নারায়ণগঞ্জ হকার ইস্যুতে আবারো পুরানো খেলা দেখতে পারছে নগরবাসী। বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে ২০১৮ সালে আইভীর দেয়া মামলা হকাররা ছিলো আয়েশে। এবারও সাখাওয়াত হোসেনের দেয়া মামলায় হকাররা রয়েছে প্রকাশ্যে। মামলা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাছে এখনো গ্রেপ্তার হয়নি সিটি কর্পোরেশনের কর্মীদের উপর হামলাকারীদের। এদিকে প্রতিনিয়ত হকার উচ্ছেদে অভিযান চললেও সন্ধ্যায় আবারো পুরানো রূপ ফিরে গেছে ফুটপাতে হকার। এক সপ্তাহে ব্যবধানে একজন অভিযুক্ত হকারকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি ফুটপাত থেকে অবৈধ হকারদের দখলমুক্ত করতে মাঠে নেমে ছিলেন তৎকালীন মেয়র আইভী। এতে আইভী ও শামীম ওসমান গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও উভয় পক্ষের গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই সময়ে আইভী নির্দেশে হকারদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও গ্রেপ্তার হয়নি। ওই সময়ে শামীম ওসমানের পক্ষে নেয়া হকারদের নিয়ে এই রাজনৈতিক রূপ দেওয়া শুরু করেন নারায়ণগঞ্জের বাম রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দরা। সেসময় বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, আবু নাঈম খান বিপ্লব সহ অন্যান্য বাম নেতারা হকারদের পক্ষে মাঠে নামেন। তাদের নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ সহ হকার বসতে না দিলে নারায়ণগঞ্জকে অচল করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। সেই সময় হকার ইস্যুতে এন্ট্রি নেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। তিনি ঘোষণা দেন হকার বসবে।
এর কয়েক মাস পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে হারুণুর রশিদ যোগ দিলে হকার ইস্যুৎতে তৎপর হন। ওই সময়ে হকার বসানো নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার তৎকালীন ওসিকে বদলী করেন তিনি। এসপি হারুন টানা ৪৫দিন নারায়ণগঞ্জের ফুটপাতে কোনো প্রকার হকার বসতে দেননি। ফুটপাতের হকারদের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্সনীতি টানা ৪৫দিন নগরবাসীকে হকারের দুর্ভোগ থেকে স্বস্তি দিতে সক্ষম হয়েছিলো। পরবর্তীতে হকার ইস্যুটি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক রূপ নিতে থাকে।
হকার নেতারা তাদের পুনর্বাসনের দাবিতে ২০ এপ্রিল ফুটপাতে বসতে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে নারায়ণগঞ্জের বেশ কয়েজন বাম নেতাদের সাথে তারা যোগাযোগ করছেন। ইতোমধ্যে হকারদের সংঘটিত করার জন্য কাজ করছেন কয়েকজন বাম নেতারা। সচেতন মহলের দাবি, এর আগে পুলিশের সফল একটি উচ্ছেদ কার্যক্রমকে রাজনীতিকরণ করেছিলেন এই বাম নেতারা। তারা তাদের নেতৃত্বের খাতিরে নারায়ণগঞ্জের লাখ লাখ সাধারণ মানুষের ললাটে হকার নাম দুর্ভোগ নিয়তি করে দিয়েছিলেন। দীর্ঘ বছর পর নাসিক প্রশাসকের উদ্যোগে সেই অবস্থা থেকে মুক্তি মিলেছে। নতুন করে আবারো সেই পুরনো খেলা যদি কেউ খেলতে চায় তাহলে সেটা নগরবাসীকে একত্রিত হয়ে মোকাবেলা করতে হবে।
৪ মে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) উচ্ছেদকর্মীদের ওপর হকারদের হামলা ঘটনা ঘটে। শহরের চাষাঢ়া এলাকার নূর মসজিদের সামনে এই ঘটনায় আহতদের সঙ্গে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই হামলার ঘটনায় সিটি করপোরেশনের ৬ জন উচ্ছেদকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। আহতদের মধ্যে দুজন হলেন- জাহাঙ্গীর এবং রুহুল। ৫ মে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন নাসিকের ভারপ্রাপ্ত আইন কর্মকর্তা মাজহার উদ্দিন খন্দকার।
জানা গেছে, হকারদের হামলার পর অনেকটাই হতভম্ব অবস্থা নাসিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের। হামলার পর নাসিক কর্মীদের কেউ কেউ ব্যক্তিগত কাজেও চাষাঢ়ার দিকে আসতে ভয় পাচ্ছেন। কারন, মুখ চিনে রেখে হামলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে হকাররা। গত সোমবার বিকেলে হামলা চালানো হয় নাসিকের উচ্ছেদ কর্মীদের উপর। ঘটনার পর একজন অভিযুক্ত হকারকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। মামলা হলেও হকাররা এদিন সকাল থেকেই ফুটপাত দখলে রেখে নিজেদের মত ব্যবসা করে যাচ্ছে। কোন কিছুতেই পরোয়া করছেন না প্রশাসকের নির্দেশনার।





































আপনার মতামত লিখুন :