নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক নেতারা বলছেন গত তিনদিন নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকদের যে আন্দোলন হয়েছে সেই আন্দোলনে নেতাদের কোনো ভূমিকা নেই। এমনকি এই আন্দোলনটি এখন আর তাদের হাতে নেই।
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম জানান, মজুরি বোর্ড গঠনের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। এটা আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিলো গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং গার্মেন্টস সেক্টরে মজুরি বোর্ড গঠন। সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এটা আমাদের প্রাথমিক বিজয়। কিন্তু লক্ষ করছি শ্রমিকেরা বুঝে না বুঝে বিভিন্ন জাগয়া অবরোধ ভাঙচুর করছে। এটা হয়তো তারা না বুঝে করছে। অন্যদিকে গার্মেন্ট মালিকদেরও দাবি শ্রমিকেরা কারখানা ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ করে না। কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতিকারীরা এসব কর্মকান্ড করছে। আমরা শ্রমিকদের বুঝানোর চেষ্টা করেছি মজুরি বোর্ড গঠন হয়েছে এখন প্রক্রিয়ার জন্য সময় দিতে হবে। আমার মনে হয় কিছু সংখ্যক অতি উৎসাহী শ্রমিক না বুঝে অথবা তাদেরকে সামনে রেখে কেউ কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি চেষ্টা করছে বলে আমার মনে হচ্ছে। সেই দুষ্কৃতিকারীদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি এম এ শাহীন বলেন, আমরা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে মজুরিবোর্ড গঠনের দাবি তুলেছিলাম। ইতোমধ্যে মজুরিবোর্ড গঠন হয়েছে। এখন আমাদের অপেক্ষা করতে হবে এই মজুরিবোর্ড একটা মজুরি নির্ধারণ করে ঘোষণা করবে। তখন যদি আমাদের মনমত না হয় তাহলে আমরা আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা দিতে পারি। যেহেতু মজুরিবোর্ড গঠন হয়েছে এখন অপেক্ষা করতে হবে। আজকে বললে কালকেই তো মজুরি ঘোষণা করতে পারবেনা। আমরা এই জিনিসটি শ্রমিকদের বুঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু তারা সেটা বুঝতেছে না তাদের মত করে আন্দোলন করছে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন জানান, শ্রমিকেরা ন্যূনতম ৩০ টাকা বেতন নির্ধারণের জন্য যে আন্দোলন করছে আমরা সেই মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে সংহতি জানাই। আমরা চাই শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি হোক। সরকার আন্দোলনের চাপের মুখে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এতে আমাদের আকাক্সক্ষা পূর্ণ হয়েছে। সেখানে শ্রমিক প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রের স্টেকহোল্ডাররা যাবে, একটা সুরাহা হবে। কিন্তু আন্দোলন এখন যে পথে যাচ্ছে তার সাথে আমরা একমত না। এই আন্দোলন এখন আর আমাদের শ্রমিক নেতাদের হাতে নেই। আজকে নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকদের যে আন্দোলন হয়েছে এখানে আমরা কোনো শ্রমিক নেতাই ছিলাম না।















-20261104095621.jpg)




















আপনার মতামত লিখুন :