News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২

উপজেলাতেও প্রার্থী দিবে জামায়াত


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: এপ্রিল ৪, ২০২৬, ১১:২৩ পিএম উপজেলাতেও প্রার্থী দিবে জামায়াত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই সারাদেশে স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে আলাপ আলোচনা চলমান রয়েছে। তারই ধারাবাহিকায় নারায়ণগঞ্জেও স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদেরকে বিভিন্নভাবে জানান দিয়ে আসছেন। আর এসকল স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমান দেশের প্রধান বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীও প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

ইতোমধ্যে তারা দেশের বিভিন্ন উপজেলায় তাদের দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করছেন। নারায়ণগঞ্জের ৫ টি উপজেলাতেও তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। যে কোনো সময় ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। তৃণমূল পর্যায়ের মতামতের ভিত্তিতে এসকল প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেছেন, সারাদেশে সকল স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার জন্য সকল শাখা এবং তৃণমূলকে বলেছি। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের কালীরবাজার এলাকায় শিল্পকলা একাডেমীতে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত বার্ষিক রুকন সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৫ টি উপজেলা রয়েছে। উপজেলাগুলো হলো- নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা, বন্দর উপজেলা, সোনারগাঁও উপজেলা, রূপগঞ্জ উপজেলা ও আড়াইহাজার উপজেলা। এসকল উপজেলার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হবে।

আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এসকল উপজেলাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগ নেতারা নামমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমেই দখলে রেখেছিলেন। সবগুলো উপজেলাতেই তাদের একচেটিয়া রাজত্ব ছিলো। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এসকল উপজেলাগুলোতে আবারও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরব হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নিজেদের সরব রেখেছেন।

এদিকে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপির জয় ঘটেছে, একটিতে জামায়াতের ইসলামী জোটের শরীক দল এনসিপি চমক দেখিয়েছে। গত দেড় দশকে এবার নারায়ণগঞ্জে সুষ্ঠু নির্বাচনের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে সেখানে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত, ঘটেনি কোন সহিংসতা। শান্তিপূর্ণ এ ভোটের পরিবেশে বিএনপির জয় হলেও একটি বিষয় সামনে এসেছে সেটা হলো বিএনপির বিরুদ্ধে ভোটারদের অবস্থান ও জামায়াত সহ অন্য দলের প্রতি সমর্থন। সেটাও একেবারে গোপন।

জেলার চারটি আসনে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী জামায়াতের ভোটের অবস্থান রীতিমত ঘাম ঝরিয়েছে। অথচ তারা যে সংখ্যক ভোট পেয়েছে সেরকম প্রচারণা তো ছিল নাই বরং কেউ কল্পনাও করতে পারেনি এ পরিস্থিতি। সেই ধারাবাহিকতা সামনের নির্বাচনগুলোতেও জামায়াতে ইসলামী ধরে রাখবেন বলে ধারণা বিশেষজ্ঞ মহলের।

জান যায়, ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ এর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিদায়ের পর নারায়ণগঞ্জে অঘোষিত নিয়ন্ত্রন নিয়ে নেয় সবশেষ ২০০১ হতে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা বিএনপি। এ দেড় বছরে নারায়ণগঞ্জে নানা ঘটনায় বিতর্কের মুখে পড়ে দলের অনেক নেতা। নেতিবাচক সংবাদের শিরোনাম হয় দলটি।

তবে জামায়াতে ইসলানের নেতাদের নিয়ে তেমন কোনো বিতর্ক হয়নি। যার ফলস্বরূপ নির্বাচনগুলোতে জামায়াতে ইসলামী ভালো সফলতা দেখিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবার স্থানীয় নির্বানচনগুলোতে সফলতাকে আরও বেশি ছড়িয়ে দিতে চান। সে লক্ষ্যে তারা তৃণমূল পর্যায়ে অবিরাম কাজ চালিয়ে আসছেন। প্রচার-প্রচারণার বাইরে থেকেই উপজেলাগুলোতে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা ছড়িয়ে পড়ছেন।

বিশেষ করে এবারের ঈদুল ফিতরকে তারা বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছেন। তারা জনগণের দৌরগোড়ায় পৌঁছতে নিজেদের ব্যস্ত রেখেছেন। প্রার্থীদের আড়ালে রেখেই বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দলীয়ভাবে জানান দিয়ে আসছেন।

অন্যদিকে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় আসার কারণে বিএনপিতে প্রতিদ্বন্দ্বীতার সংখ্যা অনেক বেশি বেড়েছে। একই সাথে তারা বর্তমানে ক্ষমতায় স্বাভাবিকভাবেই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। ফলে বিএনপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী থাকবে। আর একক প্রার্থী থাকায় ভোটের ফলাফলে তাদের এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।