নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে শহরের সায়াম প্লাজা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হাসান ইমাম এর উপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে।
শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর রাতে সায়াম প্লাজার নিচ তলায় 'হাইমুন কসমেটিকস' নামে একটি প্রসাধনী পণ্য বিক্রির দোকানে এ ঘটনা ঘটে। মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর নেতৃত্বে বিএনপি এবং ছাত্রদলের পদ প্রত্যাশী প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী নিয়ে এ হামলা চালানো হয়।
শনিবার রাতেই হাসান ইমামকে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
হামলা ও মারধরের পর ইমাম হাসান অসুস্থ হয়ে পড়লে রাতেই তাকে ঢাকায় একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। হামলার শিকার হাসান ইমাম নারায়ণগঞ্জ জেলা দোকান মালিক সমিতির সহসভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সদস্য।
এ ঘটনার পর থেকে আতঙ্কিত রয়েছেন সায়াম প্লাজা মার্কেটের ব্যবসায়ী ও দোকানের কর্মচারীরা।
বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি সায়াম প্লাজা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও নিউ রুমা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর এর প্রোপ্রাইটর মো. আলমগীর।
তিনি জানান, ঘটনার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। হাসান সাহেব সুস্থ হয়ে দোকানে আসুক এরপর আমরা তার সাথে কথা বলে বিস্তারিত জেনে কথা বলবো।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মহানগর বিএনপির নেতা আবু আল ইউসুফ খান টিপুর নেতৃত্বে একদল যুবক দোকানটিতে ঢোকেন। তারা হাসান ইমামকে চর-থাপ্পর মারছেন বলেও ভিডিওতে দেখা যায়।
ঘটনার সময় দোকানেই ছিলেন হাসান ইমামের ছোটভাই মো. জুয়েল। তিনি জানান, হঠাৎ করে টিপুর নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক বিএনপির নেতাকর্মী দোকানটিতে আসেন। এসেই তুই আজমেরী ওসমানের রাজনীতি করস বলেই হাসান ভাইকে মারধর করতে শুরু করেন।
এ ব্যাপারে জানতে মারধরের শিকার আহত হাসান ইমাম এর ছেলে হাইমুন হাসান হিরার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনার পর আমার আব্বু অসুস্থ হয়ে পড়েন, পরে উনাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি একটু সুস্থ আছেন আপনারা আমার আব্বুর জন্য দোয়া করবেন।
কি কারণে এমন হামলার ঘটনা ঘটানো হলো এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পুরোপুরি মিথ্যা একটি অভিযোগ দিয়ে এই হামলাটি চালানো হয়েছে। আব্বুকে মারধর করা হয়েছে। আমার আব্বু সায়ামপ্লাজা মার্কেটের সভাপতি, সেই সাথে তিনি দোকান মালিক সমিতির সহ সভাপতি, নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সদস্য। বেশ কয়েকটি মসজিদ কমিটিতে তিনি গুরুত্বপূর্ন দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি একজন ব্যবসায়ী সেই সাথে সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। সবার সাথেই উনাকে মিশতে হয়। একজন ব্যবসায়ী হিসেবে উনাকে যেখানে ডাকা হয় সেখানে যেতে হয়। কিন্তু আমার আব্বু কখনো রাজনীতির সাথে জড়িত নয়। কোনোদিন কোনো মিছিল মিটিংয়ে তিনি যানটি কোনো ছবি বা ভিডিও ফুটেজ কেউ দেখাতে পারবে না।
বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতিকে আনুষ্ঠানিক ভাবে অবগত করা বা পরবর্তীতে কোনো আইনী পদক্ষেপ নিবেন কিনা এমন প্রশ্নের হিরা জানান, এখন পর্যন্ত আমরা চেম্বার সভাপতি দিপু আঙ্কেলকে জানানো হয়নি। আর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে আমরা এখন পর্যন্ত সেভাবে চিন্তা করিনি। আব্বু সুস্থ হলে সবাই বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবো।
এদিকে, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু গণমাধ্যমে দাবি করেন, হাসান ইমাম আজমেরী ওসমান ও শাহ নিজামের সহযোগী। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সে নানা অপকর্ম করে বেরিয়েছে। ৫ আগস্টের পর সে কিছুদিন চুপচাপ ছিলো। এখন সে নারায়ণগঞ্জের গুলশানের মত একটি বড় মিছিলের আয়োজন করতে চেয়েছিলো। সে গলাচিপা কলেজ রোড, চাষাঢ়া সহ বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও আজমেরী ওসমানের লোকজনদের সাথে যোগাযোগ করেছিলো। এমন খবর পেয়ে পোলাপান তাকে মারতে গেছে আমি তাদেরকে থামিয়েছি।
এদিকে হাসান ইমাম এর উপর হামলার ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে সায়াম প্লাজার ব্যবসায়ীরা। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।































-20260912144331.jpg)





আপনার মতামত লিখুন :