নারায়ণগঞ্জের শিল্পঘন এলাকাতে প্রতিদিন ৩ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাহিদা মেটাতে যেখানে জ্বালানি প্রয়োজন, সেখানে জ্বালানি সংকট নতুন সমস্যা তৈরি করছে। এমন অবস্থায় ঘাটতি পুষিয়ে নিতে জেনারেটরের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে কারখানা মালিকদের। নারায়ণগঞ্জের ডিপিডিসি সরবরাহকৃত অঞ্চলে লোডশেডিং কম থাকলে পল্লী বিদ্যুৎ সরবরাহকৃত এলাকায় থাকা শিল্প কারখানা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় ৩০-৪০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এতে শিল্প উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষি সেচ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর কর্মকর্তারা জানান, দৈনিক ২৫-৩০ শতাংশ ঘাটতি পূরণে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তবে ডিপিডিসির আওতাধীন কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অবস্থিত ‘ফতুল্লা ডাইং এন্ড ক্যালেন্ডারিং’ এর ম্যানেজার তুষার বলেন, ‘আমাদের উৎপাদন মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ আছে, পাশাপাশি গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক। তবে রাতের দিকে গ্যাসের চাপ কমে যায়। তখন বাড়তি জ্বালানি ব্যবহার করতে হয় আমাদের।
অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সরবরাহকৃত অঞ্চল বন্দরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বন্দর উপজেলার কেওঢালা এলাকার ‘টোটাল ফ্যাশন লিমিটেড’এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা কবিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের অন্তত দিনে ৫ ঘন্টা কারেন্ট থাকে না। উৎপাদন উৎপাদক ১০ টন থেকে কমে ৫ টনে নেমে এসেছে। একদিকে লোডশেডিং, অন্যদিকে জ্বালানি সংকট। উভয় মিলে আমরা বেশ চাপের মুখে আছি।
শহরের ভিটেক ফ্যাশন লিমিটেডের ম্যানেজার ইসমাঈল হোসেন বলেন, ‘আমরা একটা সুইং লেন থেকে ২৫০০ পিস পন্য উৎপাদন করতে হবে। সেখানে সারাদিনে আসছে ২ হাজার থেকে ২২০০ পিস। ফলে আমার উৎপাদন কম হচ্ছে। এর পুরোটার কারণ হচ্ছে লোডশেডিং এবং জ্বালানি সংকট। দ্রæত উত্তরণ না হলে সারাদেশের ব্যবসায়ীরাই ক্ষতির মুখে পড়বে।
বিকেএমইএ’র পরিচালক শাহরিয়ার সাঈদ বলেন, গত সিজনে আমরা যেই পরিমান অর্ডার পেয়েছি, এই সিজনে সেটা কমে গেছে। বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকার কারনে আমরা একদিকে সময়মত অর্ডার সাপ্লাই দেয়া নিয়ে শঙ্কায় আছি। সেই সাথে কোন কোন কারখানা মালিক ইচ্ছাকৃত ভাবেই কমিয়ে অর্ডার নিচ্ছেন যেন তারা সময়মত সাপ্লাই দিতে পারেন। এই অবস্থা থেকে দ্রুত উত্তরণ করা জরুরী।
বিকেএমইএ’র সহ সভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, জ্বালানি সংকট এবং লোডশেডিং এর কারনে উৎপাদন ১৫ থেকে ২০ পার্সেন্ট কমে গেছে। সময়মত অর্ডার সাপ্লাই দিতে না পারলে মালিক ক্ষতির মুখে পরবে। সেই সাথে পরবর্তী অর্ডার পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। আমাদের আশংকা এই উৎপাদন কমে যাবার পরিমান আরও বাড়তে পারে। দ্রুত সরকারি উদ্যোগ না নিলে আমরা বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়বো।
তিনি আরও বলেন, অর্ডার চলে যাচ্ছে প্রতিযোগী দেশে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।







































আপনার মতামত লিখুন :