চলতি মাস অথবা আগামী মাসের প্রথম দিকেই শেষ হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি-মুক্তারপুর ৬ লেন সড়কের পঞ্চবটি-শাসনগাও সড়ক নির্মাণ কাজ। যার মধ্য দিয়ে লাখ লাখ শ্রমিকের ভোগান্তি কমবে। সেই সাথে ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার ব্যবসা পুরোপুরিভাবে সচল হয়ে উঠবে।
প্রকল্প ডেপুটি টিম লিডার ইঞ্জিনিয়ার মো. জহিরুল হক বলেন, প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মুক্তারপুর-পঞ্চবটি সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতালাকরণের কাজ নির্দিষ্ট সময়ে সমাপ্ত করার জন্য কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ৮০ শতাংশ। বিশেষ করে পঞ্চবটি থেকে শাসনগাও পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ কাজ চলতি মাসের শেষ অথবা ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকেই শেষ হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ অংশের গোপচর এলাকায় অধিগ্রহণ নিয়ে ঝামেলা রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে চলতি বছরের মধ্যেই নির্মাণ কাজ শেষ করে যান চলাচলের জন্য সড়কটি খুলে দেওয়া যাবে।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের শিল্পনগরী ফতুল্লার বিসিক শিল্প এলাকায় প্রায় ৭ শতাধিক শিল্পকারখানা রয়েছে। একই সাথে বিসিক থেকে মুক্তাপুর পর্যন্ত প্রায় ৩ শতাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। আর এসকল শিল্প প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪ লাখ শ্রমিক কাজ করে। পাশাপাশি মুক্তারপুরে ৫টি সিমেন্ট কারখানা সহ ৬টি হিমাগার থাকায় মুক্তারপুর-পঞ্চবটি সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে।
যাদের প্রতিদিনই এই সড়ক দিয়ে অসহনীয় ভোগান্তি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। যদি এই সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ করা যায় তাহলে লাখ লাখ ভোগান্তি ও অর্থনৈতিকভাবেও সচল হয়ে উঠবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে- ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। আর এতে করে মুন্সীগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা জেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সাথে চট্রগ্রাম সিলেট থেকে দক্ষিণাঞ্চল গামী যানবাহন ঢাকার ভিতর দিয়ে না যেয়ে এ সড়কে সরাসরি যাতায়াত করতে পারবে।
প্রকল্পটির বাস্তবায়নে প্রথমে ধাপে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা। সেবার ২০২৫ সালের ৩০ জুনে নির্মাণকাজ শেষ করার সময় নির্ধারণ ছিল। বর্তমানে সেতু কর্তৃপক্ষ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা করে। আর এই নির্মান কাজ শেষ হলে খুলে যাবে যোগাযোগের নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। লাঘব হবে মুন্সীগঞ্জ বাসীর দীর্ঘদিনের যানজন, দুর্ভোগ আর ভোগান্তি।
১০ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ মুক্তারপুর-পঞ্চবটি সড়কে প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ৭ কিলোমিটার অ্যাটগ্রেড সড়ক দুই লেন এবং ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতু থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার অ্যাটগ্রেড সড়ক ৪ লেনে উন্নীত করা হবে। পঞ্চবটি থেকে শীতলক্ষ্যা-৩ সেতু পর্যন্ত ২ দশমিক ৮০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ৬ টি র্যাম সহ দুই লেন বিশিষ্ট ৯ দশমিক ৬ কিলোমিটার হচ্ছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (দ্বিতল সড়ক)।
এর মধ্যে পঞ্চবটি থেকে কাশিপুর পর্যন্ত ৩.৫ কিলোমিটার এ্যাট-গ্রেড সড়কের উপর এবং কাশিপুর থেকে চর সৈয়দপুর পর্যন্ত ২.৭৬ কিলোমিটার নিচু ভুমির উপর দিয়ে যাবে। এছাড়া যানজট নিরসনে পঞ্চবটি মোড় থেকে ফতুল্লার দিকে ও নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ার দিকে ৩ শত ১০ মিটার করে ৬ লেন সড়ক নির্মান করা হবে। মুক্তারপুর সেতুর দক্ষিণপ্রান্তে ৪৪৩ মিটার এ্যাডগ্রেড সড়ক ৪ লেনে উন্নীত করা হবে।
একই সাথে চর সৈয়দপুরে ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতু পয়েন্টে একটি গোলচত্তর থাকবে। নিচে উপরে ২ টি করে ৪টি টোল প্লাজা নির্মাণ করা হবে এবং যানবাহনের ওজন পরিমাপের জন্য থাকবে ৬টি ওজন ষ্টেশন। নিচতলায় যানচলাচলের জন্য ফ্রি থাকলেও দোতালা সড়কে যাতায়াতে টোল পরিশোধ করতে হবে।





































আপনার মতামত লিখুন :