দীর্ঘ প্রায় ১০ বছরের কাছাকাছি সময় ধরে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ঠিকানাবিহীন অবস্থায় রয়েছে। অস্থায়ী কিংবা নামকাওয়াস্তে ব্যক্তিগত কার্যালয় দিয়েই চলছে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম। এরই মধ্যে কয়েক দফায় পদে থাকা নেতাদের বদল হলেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির স্থায়ী ঠিকানা আর মিলছে না। নেতারা নিজের মতো করে নিজ নিজ বাসা বাড়ীকেই কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করছেন। ফলে নেতাকর্মীরা অনেকটাই ছন্নছাড়া হয়ে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলো আওয়ামী লীগ। আর এই ক্ষমতায় থাকাবস্থায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা অনেক নির্যাতন নীপিড়নের শিকার হয়েছেন। দিনের পর দিন মাসের পর মাস এবং বছরের পর বছর বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে পরিবার পরিজন ছেড়ে দিন যাপন করতে হচ্ছে। সেই সাথে তারা আন্দোলন সংগ্রামেও অংশ নিতে পারতেন না। ব্যবসা বাণিজ্যেও নানাভাবেই বাধার শিকার হয়েছেন। সব মিলিয়ে তাদের যেন স্বাভাবিক জীবন যাপন ছিলো না। যার দোহাই দিয়ে বিএনপি স্থায়ী কার্যালয় নিয়ে তেমন মনযোগ দেয়নি।
এরই মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। আর এই পতনের মধ্যে দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও আলাপ আলোচনা শুরু হয়। সেই সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আর এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
ফলে এবার নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ঠিকানায় ফিরতে পারবে কিনা তা নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে তিন মেয়াদে ক্ষমতায় আসলেও নারায়ণগঞ্জে বিএনপির কোন পাকাপোক্ত কার্যালয় করতে পারেনি এখানকার বিএনপির ওই সময়ের এমপিরা। ২০০৯ সালে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতৃত্বে আসার পর তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা থেকে দোকান হিসেবে ইজারা নিয়ে ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকায় বিএনপির কার্যালয় করেন। আর এ কার্যালয়ে আর্থিকভাবে সবচেয়ে বেশি সহযোগীতা করেছিলেন বর্তমান সোনারগাঁ বিএনপির আহ্বায়ক ও এমপি আজাহারুল ইসলাম মান্নান।
সেই সাথে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে বিআরটিসির চেয়ারম্যান হয়ে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বিএনপির কার্যালয়টির জন্য পৌরসভা থেকে দোকান বরাদ্দ নেন। তৎকালিন নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জাকির হোসেনের নামে এ দোকান ভাড়া নিয়ে বিএনপির কার্যালয় করা হয়। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কার্যালয় নিয়ে মামলায় হেরে যাওয়ার পর ২০১৭ সালের ১০ মার্চ কার্যালয় ভবন ভেঙ্গে ফেলে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যালয় ভেঙ্গে তৎকালিন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জেলা বিএনপিকে একটি অস্থায়ী কার্যালয়ের জন্য স্থান নির্ধারণ করতে বলেছিলেন মেয়র। স্থান নির্ধারন হলে সেখানে জায়গা বরাদ্ধ দিতেন নাসিক। কিন্তু সে সময়ে নেতৃত্বে থাকা নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির তৎকালিন সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদের এ নিয়ে কোন আগ্রহ দেখাননি। একই সাথে মহানগর বিএনপির পদে থাকা নেতারাও কোনো আগ্রহ দেখাননি।
সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘরমুখী হয়ে পড়েন। দলীয় কোনো কর্মসূচিতেই তাদের রাজপথে দেখা মিলতো না। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন গলিভিত্তিক কর্মসূচি পালিত হতো। ফলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কোনো স্থায়ী ঠিকানাও হয়নি। এরপর থেকেই এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নতুন করে আর কার্যালয় নিতে পারেনি।
এরই মধ্যে সকল প্রতিবন্ধকা পেরিয়ে বিএনপি সুসময়ে ফিরছে। যার ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের ৪ টি আসনে বিএনপি নেতারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ।
যাদের হাত ধরে এবার নারায়ণগঞ্জ বিএনপি কার্যালয়ে ফিরতে পারবে বলে আশাবাদী বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি স্থায়ী ঠিকানায় ফিরতে পারবেন।































আপনার মতামত লিখুন :