নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার চাঁদমারী মাউরাপট্টিতে নিজ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে নাসির হোসেন হত্যা মামলার মূল আসামী শরীফের আত্মসমর্পন নিয়ে লুকোচুরি করার অভিযোগ উঠেছে কোর্ট পুলিশের বিরুদ্ধে। ১২দিন পূর্বে নাসির হত্যাকান্ডের মূল হোতা শরীফ আদালতে আত্মসমর্পণ করলেও বিষয়টি গোপন রাখতে কোর্ট পুলিশের জিআরও সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ গত ১৪ মে দুপুর সাড়ে ১২টায় চাঁদমারী মাঊরাপট্টি ডিস ইন্টারনেট ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে ঢুকে নাসির হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এতে সিসিটিভি একটি ফুটেজে শরিফ ও জুয়েলকে দৌড়ে যেতে দেখা গেছে। ঘটনার পরে নিহতের স্ত্রী সায়মা আহম্মেদ বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন শরিফ (৪০), জুয়েল (২০), আরিফ (৩০), সজিব (৩৬), শান্ত (২৮), নাঈম (২৫), মজিদ (৪২), আব্দুস সাত্তার বাবু (৫২), আবির (২৪) ও রুমি (৩০) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন। ঘটনার পরপর সজিব, শান্ত, আরিফ ও নাঈম সহ ৪জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এদিকে হত্যাকান্ডের দীর্ঘ প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও আসামীদের গ্রেফতারে ব্যর্থ পুলিশ। এ ঘটনা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠতে শুরু করেছেন এলাকাবাসী। গত ২৪ জুন দুপুরে নাছির হত্যার বিচার দাবী ও মাদকের বিস্তার রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবরোধ করে এই বিক্ষোভ করেন।
এসময় প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় এই সড়ক অবরোধ করে রাখেন এলাকাবাসী। সেই সাথে চিহ্নিত সন্ত্রাসী শরীফের ফাঁসি দাবী করে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মো. শামীম হোসাইন ও ফতুল্লা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবু আলম ঘটনাস্থলে এসে এলাকাবাসীকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। সেই সাথে এলাকাবাসী সড়ক ছেড়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গনে যান। এরপর নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে বিভিন্ন দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
নাসির হত্যাকান্ডের মূলহোতাদের গ্রেফতারের দাবিতে যখন এলাকাবাসী উত্তাল হয়ে উঠেছিল তখনই অভিযোগ উঠেছে নাসির হত্যা মামলার প্রধান আসামী ১২ দিন আগে আদালতে আত্মসমর্পণ করলেও এ বিষয়টি তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে গোপন করে গেছেন কোর্ট পুলিশের জিআরও এসআই দুলু শিকদার।
নিহতের স্বজনরা জানান, মামলার প্রধান আসামী আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন অথচ তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং বাদিপক্ষের আইনজীবীর কাছে বিষয়টি চেপে যাওয়া রহস্যজনক। তাদের অভিযোগ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে শরীফের আত্মসমর্পণের বিষয়টি চেপে গেছেন ফতুল্লা থানার জিআরও এসআই দুলু শিকদার।
মামলার বাদিপক্ষের আইনজীবী সালাউদ্দিন ভূইয়া সবুজ জানান, শরীফ আত্মসমর্পণের বিষয়ে কোর্ট জিআরও যেমন তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অবহিত করেনি তেমনি আমরাও অবগত হতে পারিনি। এরই মধ্যে মামলাটি থানা থেকে ডিবিতে স্থানান্তর হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে মামলার পূর্বতন তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার এসআই শামীম জানান, গত ২৪ জুন মামলাটি ফতুল্লা থানা থেকে ডিবিতে বদলী হয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে মামলার নথিপত্র ডিবিতে পাঠিয়েছেন। শুনেছে মামলাটি ডিবির এসআই মিঠুকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
শরীফ আত্মসমর্পণের বিষয়টি জানতেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি জানান, রোববার তিনি বাদিপক্ষের মাধ্যমে শুনেছেন। পরে আদালতে খোঁজ নিয়ে সত্যতা নিশ্চিত হয়েছেন। আদালতের জিআরও তাকে কেন জানায়নি এমন প্রশ্নে তিনি জানান, এ বিষয়টি তিনিই ভাল বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে জানতে মামলার তদন্তকারী সংস্থা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নিয়মানুযায়ী কোর্ট জিআরও বিষয়টি তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। কিন্তু এক্ষেত্রে হয়তো অর্ডার শীট কোন কারণে মিসটেক হয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে।
এ বিষয়ে জানতে কোর্ট জিআরও এসআই দুলুু শিকদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ জানান, এখানে গ্যাপ ছিল। এটা ইচ্ছাকৃত ছিলনা। কোর্ট জিআরও হয়তো জানাতে ভুলে গিয়েছিল। আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ আদৌ সত্য নয়। বিষয়টি নেগেটিভ নেয়ার মতো নয়। আর আসামীতো ছাড়া পেয়ে গেছে এমনটিও নয়। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তদন্তকারী সংস্থাকে অবহিত করেছি।








































আপনার মতামত লিখুন :