১ নং রেল গেট এলাকায় মার্কেট নির্মাণ, খানপুর কন্টেইনার পোর্ট নির্মাণের কাজ বন্ধের দাবি এবং ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের ভাড়া অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধির প্রতিবাদে ১৩ মে সকালে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক আন্দোলনের ও যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের পক্ষ থেকে এক প্রতিনিধিদল নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরকে পৃথক দুইটি স্মারকলিপি প্রদান করে।
উভয় সংগঠনের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন মাহাবুবর রহমান মাসুম, ভবানী শংকর রায়, জাহিদূল হক দীপু, অসিত বরণ বিশ্বাস, জিয়াউল ইসলাম কাজল, হাফিজুল ইসলাম, আবুনাইম খান বিপ্লব ও ধীমান সাহা জুয়েল।
চিঠিতে শহরের খানপুরে নির্মিতব্য কন্টেইনার পোর্ট দ্রুত বন্ধের দাবি জানিয়ে বলা হয়, বিগত সরকারের শাসনামলে উন্নয়নের নামে বহু প্রকল্প, মেগাপ্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে যা অপ্রয়োজনীয় এবং দেশ ও জনগণের জন্য ক্ষতিকারক। সুবিধাভোগীদের অর্থআত্মসাতের লক্ষ্যে এমনি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরে নির্মিতব্য কন্টেইনার পোর্ট এমনি একটি প্রকল্প। আমরা ইতিপূর্বে বহুবার এ বিষয়ে আমাদের আপত্তির কথা জানিয়েছি। পানগাও একটি কন্টেইনার পোর্ট রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে যা কার্যত অব্যবহৃত রয়েছে। এর ২০% ব্যবহার হয় না। ইতিমধ্যে নগরপরিকল্পনাবিদ ও সড়কপরিকল্পনাবিদগণ জানিয়েছেন এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শহর অচল হয়ে পড়বে। শহরের চাষাঢ়ায় যানজটের চাপ বাড়বে। নারায়ণগঞ্জকে বাঁচানোর জন্য এ প্রকল্পটি এখনি বন্ধ করার জন্য আমরা আপনার দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
চিঠিতে ১নং রেল গেটের কাছে রেলওয়ের জায়গা দখল করে বাণিজ্যিক ভাবে মার্কেট নির্মাণের কাজ বন্ধের দাবি জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, “রেলওয়ের একটি অসাধুচক্র স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় ভূমি আত্মসাতের লক্ষ্যে তৎপর রয়েছে। ২০১২ সালে এ চক্রটি
তৎকালীন সংসদ সদস্য ও ক্ষমতাসিন রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় এই মার্কেটটি নির্মাণের কাজ শুরু করেছিল। সে সময় নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠন সমূহের আন্দোলন ও বিরোধিতার পরিপ্রেক্ষিতে তা বন্ধ হলেও পরে গত ২০২২ সালে আবার সেই চক্র তৎপর হয়ে উঠলে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মার্কেট নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে উচ্চ-আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করে। উচ্চ-আদালতের নির্দেশে মার্কেটের নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞাটি এখনো বলবৎ থাকার পরেও স্বার্থান্বেষী মহলটি এখনো নির্মাণ কাজ অব্যহত রেখেছে। এ বিষয়ে আমরা আপনার যথাযথ ভূমিকা আশা করছি।”
যাত্রী আধকার সংরক্ষণ ফোরামের অপর এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “সম্প্রতি বিশ্ব বাজারে জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সরকার গত ২৩ এপ্রিল দেশে গণ পরিবহনের ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করেছে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিএসএ) নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ এবং ঢাকা জেলার আওতাধিন জেলার পুনঃনির্ধারিত ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ১১ পয়সা বৃদ্ধি করেছে, যা মূল ভাড়ার ৫.১৯ শতাংশ। কিন্তু আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করলাম যে গত ২ মে থেকে ঢাকা নারায়ণগঞ্জে বাসের ভাড়া ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৫ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত বর্ধিত ভাড়া হয় ১৮ কিলো মিটারে ১ টাকা ৯৮ পয়সা। কিন্তু ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের পরিবহন কর্তৃপক্ষ ৫ টাকা ভাড়া বৃদ্ধি করেছেন, যা অযৌক্তিক এবং নিয়ম বহির্ভূত।
এখানে উল্লেখ্য যে, বিভিন্ন সময় গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি বা নির্ধারণের ক্ষেত্রে যাত্রী সাধারণের প্রতিনিধিদের সাথে জেলা আরটিসির প্রধান হিসেবে নারায়ণগঞ্জে জেলা প্রশাসক আলোচনা করেছেন। কিন্তু এ বার তা করা হয় নাই। আমরা একতরফা ভাড়া বৃদ্ধির এ প্রক্রিয়ার নিন্দা জানাই। আমরা এ বিষয়ে আপনার যথাযথ হস্তক্ষেপ কামনা করছি। পাশাপাশি জানাতে চাই জ্বালানী তেলের এই মূল্য বৃদ্ধি বিশ্ব বাজারে মূল্য বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা। বিশ্ববাজারে ও দেশে জ্বালানী তেলের মূল্য কমে আসলে ঢাক-নারায়ণগঞ্জের গণপরিবহনে ভাড়া কমিয়ে আনতে আপনি যথাযথ কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা।”








































আপনার মতামত লিখুন :