শিল্প, বাণিজ্য ও নাগরিক জীবনের নানা সংকটে যখন নেতৃত্বের প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন কিছু মানুষ সামনে এসে দায়িত্ব নেন। নারায়ণগঞ্জের শিল্প ও সামাজিক পরিমণ্ডলে তেমনই এক পরিচিত নাম মোরশেদ সারোয়ার সোহেল। শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। এই জেলার শিল্প, বাণিজ্য ও নাগরিক উন্নয়নের নানা উদ্যোগের পেছনে যেসব মানুষ নিরলসভাবে কাজ করছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম তিনি।
নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)’র সহ-সভাপতি (অর্থ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একজন শিল্প নেতা হিসেবে তিনি শুধু ব্যবসা বা শিল্পখাত নিয়েই সীমাবদ্ধ নন; বরং নাগরিক সমস্যা, সামাজিক দায়বদ্ধতা, পরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা ও তরুণ সমাজের উন্নয়ন সব ক্ষেত্রেই সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
শিল্প ও অর্থনীতিতে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব : বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প আজ বিশ্ববাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। এই খাতের সঙ্গে যুক্ত একজন সংগঠক হিসেবে মোরশেদ সারোয়ার সোহেল সবসময় শ্রমিক ও উদ্যোক্তাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তার মতে, শিল্পের অগ্রগতির মূল শক্তি হচ্ছে শ্রমিক ও মালিকের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। তিনি বিভিন্ন সময়ে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন এবং শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ফলেই আজ বিশ্ববাজারে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডটি মর্যাদার সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
নাগরিক সমস্যায় সরব ভূমিকা : শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জের দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় সমস্যা যানজট। এ সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের পাশাপাশি ব্যবসায়ী সমাজেরও দায়িত্ব রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে চেম্বার ও বিকেএমইএ’র সহযোগিতায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের মাধ্যমে যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করা হচ্ছে। উদ্যোগটি নগরবাসীর মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
যানজট নিয়ন্ত্রণের স্বল্পমেয়াদী উদ্যোগের পাশাপাশি তিনি দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। ২ নম্বর গেট থেকে নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজ পর্যন্ত প্রস্তাবিত বাইপাস সড়ক দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়টি তিনি বিভিন্ন সময় প্রশাসনের কাছে তুলে ধরেছেন। তার মতে, এই সড়ক চালু হলে শহরের প্রধান সড়কগুলোর ওপর যানচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহের সৌন্দর্যবর্ধন ও উন্নয়ন কার্যক্রমে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। একই সঙ্গে শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সৌন্দর্যবর্ধন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন নিয়েও তিনি নিয়মিত মতামত তুলে ধরেন। তার বিশ্বাস, প্রশাসন, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী সমাজ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া একটি শহরকে সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব নয়।
জনস্বাস্থ্য ও মানবিক উদ্যোগ : জনস্বাস্থ্য বিষয়েও তিনি বারবার সচেতনতা সৃষ্টি করেছেন। বিশেষ করে ডেঙ্গুর মতো মৌসুমি রোগের সময় স্বাস্থ্যব্যবস্থার ঘাটতির বিষয়টি সামনে এনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জে জরুরি চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থাপনের দাবি জানান, যাতে স্থানীয় মানুষকে চিকিৎসার জন্য অন্যত্র ছুটতে না হয়।
পরিবেশ ও সবুজ নগরীর ভাবনা : পরিবেশ রক্ষার বিষয়েও তিনি সচেতন। নারায়ণগঞ্জকে একটি সবুজ ও বাসযোগ্য শহরে পরিণত করার লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে গৃহীত “গ্রীন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ” কর্মসূচির আওতায় ১ লক্ষ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। শুধু রোপণেই থেমে থাকেননি, পরবর্তীতে গাছগুলোর পরিচর্যা ও সংরক্ষণের জন্য নিয়মিত তদারকি ও তাগিদ দিয়ে যাচ্ছেন।
তার মতে, শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না; গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ কাজে নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ : মোরশেদ সারোয়ার সোহেল বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় উপলক্ষেও সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন। রমজান, ঈদ কিংবা অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানে তিনি সংযম, সহমর্মিতা এবং মানবিকতার চর্চা বাড়ানোর আহ্বান জানান। ব্যবসায়ীদের প্রতি তিনি বারবার অনুরোধ করেন, যাতে ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
তরুণ সমাজ ও ক্রীড়া উনয়নে আগ্রহ : তরুণ সমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে তিনি ক্রীড়া উনয়নের ওপরও গুরুত্ব দেন। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন ক্রীড়া উদ্যোগ ও সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তরুণদের সামনে নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি করার চেষ্টা করছেন।
সমন্বিত নেতৃত্বের এক প্রতিচ্ছবি : সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার মধ্য দিয়েই একজন প্রকৃত নেতৃত্বের পরিচয় পাওয়া যায়। মোরশেদ সারোয়ার সোহেল সেই পথেই এগিয়ে চলেছেন। শিল্প নেতৃত্বের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধ ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় ঘটিয়ে তিনি যে উদ্যোগগুলো নিয়ে কাজ করছেন, তা নারায়ণগঞ্জকে একটি সমৃদ্ধ, সবুজ ও বাসযোগ্য শহরে রূপান্তরিত করার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তার এই নিরন্তর প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়।









































আপনার মতামত লিখুন :