শ্রমিক আন্দোলনের প্রভাবে শুধু পোশাক কারখানার মালিকরাই নন, ক্ষতির মুখে পড়ছে দেশের অর্থনীতিও। আন্দোলনের কারণে কয়েক দিন কারখানা বন্ধ থাকলেও শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করতে হচ্ছে মালিকপক্ষকে। পাশাপাশি বন্ধের সময়ে পিছিয়ে পড়া উৎপাদন পূরণে অতিরিক্ত ওভারটাইম করাতে হবে, যার পুরো ব্যয় বহন করতে হবে মালিকদের। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার অন্য দেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে কারখানা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে, বাড়তে পারে শ্রমিক ছাঁটাই ও বেকারত্ব।
সা¤প্রতিক শ্রমিক আন্দোলনের প্রভাব তুলে ধরে এসব কথা বলেন বিকেএমইএর সহ-সভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেল। তিনি বলেন, গত কয়েকদিনের আন্দোলনে শুধু ব্যবসায়ীদেরই ক্ষতি হয়নি, দেশেরও ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। আর আন্দোলনের কারণে বেশকিছু ফ্যাক্টরি কয়দিন বন্ধ থাকলেও শ্রমিকদের বেতন দিতে হবে। শুধু ম্যাক্রো গার্মেন্টেরই দৈনিক এক কোটি টাকা বেতন দিতে হয়। একদিন ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকলেও তাদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিতে হচ্ছে। আবার যেসব কাজ এতোদিন করা হলো এগুলো ওভারটাইম করিয়ে আদায় করতে হবে। আর ওভারটাইমের এই বাড়তি খরচ মালিককেই গুণতে হবে। এমনিতেই বিদেশী বায়ারদের অনেক অর্ডার দেশের বাহিরে চলে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতির কারণে আরও অর্ডার দেশের বাহিরে চলে যাবে। তখন অনেক শ্রমিককে ছাটাই করতে হবে। এর ফলে দেশের বেকারত্ব আরও বেড়ে যাবে। আমাদের দেশটা এই সেক্টরের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। আর গত দুদিনের তুলনায় বুধবার আন্দোলন কম হয়েছে। এর কারণ একদিকে প্রশাসনের নানা উদ্যোগ অন্যদিকে শ্রমিকদের কাউন্সেলিংয়ের অভাব ছিল। আর মজুরি গঠনের সঙ্গে সঙ্গেই বেতন বৃদ্ধি করা যায় না। এর জন্য মালিকপক্ষ, শ্রমিকনেতাসহ সবার সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। পাশাপাশি শ্রমিকদেরও বাস্তবতা বুঝতে হবে। আর আন্দোলনের নামে যারা উচ্ছৃঙ্খলতা করেছে আমরা তাদের শ্রমিক হিসেবে মনে করি না। কারণ শ্রমিকদের মধ্যে সহনশীলতা আছে। এখানে বহির্বিশ্বের পাশাপাশি স্বার্থান্বেষী মহলেরও ইন্ধন আছে। যারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন।






























-20261104095621.jpg)



আপনার মতামত লিখুন :