নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সকল রাজনৈতিক দলগুলোই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। তবে ক্ষমতাসীন দল হিসেবে স্বাভাবিকভাবে বিএনপি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও নির্বাচন প্রস্তুতিতে বর্তমানে বিরোধী দলে থাকা জামায়াতে ইসলামী কোনোভাবেই পিছিয়ে নেই। তারা আগে থেকে আগে থেকেই দলীয় প্রার্থী হিসেবে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর আবদুল জব্বারের নাম ঘোষণা করেছেন।
সেই সাথে আবদুল জব্বারকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা নানা সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনের সময় এখনও চূড়ান্ত না হলেও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা আগে থেকেই নির্বাচনী মাঠ গোছানো শুরু করে দিয়েছেন। তারা জনগণের দ্বারে দ্বারে পৌঁছানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। যেখানে অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা নিজেদের পকেট ভারী করার জন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন সেখানে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা কিভাবে জনগণের কাছে পৌছাবেন তা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
জামায়াতের ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আবদুল জব্বার সাম্পতিক সময়ে ঘটে প্রত্যেকটি ঘটনাতেই জনগণের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সেই সাথে তিনি যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই সংশ্লিষ্ট এলাকার কাউন্সিলর প্রার্থীকে সাথে করে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে জামায়াতে ইসলামীর মেয়র প্রার্থী ও কাউন্সিলর প্রার্থী দুইজনেরই প্রচারণা হয়ে যাচ্ছে।
নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলাপ আলোচনা চলমান রয়েছে। আর এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে থাকেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। তারা নিজেদের মধ্যে প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে আলাপ আলোচনা চালিয়ে যেতে থাকেন। সেই সাথে বিভিন্নভাবে সামাজিক কার্যক্রমও চালিয়ে যেতে থাকেন।
বিশেষ করে এবারের ঈদুল ফিতরকে তারা বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছেন। তারা জনগণের দৌরগোড়ায় পৌঁছতে নিজেদের ব্যস্ত রেখেছেন। প্রার্থীদের আড়ালে রেখেই বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দলীয়ভাবে জানান দিয়ে আসছেন।
এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের আগে থেকেই তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। সেই সাথে তাদেরকে নিজ নিজ ওয়ার্ডে কাজ করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেছেন। গত ১০ এপ্রিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ মহানগরী শাখার রুকন (সদস্য) সম্মেলনে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার এই নাম ঘোষণা করেন।
ঘোষিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা হলেন- ১ নং ওয়ার্ডে মো. কফিল আহমাদ, ২ নং ওয়ার্ডে মো. জামাল হোসাইন, ৫ নং ওয়ার্ডে মাওলানা হাবিবুল্লাহ বাহার, ৬ নং ওয়ার্ডে মাওলানা আব্দুল গফুর, ৮ নং ওয়ার্ডে অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর দেওয়ান, ৯ নং ওয়ার্ডে মো. ইসমাঈল হোসাইন, ১১ নং ওয়ার্ডে মো. খোরশেদ আলম, ১৩ নং ওয়ার্ডে এইচ এম নাসির উদ্দিন, ১৪ নং ওয়ার্ডে মো. সারওয়ারুল ইসলাম খান, ১৫ নং ওয়ার্ডে মো আনিসুজ্জামান, ১৬ নং ওয়ার্ডে মো. আব্দুল বাতেন, ১৭ নং ওয়ার্ডে মো. তমিজ উদ্দিন, ১৮ নং ওয়ার্ডে মো. তোফাজ্জল হোসেন টিটয়া, ২১ নং ওয়ার্ডে মো. ফজলুর হাই জাফরি, ২৫ নং ওয়ার্ডে হাফেজ আব্দুল্লাহ ও ২৭ নং ওয়ার্ডে মো. মহিউদ্দিন।
এদের মধ্যে বাকী থাকা ওয়ার্ডগুলো পরে ঘোষণা করা হবে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার। তিনি বলেন, আপাতত এই কয়েকজনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বাকীগুলো আলোচনার ভিত্তিতে পরে ঘোষণা করা হবে। একই সাথে যাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে তারাও পরবর্তীতে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তন হতে পারেন।
এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
মহানগরের ম্যাসব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ২ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত মহানগরী, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারী ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সাথে মতবিনিময় ও স্মরণসভা। ১৭ জুলাই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবীতে যুবর্যালী। ১৮ থেকে ৩১ জুলাই থানা, ওয়ার্ডে জুলাই স্মৃতিচারণ, ডুকুমেন্টারী প্রদর্শন, আলোচনা সভা এবং শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল। সেই সাথে থানা ভিত্তিক গণরায় বাস্তবায়নের দাবীতে গণসমাবেশ। ১ আগস্ট মহানগরীর উদ্যোগে গণমিছিল। ২ থেকে ৪ আগস্ট শ্রমিক গংগঠনের উদ্যোগে গণসমাবেশ ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন। ৫ আগস্ট মহিলা বিভাগের উদ্যোগে আলোচনা সভা, দোয়া এবং ছাত্রনেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা।
আর এসকল কর্মসূচিতেও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আবদুল জব্বারের অবস্থান জানান দেয়া হয়েছে।
এর আগে দীর্ঘ প্রায় কয়েক দশক পর নারায়ণগঞ্জে খোলা মাঠে কর্মী সম্মেলন করেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামী। তার আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি শহরের ইসদাইর ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে জনসভা করার পর তারা কর্মী সম্মেলনও করেছেন। গত ১৯ জুন সকালে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে জনগণের দল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এখানে ক্যান্ডিডেট দেবে। আজ আপনাদের কাছে আমরা এমন একজন মানুষ উপহার দিয়ে যাচ্ছি; যিনি কিশোর জীবন থেকে তিলে তিলে সৎ চরিত্র ধারণ করেছেন, যার চোখে স্বপ্নে মানুষের কল্যাণ। আমরা সেই আপনাদের প্রিয় মানুষ, প্রিয় জননেতা মাওলানা আবদুল জব্বারকে আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র হিসেবে প্রার্থী ঘোষণা করছি।
জান যায়, ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ এর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিদায়ের পর নারায়ণগঞ্জে অঘোষিত নিয়ন্ত্রন নিয়ে নেয় সবশেষ ২০০১ হতে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা বিএনপি। এ দেড় বছরে নারায়ণগঞ্জে নানা ঘটনায় বিতর্কের মুখে পড়ে দলের অনেক নেতা। নেতিবাচক সংবাদের শিরোনাম হয় দলটি।
তবে জামায়াতে ইসলানের নেতাদের নিয়ে তেমন কোনো বিতর্ক হয়নি। যার ফলস্বরূপ নির্বাচনগুলোতে জামায়াতে ইসলামী ভালো সফলতা দেখিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবার স্থানীয় নির্বানচনগুলোতে সফলতাকে আরও বেশি ছড়িয়ে দিতে চান। সে লক্ষ্যে তারা তৃণমূল পর্যায়ে অবিরাম কাজ চালিয়ে আসছেন। তারা যে কোনো উপায়েই হোক জনগণের দ্বারে দ্বারে পৌছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

































আপনার মতামত লিখুন :