News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট, ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

সংস্কার আন্দোলনে সক্রিয় আমানত, ৯ দিন পর লাশ শনাক্ত


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: আগস্ট ৫, ২০২৬, ১১:২০ পিএম সংস্কার আন্দোলনে সক্রিয় আমানত, ৯ দিন পর লাশ শনাক্ত

পরিবারকে না জানিয়ে চব্বিশের ৫ আগষ্ট বিকালে ঢাকার শাহবাগে সরকার পতনের বিজয় মিছিলে অংশ নিতে বের হয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল মামুন আমানত। এরপর থেকে টানা নয় দিন নিখোঁজ ছিলেন তিনি ও তার ব্যবহৃত মটর সাইকেল। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বেশ সক্রিয় ছিলেন মামুন।

৫ আগস্টে আমানতের শেষ পোস্টে তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে লিখেছিলেন, ‘পুরো বাংলাদেশ আজ মুক্তির দাবিতে একতাবদ্ধ। এক নদী রক্ত পেরিয়ে এই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে তারা। এখন তারা মৃত্যুর ভয় ভুলে গেছে। যেকোনো অন্যায়, জুলুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর চেয়ে গর্বের আর কী হতে পারে? দেশের মানুষের জন্য, দেশ জালিম স্বৈরাচারমুক্ত করার জন্য, দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন দিলে আল্লাহর কাছেই সরাসরি এর প্রতিদান পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।’ 

আমানতের গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান চব্বিশের ৫ আগস্ট বিকালে একটি সময়ে। তার ব্যবহৃত মোটরসাইকলটি উদ্ধার করা হয়নি, জানা গেছে সেটা জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। ১৪ আগষ্ট পর্যন্ত ঢামেকের মর্গে শেষ একটি লাশ ছিলো, সেই লাশটি ছিলো হতভাগা আমানতের। 

আমানতের স্ত্রী চিকিৎসক হাসিনা মমতাজ জানান, ৫ আগস্ট স্বামী মারা গেছে, ভাবিনি। তাকে বিভিন্ন থানায় খুঁজেছি পরে নারায়ণগঞ্জ থেকে শুরু করে শাহবাগ পর্যন্ত যত হাসপাতাল আছে, প্রায় সব হাসপাতালেই খোঁজ নিয়েছি। ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গেও গিয়েছি। আমার স্বামী তার এক খালার কাছে থেকে বড় হয়েছে। ১৪ আগষ্ট দুপুরের দিক ওই খালাসহ আবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে যাই। মুখের বিভিন্ন অংশ বিকৃত হয়ে গেছে। খালা লাশের হাত, পা এবং মুখের বিকৃত হয়নি, সে রকম একটু অংশ দেখে বুঝতে পারেন এটাই মামুনের লাশ। 

তিনি আরও বলেন, তাঁর স্বামীর মাথায় ভারী কিছু দিয়ে হয়তো আঘাত করা হয়েছিল। পেটে গুলিও লেগেছিল হয়তো। এক ব্যক্তির কাছ থেকে লাশের একটি ছবি এবং ছোট একটি ভিডিও ফুটেজ হাতে পেয়েছেন। সেখানে সড়কের ওপর মামুনের লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে কোন এলাকায়, তা ভিডিও দেখে বোঝার উপায় নেই। 

স্বামী সন্ধান পেতে প্রতারণা শিকার হয়েছিলেন আমানতের স্ত্রী চিকিৎসক হাসিনা মমতাজ। তিনি জানান, স্বামীর খোঁজ জানাবে বলে দুই প্রতারক তাঁদের কাছ থেকে দুই দফায় ৩৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রমাণ হিসেবে মামুনের মোবাইল থেকে ফোনও দিয়েছে এক প্রতারক। তিনি আহত হয়ে ফেনীতে আছেন বলে জানালে পরিবারের সদস্যরা তাঁর খোঁজে ফেনীতেও গিয়েছিলেন। তবে মুঠোফোনে টাকা পাঠানোর পর থেকে ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। 

প্রতারকদের একজন নিজেকে ফেনীর হাইওয়ে পুলিশ বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। পরে সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, পুলিশের পক্ষ থেকে কেউ ফোন দেয়নি। মামুন যে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন, সেটিও পাওয়া যায়নি।

মামুনের ছোটবেলার বন্ধু হাসান শাওন জানান, ‘সেদিন আসলে মামুন কেন মারা গিয়েছিল, তার লাশ কে মর্গে নিয়েছিল, এসব আমরা কিছুই জানি না এখনো। মাথায় আঘাত, না গুলি লেগেছিল, তাও নিশ্চিত নই। এখন তো লাশের দিকে তাকানোও যায়নি।