নির্বাচনী প্রচারণার আর মাত্র ২ দিন বাকি রয়েছে। ইতোমধ্যে ভোটের হিসেব নিকেস যেন উলট পালট হয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে এসে হেভীওয়েট প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বীরা যেন শক্তিশালী হয়ে যাচ্ছেন। তবে ভোটের মাঠে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে বিরাজ করছে নানা শঙ্কা। বিশেষ করে বেশ কিছু প্রভাবশালী হেভীওয়েট প্রার্থীর বিরুদ্ধে কালো টাকা ছড়ানোর অভিযোগ উঠার পর থেকে নানা শঙ্কা বিরাজ করছে।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে ভোটের মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা ভোটারদের রায় নিজের পক্ষে আনতে চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকা। বিগত নির্বাচনগুলোতে জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছিল ৩টি রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরা। তবে এবার যেহেতু ভোটের মাঠে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির হেভীওয়েট প্রার্থীরা নেই সেকারণে এবার বিএনপির আসনে ভাগ বসাতে চায় জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন। দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি মাঠ দাবড়ে বেড়াচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও। অন্যান্য জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। অতীতে নির্বাচনে যে হিসাবে বিএনপি জামায়াত ভোট পেয়েছিল, সে হিসাব আর নেই বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নতুন করে যুক্ত হওয়া তরুণদের ভোট একই সমীকরণে বিবেচনা করে নির্ধারণ করা সমীচীন নয় বলেও মনে করছেন তারা।
তবে বরাবরের ন্যায় এবারো ভোটের মাঠে কালো টাকার প্রভাব বিরাজ করছে বলে মনে করছেন প্রার্থী ও ভোটাররা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীর পাশের জেলা নারায়ণগঞ্জে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সরব হয়ে উঠেছে। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও হুমকীতে ছড়াচ্ছে উত্তাপ। এতে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতী ইসমাইল সিরাজী বলেন, বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে কালো টাকা ছড়ানো হচ্ছে। আমাদের নেতাকর্মী সমর্থকদের হুমকী ধমকী দেয়া হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্টকে বিতাড়িত করেছি। আমরা কোন রক্তচক্ষুকে ভয় পাইনা।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে গণসংহতি আন্দোলন মনোনীত মাথাল প্রতীকের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম সুজন অভিযোগ করে বলেছেন, নির্বাচনের সময়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব হচ্ছে সব প্রার্থী ও ভোটারের জন্য সমান নিরাপত্তা ও সুযোগ নিশ্চিত করা। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, বন্দর থানার ওসি একটি বিশেষ প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভয় ও শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী আল আমিন বলেন, নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে উচ্ছ্বাস আছে। কারণ তারা দীর্ঘদিন ভোট দিতে পারেনাই। আবার দেখছি প্রার্থিদের মধ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘন, হুমকি ধামকি, তোরন বানানো, ক্যাম্প, ফেস্টুন, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা। আমরা পরিবর্তনের বার্তা নারায়ণগঞ্জ ৪ অঞ্চলের বাসিন্দাদের দিতে চাই। এই এলাকায় রাজনৈতিক দুর্বিত্তায়ন, নাগরিক অধিকারকে অবহেলা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে নাগরিকদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে চাই।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেছেন, রাজনীতিতে এখন নীতি ও শিক্ষার চেয়ে টাকার দাপট বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা ৫ আগস্টের পর লুটতরাজ করিনি, কারখানা দখল করিনি কিংবা মাদক ব্যবসা বা মামলা বাণিজ্য করিনি। যারা এসব অপকর্মের টাকা দিয়ে মনোনয়ন কিনেছে, সেই টাকাই আজ তাদের শক্তি। সেখানে শিক্ষা ও যোগ্যতা টাকার কাছে মার খেয়েছে। গিয়াসউদ্দিন ভোটারদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, টাকাওয়ালা মানুষ টাকা দিয়ে নির্বাচন করতে চাইবে, কিন্তু ভোট আপনার আমানত। আপনারা ভোট যাকেই দেন, অন্তত যোগ্য ও শিক্ষিত ব্যক্তিকে দিন। যারা গত কয়েক মাসে মানুষের জমি ও শিল্প প্রতিষ্ঠান দখল করেছে, তাদের প্রত্যাখান করার সময় এসেছে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনের 'কাস্তে' প্রতীকের প্রার্থী ইকবাল হোসেন বলেন, যারা নির্বাচনে কোটি কোটি টাকা খরচ করে প্রচার-প্রচারণা করে তারা নির্বাচিত হয়ে জনগণের দিকে ফিরে তাকায় না। বরং লুটপাট ও দুর্নীতির মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার সম্পদ গড়ে। তাদের ভোট দিয়ে দুর্দশা আর বাড়াবেন না।
































আপনার মতামত লিখুন :