নারায়ণগঞ্জের আলেম সমাজের ইমেজ নষ্ট করছে ‘ওসমানদের দালাল’ খ্যাত তথা ওসমানীয় হেফাজত। অথচ নারায়ণগঞ্জের আলেম সমাজ বিগত সময়ে যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ থাকাবস্থায় নানা অত্যাচার নির্যাতন নীপিড়ন সহ্য করেও তাদের অবস্থান থেকে সরাতে পারেনি। অথচ তাদের এই ইমেজকে নষ্ট করে দিচ্ছে কয়েকজন নামধারী আলেম। সেই সাথে তাদের এসকল অপকর্মকে ভালোভাবে নিচ্ছে না মানুষজন।
এরই মধ্যে গত ২৯ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মাওলানা ফেরদাউসের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করা হয়েছে। এই মানববন্ধনে ফেরদাউসুর রহমানকে শামীম ওসমানের ছোট ভাই ও আওয়ামী লীগের দালাল আখ্যা দিয়ে নানাভাবে বিদ্রুপ করা হয়েছে। তার ছবিতে জুটাপেতা করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নানা অপ্রীতিকর অভিযোগ আনা হয়েছে। যা একজন আলেমের সাথে যায় না। তাকে কেন্দ্র করে এসকল ঘটনা অন্য আলেমদেরকেও বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ফেলে দিচ্ছে।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা জমিয়তে উলামা ইসলামের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মহাসচিব মনির হোসেন কাসেমীর নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে জেলা ও মহানগর কমিটি পরিচালিত হয়ে আসছিল।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জেলার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফেরদৌসুর রহমান, মহানগরের সভাপতি কামাল উদ্দিন দায়েমী ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মনোয়ার হোসাইন পৃথকভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেন। তারা মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির বাইরে গিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডে কাউন্সিল আয়োজন করেন। যা নিয়ে জমিয়তে উলামা ইসলামের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে নেতাকর্মীদের দাবির মুখে একটি নির্ধারিত কাউন্সিল স্থগিত করা হয়। এরপরও সংশ্লিষ্ট নেতারা কার্যক্রম চালিয়ে গেলে সংগঠনের পক্ষ থেকে মাওলানা ফেরদৌসুর রহমান ও কামাল উদ্দিন দায়েমীকে শোকজ করা হয়। কিন্তু শোকজের পরও তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের ভিন্নভাবে অবহিত করে গোপনে ৯ এপ্রিল হীরা কমিউনিটি সেন্টারে কর্মী সম্মেলন আয়োজনের চেষ্টা করেন। কিন্তু বাধার মুখে পরবর্তীতে আর সম্মেলন হয়নি।
এর আগে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকা- ও সাংগঠনিক নিয়ম বহির্ভূতভাবে কাউন্সিলের উদ্যোগ নেওয়ায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছিলো।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পক্ষটি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে ভুল তথ্য দিয়ে প্রভাবিত করে দাওয়াত প্রদান করেছে, যা দলের সাংগঠনিক কাঠামোর জন্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। শোকজ নোটিশে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আগামী ৯ই এপ্রিলের তথাকথিত কাউন্সিল স্থগিত করে আগামী সাত দিনের মধ্যে (১৬ই এপ্রিলের মধ্যে) জেলা সভাপতি, জেলা ও মহানগর মজলিসে আমেলা এবং কেন্দ্রীয় কমিটি বরাবর যথাযথ লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে।
তবে এ শোকজ নোটিশকে ভূয়া বলে দাবী করেছেন মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান। তিনি বলেন, আমার কাছে কোনো নোটিশ প্রদান করা হয়নি। নোটিশের জন্য যে দলীয় প্যাড ব্যবহার করা হয়েছে এটা আমাদের দলীয় প্যাড না। সেই সাথে এ বিষয়ে আমার সাথে কেউ যোগাযোগ করেনি। তবে এসকল ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছে। একপক্ষ আরেকপক্ষকে চরমভাবে হেনেস্তা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যা সাধারণত আলেম সমাজের জন্য শোভনীয় নয়।
বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালিন সময়ে মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান ও তার অনুসারিরা শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতেন। সেই সাথে তাদের অনুসারীদের সাথেও মাওলানা ফেরদাউসের ভালো সম্পর্ক ছিলো। বিভিন্ন সময় ওসমানদের স্বার্থ আদায়ে মাওলানা ফেরদাউস হেফাজতের নেতাকর্মীদের নিয়ে কর্মসূচি পালন করতেন।
সেই সাথে বিভিন্ন সময় হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মীরা গ্রেফতার হলেও ফেরদাউস থাকতো ধরা ছোঁয়ার বাইরে। মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান মহানগর হেফাজত ইসলামকে এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাবস্থায় কেউ কিছু বলতো না।
