News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

চাঁদমারী-চাষাঢ়ার সংকট কাটছে


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ১০:৫২ পিএম চাঁদমারী-চাষাঢ়ার সংকট কাটছে

দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, ভোগান্তি আর অনিশ্চয়তার পর অবশেষে আশার আলো দেখছেন নারায়ণগঞ্জের মানুষ। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ অনেক আগেই শেষ হলেও চাঁদমারী থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত একটি অংশ জমি-সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে থাকায় পুরো প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত ছিলেন নগরবাসী। তবে সেই জটিলতা এখন অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা গেছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং চলতি বছরের মধ্যেই বাকি কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে এগোনো হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে লিংক রোডের সাইনবোর্ড থেকে চাঁদমারী পর্যন্ত ছয় লেনের প্রশস্ত সড়কে দ্রুতগতিতে যানবাহন চললেও চাঁদমারী থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত সংকীর্ণ অংশে এসে যানবাহনকে ধীরগতিতে চলতে হতো। ফলে কয়েক মিনিটের পথ পাড়ি দিতেই দীর্ঘ সময় লেগে যেত। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারীরা প্রতিদিনই এই অংশে তীব্র যানজটের শিকার হতেন। এতে ছয় লেনের আধুনিক সড়ক নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য অনেকটাই ব্যাহত হচ্ছিল।

জেলা প্রশাসক রায়হান কবির জানিয়েছেন, লিংক রোডের বাকি অংশের কাজ বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল জমি-সংক্রান্ত জটিলতা। ইতোমধ্যে সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে। গত বছর চাঁদমারী এলাকার একটি মসজিদ স্থানান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর মালিকানাধীন কিছু জমি নিয়ে যে জটিলতা ছিল, তাও অনেকটাই দূর হয়েছে। সড়ক প্রশস্তকরণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় জমির একটি অংশ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে সেনাবাহিনী ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এতে প্রকল্পের বাকি কাজ শেষ করার পথ আরও সহজ হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আশা করছেন, চলতি বছরের মধ্যেই চাঁদমারী থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত অসমাপ্ত অংশের নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হবে। কাজ শেষ হলে সাইনবোর্ড থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত পুরো সড়কই ছয় লেনে পরিণত হবে এবং দীর্ঘদিনের যানজটের অন্যতম কারণ দূর হবে বলে মনে করছেন তারা।

শুধু সড়ক প্রশস্তকরণই নয়, লিংক রোডকে আরও নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে নেওয়া হচ্ছে নতুন উদ্যোগ। পুরো সড়কে পর্যায়ক্রমে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পরবর্তীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিসম্পন্ন ক্যামেরাও বসানো হবে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত, দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড ছয় লেনে উন্নীত করতে প্রায় ৪৪৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় সড়কের প্রস্থ ১২৯ ফুটে উন্নীত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সাইনবোর্ড ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে দুটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া শিবু মার্কেট, জালকুড়ি ও ভুঁইগড়ে তিনটি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে, যা যান চলাচলকে আরও নির্বিঘœ করার লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে।

জানা যায়, যানজট নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে ২০১৯ সালে প্রকল্পটির অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বিভিন্ন জটিলতায় সময় বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু জমি-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে চাঁদমারী-চাষাঢ়া অংশের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে এই অংশে অসমাপ্ত কাজের কারণে প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হয়েছেন হাজারো মানুষ। সাইনবোর্ড থেকে চাঁদমারী পর্যন্ত অল্প সময়েই পৌঁছানো গেলেও শেষ অংশের সংকীর্ণ সড়কে সৃষ্টি হওয়া যানজট পুরো যাত্রাকে ধীর করে দিত। এতে সময় ও জ্বালানি দুইয়েরই অপচয় হতো।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অবশিষ্ট অংশের কাজ সম্পন্ন হলে শুধু যানজটই কমবে না, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যে যোগাযোগ আরও দ্রুত, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এই করিডোরে পণ্য পরিবহনও সহজ হবে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে স্থানীয় অর্থনীতি ও নগরজীবনে। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে তাই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডকে ঘিরে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন নগরবাসী।