নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হতাশা যেন দিন দিন বাড়ছে। একদিকে দীর্ঘদিন ধরে দেয়া হচ্ছে না কমিটি। অন্যদিকে দলের নেতারা ছাত্রদল কর্মীদের খোঁজ খবর নিচ্ছেন না এমন অভিযোগ প্রচুর। আর্থিক কষ্টে আছেন অনেকেই। বিশেষত নেতারা নানান ভাবে গার্মেন্টস, ঠিকাদারি সহ নানান ব্যবসা বাণিজ্য করে বিপুল অর্থের মালিক হলেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা চলছেন ব্যাপক অর্থকষ্টে। এমন অবস্থায় অনেকেই দল ছাড়ার কথা ভাবছেন, যা প্রকাশ করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আবার কেউ রাজনৈতিক দল পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দিচ্ছেন ঘনিষ্টজনদের।
বৃহস্পতিবার জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দোলন একটি পোস্ট তার নিজ একাউন্টে শেয়ার দেন। যেখানে দেখা যায় ফতুল্লার কাশিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন কাঁধে এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের বোতল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। প্রেক্ষাপটে বোঝা যাচ্ছে তিনি গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ বা ব্যবসার সাথে যুক্ত আছেন। সেই ছবির বিষয়ে দোলন প্রশ্ন ছুড়ে দেন কাশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে।
ফতুল্লা থানার সাবেক ছাত্রদল নেতা ও বর্তমানে যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় কায়েস আহমেদ পল্লব লিখেন। কাশিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন সহ ছাত্রদল ও যুবদলের প্রতিটি ত্যাগী নেতাকর্মীদের বর্তমান পরিস্থিতি এমন। আরও কত নেতাকর্মীদের অবস্থা যে কতটা খারাপ তা বর্ননা করার মত না।
এমন অবস্থা যে আরও অনেকের তা বোঝা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতাকর্মিদের হতাশা দেখলে। ছাত্রদল নেতা লিয়ান মাহমুদ আকাশ লিখেন, দুঃসময়ে কর্মী প্রয়োজন থাকলেও সুসময়ে আপন ছাত্রলীগ করা ভাইগ্না মূল্যায়ন পায়। এটাই বাস্তবতা। আজিজ অর্নব নামে একজন লিখেন, এই শাহাদাতের জন্য যারা নেতা হয়েছে তারা আজ বান্ডেল গুনছে। আবারও বিএনপির খারাপ সময় আসবে খুব শীঘ্রই, তখন আর শাহাদাতদের পাওয়া যাবে না। নেতাদের কিছুই হয় না, কর্মীরা রাস্তায় মরে।
মাকসুদ মাসুম লিখেন, এই দল একদিন কর্মী শূন্য হয়ে যাবে। সেই দিন বেশী দূরে না। যারা দলের জন্য কাজ করেছে তাদের অর্থনৈতিক ভাবে মূল্যায়ন করুন, আপনি খাবেন আর তারা না খেয়ে থাকবে তা হবে না। দুর্জয় শান্ত লিখেন, ‘আমাদের এলাকার ফ্যাসিস্ট সংগঠন ছাত্রলীগের ছেলেরা ছাত্রদলের সাথে মিলেমিশে বিভিন্ন ব্যবসা বাণিজ্য করছে। প্রতি মাসে ৩০/৪০ হাজার টাকা ইনকাম করে। এগুলো দেখেও কেউ দেখে না।
মাহফুজুর রহমান নিতুল লিখেন, শুধু কাশিপুর না, পুরো ফতুল্লা থানা ছাত্রদলেরর একই দূর্দশা। টিটু প্রধান লিখেন, অনেকে দল ক্ষমতায় আসার পর বিদেশে চাকরির জন্য চলে গেছে। অনেকে এখনও বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছে। হিমেল লিখেন, আমি কাশিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের দুইবার যুগ্ম আহবায়ক ছিলাম এখন ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি। কিন্তু আমার গরু পেলে সংসার চালাতে হয়, খুব কষ্টে আছি।
একাধিক ছাত্রদল নেতা জানান, কমিটি না থাকার পাশাপাশি নেতারা এখন আর ডাকে না। আর্থিক কষ্টের কারনে অনেকেই রাজনীতি থেকে সরে যেতে চাইছে। ক্ষমতায় থেকেও ছাত্রদলের রাজনীতি করে কষ্ট করার পর যুবদলের রাজনীতিতে প্রবেশের আগ্রহ পাচ্ছেন না অনেকে। যেই কারনে হতাশা তৈরী হচ্ছে। অনেকেই রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিচ্ছেন অনানুষ্ঠানিকভাবে। এর পেছনে পুরোপুরি দায়ী থানা বিএনপির নেতাকর্মীরা।
এদিকে ছাত্রদল থেকে এনসিপিতে যোগদানের গুঞ্জন রটেছে ফতুল্লায়। জেলা এনসিপির শীর্ষ এক নেতা বলেন, ‘ছাত্রদলের রাজনীতি করে অবমূল্যায়ন ও হতাশা থেকে অনেকেই এনসিপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রশক্তিতে যোগদান করতে চাইছে। তবে বর্তমানে ছাত্রশক্তির কমিটি রানিং থাকায় তাদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে যুবশক্তির রাজনীতিতে যোগদান করতে। আমাদের রাজনীতির ধরণ বিএনপির থেকে অনেকটা আলাদা। সেটিও তাদের বুঝিয়ে বলা হয়েছে। অনেকে আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং অনেকে সময় নিচ্ছেন। আমরা বলতে পারি আগামী জেলা যুবশক্তির কমিটিতে ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের দেখা মিলতে পারে। প্রতিনিয়ত এই পরিমাণ বাড়ছে।
কারন হিসেবে বলেন, ছাত্রদলের এই নেতাকর্মীরা ত্যাগী। তারা লড়াই সংগ্রামে সামনে ছিলো। কিন্তু বর্তমান রাজনীতিতে চোখের সামনে দলের ভেতর ছাত্রলীগের অনুপ্রবেশ এবং আওয়ামী ঘেষা লোকজনের দাপট দেখছেন। না পারছেন প্রতিবাদ করতে না পারছেন সহ্য করতে। এমন অবস্থায় আমাদের সাথে কাঁধে কাধ মিলিয়ে জুলাই আন্দোলনে লড়াই করায় পুরোনো সেই বন্ধুত্বের সূত্র ধরেই ভিড়তে চাচ্ছেন এনসিপিতে। আমরাও তাদের আন্তরিক ভাবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত।


































আপনার মতামত লিখুন :