ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেষ প্রচারণা ছিলো ৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধিতে শেষ সময় নির্ধারণ করা হলেও সোমবার ছিলো গণমিছিল জনসভার শেষ প্রচারণা প্রার্থীদের ব্যস্তরা। মঙ্গলবার ও বুধবার নির্বাচনে প্রচারণা বন্ধ থাকায় নির্বাচনের বিভিন্ন কার্যক্রমে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা। ৪৮জন প্রার্থী এবার নারায়ণগঞ্জের পাচঁটি আসনে অংশগ্রহণ করেছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ভোটারদের ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে পাচঁজন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে শেষ প্রচারণাও অনেক প্রার্থী গণমিছিল জনসভা ও উঠান বৈঠক করেনি।
রাজধানীর পাশে শিল্প অধ্যুষিত নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে বেড়েছে ভোটার ও ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা। গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাঁচটি আসনে মোট ভোটার ছিল ২২ লাখ ৫৫ হাজার ৬০ জন। যা এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ ৬৬ হাজার ২৩২ জনে। তাদের মধ্যে পুরুষ ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৯২৯ জন ও নারী ১১ লাখ ৬৭ হাজার ২৮৩ জন। এছাড়া হিজড়া ভোটার রয়েছেন ২০ জন। নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খসড়া তালিকায় বেড়েছে ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষের সংখ্যাও। এবার পাঁচটি আসনে ৭৯৭টি ভোটকেন্দ্র এবং ৪ হাজার ৯৭৯টি ভোটকক্ষ থাকবে। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, গত সেপ্টেম্বরে সারাদেশে সংসদীয় আসনগুলোর সীমানা পুননির্ধারণ করা হয়। সে অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ ৩, ৪ ও ৫ আসনেরও সীমানা পরিবর্তন হয়।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে শহর ও বন্দরে গণমিছিল ও জনসভা করেছেন বিএনপি প্রার্থী আবুল কালাম, ১১ জোটের প্রার্থী এবিএম মামুন সিরাজ, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি মাছুম বিল্লাহ সহ অন্যান্যরা। এ সময় প্রার্থীরা শহর-বন্দর মানুষের কাছে নিজেদের প্রতীকে ভোট চেয়ে দোয়া চান।
নারায়ণগঞ্জ-৫ নতুন সীমানা অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১১ থেকে ২৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং বন্দর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন- বন্দর, কলাগাছিয়া, মুছাপুর, ধামগড় এবং মদনপুর নিয়ে গঠিত। আগে এ আসনটিতে সদর উপজেলার গোগনগর ও আলীরটেক ইউনিয়নটি থাকলেও নতুন সীমানায় তা বাদ পড়েছে। খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮০ হাজার ২৮২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪০ হাজার ৮২০ জন এবং নারী ২ লাখ ৩৯ হাজার ৪৫৫। আসনটিতে হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৭ জন। ভোটাররা ১৬৩টি কেন্দ্রের ৯৩৪টি কক্ষে তাদের ভোট প্রদান করবেন।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন ফতুল্লায় বিএনপি জোটের প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমী ফতুল্লায় ও বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী নির্বাচনী জনসভা করেছেন। এদিকে ১১ দলের জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিনের পরিবর্তনের যাত্রা স্লোগানে এনায়েতনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে শেষ করেন প্রচারণায়।
নারায়ণগঞ্জ-৪ নতুন সীমানায় সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন-ফতুল্লা, কুতুবপুর, বক্তাবলী, কাশীপুর, এনায়েতনগর, গোগনগর ও আলীরটেক নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৪ সংসদীয় আসন। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৩২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৭০ হাজার ১৭ জন ও নারী ২ লাখ ৬৫ হাজার ৩০৪ জন। এছাড়া ৪ জন হিজড়া ভোটারও রয়েছেন। ভোটাররা ১৭৭টি কেন্দ্রের ১০১৪টি কক্ষে তাদের ভোট প্রদান করবেন।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান, ১১ জোটের প্রার্থী ডা. ইকবাল হোসাইন চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও অধ্যাপক রেজাউল করিম গণসংযোগ করেছেন। নারায়ণগঞ্জ-৩ নতুন সীমানায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি এসেছে এ আসনে। আগে কেবল সোনারগাঁ উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত হলেও এবার তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের ১০টি ওয়ার্ড। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৯৬১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৯৮ হাজার ৩০৮ জন ও নারী ২ লাখ ৮৮ হাজার ৬৫১ জন। এছাড়া ২ জন হিজড়া ভোটারও রয়েছেন। ভোটাররা ২০১টি কেন্দ্রের ১১২৮টি কক্ষে তাদের ভোট প্রদান করবেন।
নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ, ১১ জোটের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় গণমিছিল করেছেন। নারায়ণগঞ্জ-২ আড়াইহাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনটিতে এবার মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৯ হাজার ২৪৯ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮৩ জন পুরুষ এবং ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৬১ জন নারী। আসনটিতে হিজড়া ভোটার ৫ জন। এ আসনটিতে ১১৮টি কেন্দ্রে ৭০৭টি কক্ষ থাকবে।
নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি মোস্তাফিজুর রহমান দীপু ভুইয়া ও ১১ জোটের প্রার্থী জনসভা উঠান বৈঠকের মাধ্যমে শেষ প্রচারণা করেন। রূপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪ হাজার ৪১৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫ হাজার ১০১ জন, নারী ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩১২ জন এবং হিজড়া ২ জন। এ আসনটিতে ১২৯টি কেন্দ্রে ৭৬৩টি কক্ষ থাকবে।

































আপনার মতামত লিখুন :