নারায়ণগঞ্জে বেশ ঘটা করে শুরু হয়েছিলো এনসিপির যুব সংগঠন ‘জাতীয় যুবশক্তি’র পথচলা। সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের কমিটির পরিচিতি করেছিলেন সকলের সামনে। সেই সাথে জানিয়েছিলেন নিজেদের সম্ভাবনা ও পরিকল্পনার কথা। কিন্তু কমিটি প্রনয়নের ছয় মাসে তার ছিটেফোঁটাও বাস্তবায়ন করতে পারেনি নেতাকর্মীরা। যার ফলে পুরো নেতৃত্বকে অথর্ব বলছেন তৃণমূলের কর্মীরা।
গত বছরের ১৪ অক্টোবর যুবশক্তির ৪২ সদস্যের জেলা আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। কমিটিতে আহবায়ক করা হয় সাকিল সাইফুল্লাহ এবং সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয় মোহাম্মদ নাসিমকে। একই কমিটিতে মূখ্য সংগঠকের দায়িত্ব দেয়া হয় রাইসুল ইসলামকে।
বিশাল এই কমিটির পুরোটাই ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়জুড়ে নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে। সাংগঠনিক কোন কার্যক্রম তো ছিলই না, সেই সাথে দেখা যায়নি বিভিন্ন ইস্যুতে সরব কোন অবস্থান রাখতে। নারায়ণগঞ্জ শহরে একাধিক ইস্যু ঘটলেও সেখানে কোন অবস্থান ছিলো না যুবশক্তির। পরিবর্তনের বার্তা দিয়ে রাজনীতিতে আসা যুবকদের এই নেতৃত্ব কোন ভুমিকাই রাখতে সক্ষম হয়নি।
জানা গেছে, নির্বাচনের আগে সোনারগাঁ, রূপগঞ্জ ও সিদ্ধিরগঞ্জের সমন্বয়ে তিনজন গুরুত্বপুর্ন নেতার হাতে দেয়া হয় যুবশক্তির দায়িত্ব। কিন্তু তিনজনের মধ্যে দুজনেই ছিলেন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়। কেবল অর্থের জোর আর পরিচিতির সুপারিশে পেয়ে যান নেতৃত্বের মত গুরুদায়িত্ব। জেলার শীর্ষ পদ দখল করে রাখলেও তাদের চিনে না কেউই। অথচ একই সময়ে এনসিপির মূল কমিটি ও ছাত্রশক্তির কমিটিত থাকা নেতৃবৃন্দরা ঠিকই নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে যুবশক্তির কমিটি গঠনের পর তারা ৭ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেন। এদের মধ্যে রয়েছে, যুবকদের কর্মসংস্থান, চাকরির নিরাপত্তা ও সুবিধা উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও নেতৃত্বে অংশগ্রহণ, শারীরিক-মানসিক বিকাশ, সামাজিক পুনর্বাসন, ক্রীড়া সংস্কৃতি ও সৃজনশীল স্বাধীনতা, ব্যবসা উদ্যোগ ও বহুমুখী বাণিজ্য, এবং দক্ষ অভিবাসন ও রিভার্স ব্রেইন ড্রেইন।
এসময় তারা জানিয়েছিলেন, যুবশক্তি নারায়ণগঞ্জের যুবকদের দক্ষ করে তুলতে কাজ করবে। এখানকার ব্যবসা বাণিজ্য ও ইন্ডাস্ট্রিকে ঘিরে গড়ে ওঠা অর্থনীতিতে যুবশক্তি কাজ করবে। তথ্য প্রযুক্তি এবং এআই কেন্দ্রীক কোর্স চালু করবেন যুবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য। যেন তরুনদের দক্ষ করে তুলে তাদের সম্ভাবনাময় কাজের জন্য প্রস্তুত করা যায়।
কিন্তু এত এত স্বপ্ন দেখানো যুবশক্তি ৬ মাসে একটি কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করতে পারেনি। সাতদফা ইশতেহারের একটিও বাস্তবায়নে কোন অগ্রগামি ভুমিকা রাখেনি। যা প্রশ্ন তোলে তাদের কর্মকান্ড এবং সাংগঠনিক দক্ষতার প্রসঙ্গে। আদৌও তারা পরিবর্তনের রাজনীতির নেতৃত্ব দিতে সক্ষম কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। সেই সাথে যুবশক্তির অন্যান্য সংগঠনের মত গতানুগতিক পথে হাটছে বলে মনে করেন অনেকে।
এদিকে যুবশক্তির এমন বেহাল নেতৃত্বে ক্ষুব্ধ তৃণমূলের কর্মীরা। তারা বলছেন, আহবায়ক কমিটি গঠনের পর পদপদবী আর ব্যক্তিগত রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত নেতারা। উপজেলা ও থানা পর্যায়ে সংগঠনের বিস্তৃতি ঘটাতে পারেনি যুবশক্তি। সেই সাথে আহবায়ক কমিটিতে পূর্ন রূপ দিতেও ব্যর্থ। সব মিলিয়ে পুরো কমিটি ব্যর্থ ও অথর্ব নেতৃত্বের দ্বারা পরিচালিত সেটি প্রমাণিত। এমন অবস্থায় দ্রুত কমিটি ভেঙ্গে নতুন করে কমিটি সাজানোই হতে পারে দলটির জন্য উত্তম সিদ্ধান্ত।



































আপনার মতামত লিখুন :