চব্বিশের ৫ আগস্ট দুপুরে চাষাঢ়ায় এক দফা দাবি আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হন আবুল হোসেন স্বজন। ওই রাতেই ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয় সন্ধ্যায়। অবজারভেশন রুম ঘন্টাখানেক পর জ্ঞান ফিরলে জানতে চান- হাসিনার পতন হয়েছে কি না। হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেছেন এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ভাই মুচকি হাসি দেন। ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে তিনি চুপ হয়ে যান বলে জানিয়েছেন স্বজনের ভাই আবুল বাশার।
তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে বন্দর উপজেলার কুশিয়ারা গ্রামের বাসা থেকে তিনি ও আবুল হাসান বের হন। আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য তাঁরা চাষাড়া মোড়ের উদ্দেশে রওনা দেন। চাষাড়া মোড়ে আন্দোলনে যোগ দিলে বিজিবি, পুলিশ, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা তাঁদের ধাওয়া করে। পরবর্তী সময়ে তাঁরা চাষাড়া মোড়ে অবস্থান নেন। চাষাড়া মোড় থেকে মিশনপাড়ার দিকে মিছিল নিয়ে যান তাঁরা। আবার মিছিল নিয়ে চাষাড়া মোড়ের দিকে আসতে থাকেন, তখন ল্যাবএইড হাসপাতাল গলিতে শামীম ওসমানের নেতৃত্বে তাঁর ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমীরী ওসমান, শ্যালক তানভীর রহমান টিটু, শাহ নিজাম, আবদুল করিম বাবু (ডিস বাবু), কামরুল হাসান মুন্না, ছাত্রলীগ নেতা শুভ, রিয়াদ, সোহানুর রহমান শুভ্র, মেহেদী, ফরহাদসহ ১০০/২০০ জন অস্ত্রধারী তাঁদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি করা শুরু করেন। অয়ন ওসমানের পিস্তল থেকে ছোড়া গুলি তাঁর ভাই আবুল হাসানের বুকের বাঁ পাশে বিদ্ধ হয়।
আবুল বাশার আরও বলেন, গুলিবিদ্ধ আবুল হাসানকে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা না দেওয়ার জন্য শামীম ওসমানের নির্দেশ ছিল। তাই ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে তাঁর ভাইকে ভর্তি করানো হয়নি, চিকিৎসাও দেয়নি। তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে একটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন। ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁর ভাইকে দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টায় তাঁর ভাইকে অস্ত্রোপচারকক্ষে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচার শেষে তাঁকে পর্যবেক্ষণকক্ষে (অবজারভেশন রুম) নেওয়া হয়। জ্ঞান ফিরলেও পরদিন ৬ আগস্ট বিকেল ৫টার সময় তাঁর ভাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।


































আপনার মতামত লিখুন :