News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

ডেঙ্গু রোগী কমেছে হাসপাতালে


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ১০:১২ পিএম ডেঙ্গু রোগী কমেছে হাসপাতালে

নারায়ণগঞ্জে ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের ভিড় ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ ছিলো রোগীদের। তবে এনিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর রোগীরা তাদের কাক্সিক্ষত সেবা পেতে শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন সেবা নিতে আসা রোগীদের স্বজনরা। সেই সাথে কমতে শুরু করেছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। যেখানে দৈনিক ১০ থেকে ১২ জন ভর্তি হতেন, সেখানে গত শুক্রবার ৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, পরিস্থিতি অনেক উন্নতি হয়েছে এমন বলা যাবে না, তবে কিছুটা রোগীর চাপ কমেছে। ফলে সকল রোগীকে সমানভাবে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে। কয়েকদিন আগেও রোগীদের চাপে হিমশিম খেতে হচ্ছিলো সকলকে। এখন কিছুটা অনুকুলে এসেছে রোগীদের সার্বিক সেবা দেয়ার জন্য। তাছাড়া আইসিইউতে নেয়ার মত কোন রোগীও নেই। চিকিৎসা নেয়া রোগীদের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। সব মিলিয়ে বলা যায় কিছুটা উন্নতির দিকে রয়েছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি।

শনিবার নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায় হাসপাতালের বেশ কয়েকটি বেড খালি রয়েছে। বিশেষত ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রোগী কমে যাওয়ায় সেখানে মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের রোগী এনে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকদিন পূর্বেও ফ্লোরে রোগীদের আশ্রয় দেয়া লাগলেও এখন ফ্লোরে কেউ নেই। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে বেশ কয়েকটি বেড স্থাপন করা হয়েছে ওয়ার্ডের বাইরে। তবে নতুন সিলিং ফ্যান এখনও বসানো হয়নি। 

আলীরটেক থেকে আসা রোগী ফজলু মিয়া বলেন, ‘প্রচন্ড জ্বর ও শরীর ব্যাথা নিয়ে আসছি। টেস্টে ধরা পড়েছে চিকুনগুনিয়া। এখন স্যালাইন আর প্যারাসিটামল চলছে দুদিন যাবত। জ্বর কমে আবার বাড়ে। হয়তো আগামীকাল বাসায় চলে যাব। শরীরের কোন উন্নতি নাই। কিন্তু তারপরেও এখানে ডাক্তার পাচ্ছি প্রতিদিন এর জন্যেই থাকছি।

বন্দরের ১৯ নাম্বার ওয়ার্ড থেকে আসা নাসিমা বলেন, ‘আমার ছেলেকে নিয়ে আসছি। ডেঙ্গু ধরা পড়ছে টেস্টে। কিছু খেতে পারে না। জ্বর আসলে হাত পা কাপে। প্লাটিলেট অনেক কমে গেছিলো। এখন কিছুটা বাড়ছে। তবে জ্বর আর শরীর ব্যাথা আছে। শুধু আমার বাচ্চার একা না, বাচ্চার বাবারও ডেঙ্গু হইছে। উনার অবস্থা কিছুটা ভালো তাই বাসায় আছে। একদিকে বাসায় একরোগী, আরেকদিকে হাসপাতালে আরেকজন।’

হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত নার্স বলেন, গত শুক্রবার চার জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। শনিবার দুপুর ২ টা পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ৬ জন। এখন পর্যন্ত চলতি মাসে ৯০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক নাজমুল হোসেন বলেন, ‘আমরা যথাসাধ্য চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। গতমাসে আমাদের ১১৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। এই মাসে রোগীর চাপ কিছুটা বেশী। আমাদের সেবা অব্যহত আছে। পর্যাপ্ত কিট, স্যালাইন, মশারি, ঔষধ দেয়া হচ্ছে। আমাদের শহরের বাসিন্দারা একটু সচেতন থাকলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অনেকটাই রোধ করা সম্ভব।