News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২

৫ বছরেও তদন্ত কমিটির ২৩টি সুপারিশের বাস্তবায়ন হয়নি


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২৬, ১০:২৪ পিএম ৫ বছরেও তদন্ত কমিটির ২৩টি সুপারিশের বাস্তবায়ন হয়নি

৫ বছর আগে নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যায় ‘এমভি-এসকেএল-৩’ নামে কার্গো জাহাজের ধাক্কায় এমভি সাবিত আল হাসান নামের লঞ্চ ডুবিতে ৩৪ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনার পরে নৌ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদনে ২৩টি সুপারিশ দাখিল করেছিল। জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটিও ২১টি সুপারিশ দাখিল করেছিল। এরপর বছর ঘুরতে না ঘুরতেই আরো একটি লঞ্চডুবিতে ১০ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনাতেও তদন্ত প্রতিবেদনে একই ধরনের সুপারিশ করেছিল তদন্ত কমিটি। তবে ৫ বছরেও সেসব তদন্ত প্রতিবেদনের বেশীরভাগেরই বাস্তবায়ন হয়নি। বরং এখনো সানকেন ডেকের লঞ্চই চলাচল করছে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে।  

জানা গেছে, ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল শহরের কয়লাঘাট এলাকায় এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু সংলগ্ন এলাকায় এমভি সাবিত আল হাসান নামের যাত্রীবাহী লঞ্চকে পেছন থেকে এসকেএল-৩ কার্গো ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে দেয়। এতে লঞ্চের কিছু যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও ২ শিশু, ১৭ নারীসহ ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার রাতে জেলা প্রশাসনের ৭সদস্য ও বিআইডব্লিউটিএর ৫ সদস্যের দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরদিন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে আরো একটি ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ এবং জেলা প্রশাসনের পৃথক ৩টি তদন্ত কমিটি তদন্ত শেষে ২৩টি ও ২১টি সুপারিশ প্রস্তাবনা করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।

২০২২ সালের ২০ মার্চ দুপুরে একই এলাকায় এম ভি আফসার উদ্দিন নামে যাত্রীবাহি লঞ্চটিকে গ্রুপের মালিকানাধীন এম এল রূপসী ৯ নামে একটি পণ্যবাহি কার্গো জাহাজ ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে দেয়। এসময় নদীতে লাফিয়ে পড়ে অধিকাংশ যাত্রী তীরে উঠলেও নারী ও শিশুসহ ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাতেও বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের উপ পরিচালক বাবু লাল বৈদ্য বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই লঞ্চ ডুবির ঘটনায় নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের পৃথক ২টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেসময় কার্গো জাহাজের বেপরোয়া গতি ও নির্মাণাধীন তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর ত্রুটিপূর্ণ নকশাকে দায়ী করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি। একই সঙ্গে নদীর মাঝখানে নির্মাণাধীন তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর পিলার স্থাপন করা এবং নৌপথে প্রতিবন্ধকতামূলক নির্মাণসামগ্রী রেখে নৌপথ সরু করে ফেলাকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনেও কার্গো জাহাজের বেপরোয়া গতি, চালকের উদাসীনতায় দূর্ঘটনার অন্যতম কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে যেসব সুপারিশ করা হয়েছিল সেগুলোর কোনটিরই বাস্তবায়ন হয়নি।

২০২২ সালের ২০ মার্চ লঞ্চডুবির পরে দীর্ঘ ৩৪ দিন নারায়ণগঞ্জ থেকে ৭টি রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ ছিল। ৩৪ দিন পরে ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে যাত্রী সাধারণের চলাচলের স্বার্থে লঞ্চ চলাচল শুরু হলেও তৎকালে ৬টি শর্তাবলী জুড়ে দিয়েছিল বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। যার মধ্যে অন্যতম ছিল সানকেন (নিচু) ডেকের লঞ্চগুলোকে হাইডেক (উচু) বিশিষ্ট নৌযানে প্রতিস্থাপন করতে হবে। তবে দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও ওইসব সানকেন ডেকের লঞ্চগুলোকে হাইডেকে পরিণত করা হয়নি। এছাড়াও শর্তাবলীর মধ্যে ছিল স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারকৃত লঞ্চসমূহ নির্দিষ্ট লেইনে চলাচল এবং সকল ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারকৃত প্রত্যেকটি লঞ্চে চলাচলের পূর্বে বাধ্যতামূলতভাবে ভিএইচএফ সংযোজন, সার্ভে সনদে উল্লেখিত মাস্টার ও ড্রাইভার দ্বারা লঞ্চ পরিচালনা করা এবং সার্ভে সনদে উল্লেখিত সংখ্যক জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জামাদি লঞ্চের বা নৌযানের যথাস্থানে রাখা নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া নৌ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি যেসব সুপারিশ করেছিল অদ্যাবধি সেসব বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। অদ্যাবধি তদন্ত কমিটির সেসব সুপারিশের বেশীরভাগই বাস্তবায়ন হয়নি।