News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩

সিসি ক্যামেরার পরিকল্পনা, ততদিন অন্ধকারেই লিংক রোড?


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | আসমাউল হুসনা প্রকাশিত: এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম সিসি ক্যামেরার পরিকল্পনা, ততদিন অন্ধকারেই লিংক রোড?

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড শুধু একটি সড়ক নয়, এটি নারায়ণগঞ্জের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি| দেশের বৃহৎ শিল্পাঞ্চল, গার্মেন্টস কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সরাসরি সংযোগের কারণে প্রতিদিন হাজারো পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন| অর্থনীতির এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ২০২৫ সালের জুন মাসে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয়েছিল ৭৪৮টি সড়কবাতি|

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন| কোটি টাকার এই প্রকল্পের বড় একটি অংশ এখন অন্ধকারে হারিয়ে গেছে| জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনের অংশ থেকে শুরু করে সাইনবোর্ড, ভূইঘর, জালকুড়ি থেকে শিবু মার্কেট পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরেই সড়কবাতি অচল| সম্প্রতি নতুন করে জেলখানা থেকে চানমারি পর্যন্ত অংশও অন্ধকারে ডুবে যাওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে|

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এটি কোনো আকস্মিক ত্রুটি নয়| বারবার বৈদ্যুতিক তার ও যন্ত্রপাতি চুরির ঘটনাই এই সংকটের মূল কারণ| সড়ক বিভাগ একাধিকবার নতুন তার প্রতিস্থাপন করেছে| জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায়ও বিষয়টি একাধিকবার আলোচনা হয়েছে| এরপরও নতুন করে জেলখানা থেকে চানমারি পর্যন্ত অংশের বাতি অচল হয়ে পড়া একটি বিষয়ই স্পষ্ট করে এই চুরির পেছনে সংঘবদ্ধ একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে এবং তারা এখনো বহাল তবিয়তে অপরাধ  করে যাচ্ছে|

জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির জানিয়েছেন, সমস্যাটি সমাধানে এবার দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে| তার ভাষায়, আগেও একাধিকবার তার ও যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে| কিন্তু বারবার চুরির কারণে একই সমস্যা তৈরি হচ্ছে| এবার এই ৮ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা, নজরদারি বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে|

তবে প্রশ্ন থেকেই যায়-সিসি ক্যামেরা স্থাপন, বাজেট অনুমোদন এবং বাস্তবায়ন একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া| সেই সময়ের মধ্যে অন্ধকার সড়কে চলাচলকারী মানুষের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?

জেলা পরিষদ এলাকার বাসিন্দা মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছি ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সড়কে বাতি স্থাপন করা হয়েছে| অথচ এক বছর পেরোতে না পেরোতেই বারবার বৈদ্যুতিক তার ও যন্ত্রপাতি চুরির কারণে সড়কবাতি জ্বলছে না| ফলে পুরো লিংক রোডই রাতের বেলা অন্ধকারে ডুবে থাকে| এই অন্ধকারকে পুঁজি করে চুরি, ছিনতাই এবং দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে|

তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিতে এই সড়কের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে| সেখানে সরকারের নজরদারি আরও জোরদার হওয়া উচিত| স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে নিয়মিত এ বিষয়ে লিখলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না| এত সুন্দর একটি সড়কে এমন অব্যবস্থাপনা সত্যিই দুঃখজনক| তার ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চুরির ঘটনা বারবার ঘটেছে, কিন্তু আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারিনি| নাগরিক হিসেবে এই দায় আমাদের সবার| বারবার আমরা অপরাধীদের পার পেয়ে যেতে দিয়েছি| এখন অন্তত একটি টেকসই সমাধান দরকার|

মোঃ আরিফুল ইসলামের বক্তব্যে যেমন নাগরিক হতাশা রয়েছে, তেমনি বাস্তবতার প্রতিফলনও আছে| কারণ উন্নয়ন প্রকল্পের সফলতা শুধু উদ্বোধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, সেটিকে কার্যকর রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ|

জেলার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক দপ্তরের সামনেই যদি এমন অন্ধকার থাকে, তাহলে এটি শুধু একটি সড়কবাতির সমস্যা নয়; এটি নিরাপত্তা, নজরদারি এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতার প্রশ্নও তুলে দেয়|

এখন প্রয়োজন শুধু নতুন তার বসানো নয়, বরং সংঘবদ্ধ চক্রকে শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া| একইসঙ্গে ¯^ল্পমেয়াদে বিকল্প আলোর ব্যবস্থা, নিয়মিত টহল এবং দ্রুত প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে| কারণ লিংক রোডের অন্ধকার কেবল একটি সড়কের অন্ধকার নয়, এটি অব্যবস্থাপনারও প্রতীক হয়ে উঠছে|