই হবে নতুন এসপির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষার ফলাফলের দিকেই এখন তাকিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসী।