নারায়ণগঞ্জের স্বনামধন্য ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চেইঞ্জেস স্কুল-এ অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য বার্ষিক ফল উৎসব।
বৃহস্পতিবার আয়োজিত এ উৎসব দেশীয় সংস্কৃতি, স্বাস্থ্যকর জীবনধারা এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশের এক অনন্য আয়োজনে পরিণত হয়। দিনব্যাপী এ উৎসবে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে।
উৎসব উপলক্ষে প্রতিটি শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তাদের অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতায় দেশীয় ও মৌসুমি নানা ধরনের ফল সংগ্রহ করে অত্যন্ত নান্দনিক ও সৃজনশীলভাবে উপস্থাপন করে। রঙ, বৈচিত্র্য ও শিল্পসম্মত পরিবেশনার মাধ্যমে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ যেন একেকটি মনোমুগ্ধকর ফলের প্রদর্শনীতে রূপ নেয়। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ফলের পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা এবং আমাদের কৃষি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে এর সম্পর্কও সুন্দরভাবে তুলে ধরে, যা উপস্থিত সকলের প্রশংসা অর্জন করে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই চেইঞ্জেস স্কুল শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের গণ্ডির বাইরে বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা, দেশীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং সুস্থ জীবনধারার চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে প্রতিবছর ফল উৎসবের আয়োজন করে আসছে। এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি, পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা এবং প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উৎসব চলাকালে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শন করেন বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ নাসিমা বেগম। তিনি বলেন, চেইঞ্জেস স্কুল বিশ্বাস করে, একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত শিক্ষা কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দেশীয় সংস্কৃতি, নৈতিক মূল্যবোধ, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং বাস্তবজীবনের অভিজ্ঞতার সমন্বয়েই পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা নিশ্চিত হয়। তাই আমরা জাতীয় ও সাংস্কৃতিক দিবসগুলোর পাশাপাশি এমন ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষামূলক আয়োজন নিয়মিতভাবে করে থাকি। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম এবং আমাদের ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে আমরা সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অনুষ্ঠানে গঠিত বিচারকমন্ডলী অধ্যক্ষ নাসিমা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক ও একাডেমিক কমিটির সদস্য মুহাম্মদ হোসাইন ও মুহাম্মদ শাহরিয়ার লিঙ্কন প্রতিটি শ্রেণির ফল প্রদর্শনী, উপস্থাপনার নান্দনিকতা, সৃজনশীলতা, পরিচ্ছন্নতা এবং তথ্যসমৃদ্ধ পরিবেশনা মূল্যায়ন করেন। বিচারকদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিভিন্ন গ্রুপে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান নির্বাচিত করা হয়।
উৎসবে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও বিপুলসংখ্যক অভিভাবকের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। আনন্দ, উৎসাহ এবং আন্তরিক অংশগ্রহণে ভরপুর এই ফল উৎসব শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজনই নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সুস্থ জীবনধারা, দেশীয় ঐতিহ্য এবং সামাজিক সম্প্রীতির শিক্ষা অর্জনের একটি অনন্য উপলক্ষ হিসেবে সবার কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।








































আপনার মতামত লিখুন :