গত ১৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এবং সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর ফুটপাত থেকে অবৈধ হকারদের উচ্ছেদ করা হয়েছিলো। সে সময় ভাবা হয়েছিলো নগরীর ফুটপাতগুলো থেকে অবৈধ হকারদের উচ্ছেদ করলে নগরবাসীর নিত্যদিনের দুর্ভোগের কারণ যানজট কিছুটা হলেও কমে আসবে। কিন্তু বাস্তবে হকার উচ্ছেদের পর সাধারণ জনগণ ফুটপাত দিয়ে অবাদে হাটতে পারলেও যানজটের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মেলেনি।
এর পেছনে কারণ খুঁজতে সরেজমিনে নগরীর গুরুত্বপূর্ন পয়েন্টগুলো ঘুরে নানা অসঙ্গতি দেখতে পাওয়া যায়। যার ফলে যানজটের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলছে না নগরবাসী। বঙ্গবন্ধু সড়কের চাষাঢ়া থেকে নিতাইগঞ্জ পর্যন্ত চাষাঢ়া চাররাস্তার মোড় এবং ২নং রেলগেট এলাকায় চার রাস্তার মোড়টি সব থেকে গুরুত্বপূর্ন এবং ব্যস্ততম সড়ক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে।
এই দুটি পয়েন্টে থেকেই যানজট সৃষ্টি হয়ে তীব্র আকার ধারণ করছে। গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি পয়েন্টেই যানজট নিরসনের দায়িত্বে থাকে ট্রাফিক পুলিশ। এই দুটি পয়েন্টেই রয়েছে ট্রাফিক পুলিশ বক্স।
২নং রেলগেট এলাকায় সরেজমিনে প্রায় ১ ঘণ্টার অধিক সময় অবস্থান করে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় টার্মিনাল থেকে নিউ বন্ধন পরিবহনের গাড়ি গুলো যাত্রী নিয়ে ছেড়ে আসার পর ২নং রেলগেট এলাকায় এসে প্রতিটি বাস ১০ থেকে ১৫মিনিট রাস্তা আটকে মোড়ে দাঁড়িয়ে থেকে যাত্রী এবং মালামাল উঠায়। একটি বাসের পেছনে আরো বেশ কয়েকটি বন্ধন বাস এসে সিরিয়াল লাগায়। একটি বাস ছেড়ে যাওয়ার প্রায় ১০ মিনিট পর অন্য একটি বাস ছেড়ে যায়। এছাড়াও এই বাস গুলো ২নং রেলগেট থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত যেতে যত্রপত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী উঠাচ্ছে। ২নং রেলগেট থেকে একটি বন্ধন বাস ছেড়ে যাওয়ার প্রায় ১০ মিনিট পর অপর একটি বাস ২নং রেলগেট ছেড়ে যাচ্ছে। তবে সেখানে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা তাদেরকে কোনো প্রকার বাধা বা রাস্তা দেওয়ার জন্য কোন প্রকার চাপ দিচ্ছেনা।
এ ব্যাপারে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশের সাথে কথা বলে কেন বাস গুলো এই ব্যস্ততম জায়গা দাঁড়িয়ে থাকতে দেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তারা জানান, তাদেরকে বললেও তারা শুনে না। বেশি চাপ দিলে তারা মারতে আসে। এ ব্যাপারে সেখানে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক কর্মকর্তার কাছে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বক্তব্য দিতে রাজি না হয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে বলেন।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শন-১ আব্দুল করিম জানান, ওই স্থানটি নিয়ে অনেকের অনেক অভিযোগ রয়েছে। তাদেরকে আইন মান্য করানোটা একটা কঠিন কাজ। আমরাও চেষ্টা করে যাচ্ছি। এটা নিয়ে বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলেছি, তারা বার বার কমিটমেন্ট করলেও সেটি রাখছে না। আমরা তাদেরকে আবারো ডাকবো। যেহেতু সেখানে বাসস্ট্যান্ড তাদেরও দায়িত্ব আছে। সবকিছু আইন প্রয়োগ করে সম্ভব হয়না। তাদেরকে আমরা আবারো ডাকবো এবং আপনাদের গণমাধ্যমের সহযোগিতাও আমরা চাই।




































আপনার মতামত লিখুন :