তার আগে ২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারি হেফাজত প্রতিষ্ঠার পর থেকেই রাজধানীর পাশ্ববর্তী জেলা নারায়ণগঞ্জ হেফাজতের নেতাকর্মীরা আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছিলেন। ঢাকার পাশপাশি নারায়ণগঞ্জের রাজপথও তারা সরব রেখেছেন। রাজধানীর প্রবেশপথ কাঁচপুর মহাসড়কে তারা সহিংসতা চালিয়েছেন। হেফাজতের প্রতিটি কর্মসূচিতের তারা সরব ভূমিকা পালন করেছেন।
সেই সাথে যুদ্ধাপরাধী ও মানবতা বিরোধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম ব্লগার আহম্মেদ রাজীব হায়দার শোভনকে হত্যার ঘটনায় তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া গোল চত্বরকে ‘রাজীব চত্বর’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। ২০১৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি চাষাঢ়ায় জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ, রাজাকারদের ফাঁসির দাবি ও ব্লগার রাজীব হত্যার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশের আগে নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দিয়ে সেখানে সাইনবোর্ড গেঁথে দেন এবং ফলক উন্মোচন করেন।
কিন্তু সেই ‘রাজীব চত্বর’ ঘোষণার কয়েকদিনের মধ্যেই শহরের ডিআইটি এলাক থেকে মিছিল নিয়ে এসে রাজীব গুড়িয়ে দেয়া হয়। যে মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন হেফাজতের নেতাকর্মীরা।
এরপর ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানী ঢাকায় শাপলা চত্ত্বর কায়েম করা হয়। আর এই শাপলা চত্ত্বরে ঢাকার পাশ্ববর্তী জেলা হিসেবে নারায়ণগঞ্জের হেফাজতের নেতারা সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন। এভাবে একের পর এক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ হেফাজতের নেতাকর্মীদের সাথে ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিদের নজর কাড়ে। তাদের যে কোনো কর্মসূচিতেই সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।
তবে এই আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যেই মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে আসছিলেন। বিভিন্ন সময় তাদের সম্পর্কের ঘনিষ্টতাও পরিরক্ষিত হয়। ২০২১ সালের ২০ মার্চ আলীরটেকের ডিক্রিরচর ঈদগাহ মাঠে ইসলামি মহাসম্মেলন করে ওলামা পরিষদ। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন তৎকালিন এমপি শামীম ওসমান। এসময় তিনি মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানকে তার ছোট ভাই বলে সম্বোধন করেছিলেন। যা স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলো।
এর আগে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে ২০১৬ সালের ১৩ মে বন্দরের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান সেদিন শ্যামল কান্তিকে কান ধরে উঠবস করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে এই ঘটনা প্রকাশ পেলে সারাদেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। এই ঘটনায় চাপের মুখে পড়ে যান ওসমান পরিবার।
ঠিক সে সময়েই তাদের পাশে দাঁড়ান নারায়ণগঞ্জ হেফাজতের নেতারা। ওই বছরের ২০ মে নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজত আয়োজিত শহরের ডিআইটি জামে মসজিদের সামনে ‘নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের মুসলিম জনতা’ ব্যানারে সমাবেশ করা হয়। সমাবেশ থেকে নারায়ণগঞ্জ হেফাজত নেতারা শ্যামল কান্তিকে শাস্তি দিতে সরকারকে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। সেই সাথে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে হরতাল- অবরোধ করে দেশ অচল করে দেয়ার ঘোষণা দেন।
অন্যদিকে ২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিষয়ে কটূক্তির অভিযোগ এনে নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম (ক অঞ্চল) অশোক কুমার দত্তের আদালতে হেফাজতে ইসলাম নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সমন্বয়ক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান এই মামলা করেন।
মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়, ওই বছরের ৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একটি অনুষ্ঠানে রফিউর রাব্বি বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি ধর্ম ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু কথা বলেন। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে রফিউর শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মসজিদ ভেঙে শপিংমল ও মাদ্রাসা উচ্ছেদ করে পার্ক করার অভিযোগ এনে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে সমাবেশ করে নারায়ণগঞ্জ ওলামা পরিষদ। এদিন জুমার নামাজের পর শহরের চাষাঢ়া এলাকার বাগে জান্নাত মসজিদের সামনে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশের সভাপতি হেফাজতে ইসলামের নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি ফেরদাউসুর রহমান বলেছিলেন, মাসদাইর কবরস্থানের সামনে যেই মাদ্রাসা ছিলো সেটা নাকি সিটি করপোরেশন ভাঙে নাই। আমার প্রশ্ন সিটি করপোরেশন যদি না ভাঙে তাহলে এই সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি কে ভাঙলো। কার এতো বড় শাহস, যে এই মাদ্রাসা ভাইঙ্গা দিলো। আসলে ওনার (মেয়র আইভী) কোরআন তেলোয়াত ভালো লাগেনা। সে মাথায় কাপড় দিতে চায়-না, পুরুষ সাজতে চায়।
এভাবে একের পর বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ফেরদাউসের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ হেফাজতের নেতারা ওসমানীয় হেফাজত হিসেবে আখ্যা পান। মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান মহানগর হেফাজত ইসলামকে এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাবস্থায় এ নিয়ে কেউ কিছু বলতেন না।
কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই ফেরাদউসকে নিয়ে হেফাজত ইসলামের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। সেই ক্ষোভের সূত্র ধরেই এবার তাকে মহানগর হেফাজতের একক নেতৃত্বে চাননি একটি অংশ।
একই সাথে ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জে হেফাজতে ইসলামের মিছিলে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এদিন জুমআর নামাজের পর শহরের ডিআইটি কেন্দ্রীয় রেলওয়ে জামে মসজিদের সামনে এই ঘটনা ঘটে। প্রায় মিনিট দশেক ধরে হেফাজতের নেতাকর্মীদের মধ্যে হৈ চৈ ও হাতাহাতি চলে। পরে সিনিয়ররা নেতারা বার বার অনুরোধ করলে থামে। তবে প- হয়ে যায় পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল। পরবর্তীতে অপর একটি গ্রুপ মিছিল করে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
কিন্তু এসকল সমস্যার সমাধান না করেই নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর হেফাজত ইসলামের নতুন কমিটি ঘোষণা করে দেয়া হয়। নারায়ণগঞ্জ হেফাজতে ইসলামের দুইজন নায়েবে আমীর থাকলেও তাদের একজনও কমিটি ঘোষণার সময়ে তারা কেউই ছিলেন না। সেই সাথে হেফাজতের একটি অংশের নেতাকর্মীরা এই কমিটিকে মেনে নেননি। তারা প্রত্যাখানের ঘোষণা দেন।
গত বছরের ৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় শহরের বাগে জান্নাত মসজিদের দ্বিতীয় তলায় প্রতিনিধি সম্মেলনের মধ্য দিয়ে হেফাজতে ইসলাম সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব এই কমিটি ঘোষণা করেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফজত ইসলামের কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রয়েছেন মুফতি মনির হোসাই কাসেমী এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন এবিএম সিরাজুল মামুন। সেই সাথে মহানগর হেফাজত ইসলামের কমিটিতে সভাপতি হিসেবে মুফতি হারুনুর রশদি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন মাওলানা মীর আহমাদুল্লাহ।
কিন্তু এই কমিটি ঘোষণার পর থেকেই হেফাজতের একটি অংশের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দেয়। হেফাজতের নেতাকর্মীদের দাবী ছিলো নতুন কমিটিতে আওয়ামী লীগের দোসরদের জায়গা দেয়া হবে না। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে যারা ওসমান পরিবারের দোসর হিসেবে পরিচিত তাদেরকে জায়গা দেয়া হয়েছে। যা ওসমানীয় হেফাজত আখ্যা দিয়ে হেফাজতের নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পারছেন না।
এদিকে এই দ্বন্দ্ব জিইয়ে রাখায় নারায়ণগঞ্জ হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রয়েছে। তবে মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান থেমে নেই। তিনি বিভিন্ন ব্যানারে সরব রয়েছেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মুফতি মনির কাসেমীকে সামনে রেখে তার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। নির্বাচনের পর তিনি জমিয়ত উলামায়ে ইসলামকে নিজের মতো করে নিয়ে যেতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগটি যেন ফেরদাউসুর রহমানের হাতছাড়া হয়ে গেলো।







































আপনার মতামত লিখুন :